বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তীব্র শব্দদূষণে অতিষ্ঠ তাড়াইলবাসী, প্রশাসনের পদক্ষেপ জরুরি

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তীব্র শব্দদূষণে অতিষ্ঠ তাড়াইলবাসী, প্রশাসনের পদক্ষেপ জরুরি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই তীব্র শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অটোরিকশা ও সিএনজি চালিত যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় হর্নের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনের সামনে-পেছনে মাইক বেঁধে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের প্রচার-প্রচারণা এবং বৈদ্যুতিক মালামালসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রিতে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহারের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হর্ন ও মাইকের উচ্চ শব্দে রাস্তায় চলাচলের সময় অনেককেই কানে হাত দিয়ে শব্দ ঠেকাতে হচ্ছে। এমনকি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কেউ কথা বললেও কিংবা কোনো দোকানে পণ্যের মূল্য জানতে চাইলেও উচ্চ শব্দের কারণে একাধিকবার কথা বলতে হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও থানা এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হলেও তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেই উচ্চমাত্রার শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, শব্দদূষণের বিষয়টিতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি বা পদক্ষেপ তেমন দেখা যাচ্ছে না।

চালকদের অকারণে হর্ন বাজানোর কারণে শব্দদূষণে আক্রান্ত হচ্ছেন তাড়াইল উপজেলার ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাস্তার পাশে থাকা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও চিকিৎসক, মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি, পথচারী এবং আশপাশের বাসাবাড়িতে বসবাসকারী মানুষ।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডের আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা ছোট-বড় ওয়ার্কশপ ও কারখানার মেশিনের বিকট শব্দেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। দিন-রাত সমানতালে এসব শব্দ চলতে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। পাশাপাশি শিশু ও বৃদ্ধদের ঘুমাতেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শব্দদূষণসংক্রান্ত আইন না মানার প্রবণতার কারণে দুর্ঘটনাও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বাসস্ট্যান্ড এবং তিন দিকে বাঁক নেওয়া সড়কের বিভিন্ন মোড়ে কেউ ওভারটেক করার জন্য হর্ন বাজাচ্ছেন, আবার কেউ বাঁক নেওয়ার সময় হর্ন ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ স্বল্প সময়ের জন্য রাস্তা ফাঁকা পেয়ে গাড়ির গতি বাড়িয়ে অহেতুক হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর প্রতিযোগিতায়ও মেতে উঠছেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই বললেই চলে।

স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাড়াইলে বর্তমানে শব্দের সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ করা না থাকলেও তা ৪০ ডেসিবেলের বেশি থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়েও বেশি শব্দ হচ্ছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী দুই বছরে এখানকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শব্দদূষণে আক্রান্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। এতে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মাথাব্যথা, অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও তাঁরা জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞ মানসিক চিকিৎসকদের মতে, তাড়াইল সদর বাজারে অসহনীয় যানজট থাকলেও তা প্রতিকার বা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অনিয়ন্ত্রিত শব্দদূষণের কারণে তাড়াইল উপজেলায় অনেকেই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান।

তাঁদের মতে, ক্রমাগত শব্দদূষণের কারণে মানবজীবনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়লেও এর প্রতিকারে কার্যকর উদ্যোগের আশা করতে পারছেন না তাড়াইলের সাধারণ মানুষ। শব্দদূষণের বিরুদ্ধে আইন রয়েছে—এ বিষয়টিই অনেক চালক ও সাধারণ মানুষ জা

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।