রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কটিয়াদীতে নেশার টাকা জোগাতে ৫ শিশু তুলে দেওয়ার অভিযোগ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে নেশার টাকা জোগাতে ৫ শিশু তুলে দেওয়ার অভিযোগ

মাদকের ভয়াল ছোবল ও দারিদ্র্যের চাপে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চার পরিবারের পাঁচ শিশু সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নেশার টাকা জোগাড় করতে এসব শিশুকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কটিয়াদী উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাঁদের দাবি, গ্রামের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী-পুরুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজেদের ঔরসজাত সন্তানদেরও টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছেন। সন্তানদের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ মাদক কেনা ও সেবনে ব্যয় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে পৃথক সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুলাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ফারজানার নবজাতক সন্তানকে গত ২ সেপ্টেম্বর ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

জজ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই শিশুকে যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকায় এবং আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেনের একটি সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়ার একটি সন্তানকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, এসব শিশুর মধ্যে যাদের প্রথমে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে আরও বেশি টাকার বিনিময়ে অন্যত্র তুলে দিয়েছেন। ফলে শিশুদের বর্তমান অবস্থান, পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চরপুক্ষিয়া গ্রামের জয়নাল মিয়া, বকুল মিয়া, বাবুল মিয়া, জামাল মিয়া, কালাচান, সখিনা, কালুমিয়া, নুরুন্নাহার ও গ্রাম পুলিশ দুলাল মিয়াসহ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মাদকের বিস্তার রোধে স্থায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তাঁদের দাবি, মাদকাসক্তদের একটি অংশ নেশার টাকা জোগাড় করতে পরিবারের শিশু সন্তানদের পর্যন্ত অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস তাঁদের নেই। প্রতিবাদ করলে হামলা, হয়রানি কিংবা নানা ধরনের চাপের আশঙ্কা থাকে। তাঁদের নিজেদেরও ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তাই সবকিছু দেখেও অনেক সময় নীরব থাকতে হয়।

তাঁদের অভিযোগ, শুধু বড়রাই নন, শিশুদেরও মাদকের সংস্পর্শে আনা হচ্ছে। প্রায় পাঁচ-ছয় বছর বয়সী একটি শিশুকে মাদক সেবন করানোর অভিযোগও করেছেন তাঁরা। কোনো কোনো পরিবারে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানরা একসঙ্গে মাদক সেবন করে বলেও দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করে বলে, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের পরিচয় দিতে গেলেই অনেকের কাছ থেকে কটূক্তি শুনতে হয়। গ্রামের বদনামের কারণে সামাজিকভাবে নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ওই শিক্ষার্থী জানায়, তারা মাদকমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়।

এলাকাবাসী দ্রুত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ এবং শিশুদের অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে যেসব পরিবারের বিরুদ্ধে শিশু সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাদের সদস্যরা সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি শিশু সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে দারিদ্র্য ও মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য ঔরসজাত সন্তানদের টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদক নির্মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং জুনিয়র বৃত্তি-২০২৬ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, মাসুদা ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনকারীদের পাশাপাশি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত অধ্যবসায় ও চেষ্টা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।

কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্র থেকে জনসাধারণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে পারবেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নিলুফা আক্তার রূপা এবং জেলার ১৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি কেন্দ্রটির মাধ্যমে নাগরিকদের কী ধরনের ভূমিসেবা দেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলার নাগরিকদের ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসন।

তিনি জানান, নাগরিকরা সরাসরি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, নামজারি ও জমাখারিজ, খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি এবং মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রাপ্তির আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে ভূমিসেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে।

কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার দুপুরে শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে একই দাবিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।