শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেলের পথসভা ও বিএনপির ৩১ দফার প্রচারণা

শাহীন আলম প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেলের পথসভা ও  বিএনপির ৩১ দফার প্রচারণা

কিশোরগঞ্জ সদরের মহিনন্দ ইউনিয়নের জালালপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় গত ২২ নভেম্বর শনিবার বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার প্রচারণা চালানো হয়েছে। সদর উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জনসাধারণের মাঝে উল্লেখিত দফাগুলোসহ হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হয়। প্রচারের সময় নেতৃবৃন্দের স্লোগানে শোনা যায়—“ভোট দিবো কিসে? ধানের শীষে।” নেতাদের মতে, ৩১ দফার প্রচার মানেই ধানের শীষের প্রচারণা। তারা কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর অঞ্চলের সবার প্রিয়, আস্থাভাজন, জনগণের বন্ধু, বারবার কারা নির্যাতিত ও সংগ্রামী নেতা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের মনোনয়ন প্রত্যাশার পক্ষে স্লোগান দেন। স্লোগানে উচ্চারিত হয়—“দুর্দিনের, দুঃসময়ের, দলের কাণ্ডারি, রাজপথের ভিপি সোহেল ভাইয়ের মনোনয়ন চাই।” আরও ছিল—“ধানের শীষ যার হাতে, আমরা সবাই তার সাথে।” নেতাকর্মীরা জানান, কিশোরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের একটাই প্রত্যাশা—ধানের শীষ যেন যোগ্য নেতার যোগ্য হাতে থাকে এবং সেই হাত হচ্ছে ভিপি সোহেলের হাত—ইনশাআল্লাহ।

এদিকে ২৩ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যা ৬টায় বিন্নাটি ইউনিয়নের কালোটিয়া বাজারে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের উপস্থিতিতে ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় সভাপতির বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জল, বিন্নাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা, উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান লিটন, বিন্নাটি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ ফারুক (মেম্বার), উপজেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপি নেতা আবু হানিফ এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান। পথসভায় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কটিয়াদীতে এনসিপির প্রচার কর্মসূচি

মিজানুর রহমান প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কটিয়াদীতে এনসিপির প্রচার কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের গণভোটকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে ব্যাপক প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা বাজার এলাকায় এ প্রচারণা কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক আবু সাঈদ (উজ্জ্বল)। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং গণভোটের গুরুত্ব ও দেশের উন্নয়নে ভোটাধিকার প্রয়োগের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রচারণাকালে আবু সাঈদ উজ্জ্বল বলেন, “দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক—এই মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সচেতনভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সব ধরনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সবাইকে নির্ভয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রচারণা চলাকালে লিফলেট বিতরণ এবং সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান আরও জোরদার হয়।

বাজিতপুরে মার্কিন সিনেটর বড় ভাই দেশে এসে ভোট চাইলেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে মার্কিন সিনেটর বড় ভাই দেশে এসে ভোট চাইলেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীকের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাক বাংলার মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে, যা একপর্যায়ে মহাসমাবেশে রূপ নেয়।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং তিনবারের মার্কিন সিনেটর শেখ মুজাহিদ রহমান চন্দন। তিনি বলেন, “আমি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হতে পারি, তাহলে আমার ভাই কেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হতে পারবে না? গত ৪৬ বছর ধরে আমি বিদেশে অবস্থান করছি। এই সময়ে বাংলাদেশ অনেক উন্নয়ন করলেও বাজিতপুর ও নিকলী এখনো পিছিয়ে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁস মার্কায় ভোট দিয়ে আমার ভাইকে জয়যুক্ত করুন।”

তিনি আরও বলেন, বাজিতপুর–নিকলীর মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে দাঁড়ায়, তবে এ জনপদে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন সম্ভব।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “আমি আপনাদের কাছে একটি মাত্র ভোট ভিক্ষা চাই। আমাকে একটি ভোট দিন—আমি আপনাদের পাঁচ বছর নিরাপত্তা দেব। ইনশাল্লাহ, আপনারা দরজা খোলা রেখেই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি বাজিতপুর–নিকলীর মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকব। দল-মত নির্বিশেষে—হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে চাই।”

দলীয় বহিষ্কার প্রসঙ্গে ইকবাল বলেন, “আমার দলের যেসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের মাধ্যমে এই অন্যায়ের জবাব দেওয়া হবে। এই বিজয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।”

জনসভায় বাজিতপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয় এবং ডাক বাংলার মাঠে সৃষ্টি হয় এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক জনসমাবেশ।

স্কুলশিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’-এর স্লোগান: ২ শিক্ষকসহ বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দীনের শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
স্কুলশিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’-এর স্লোগান: ২ শিক্ষকসহ বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দীনের শোকজ

স্কুলশিক্ষার্থীদের দিয়ে নির্বাচনী স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জালাল উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কমিটির চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ খাদিজা আক্তারের স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে এ শোকজ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দীনের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানো হয়। স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল—‘জালাল ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক’, ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’ এবং ‘ভোট দেবো কিসে, ধানের শীষে’।

এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রূপন দাস নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর ১৫(খ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষককেও কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, কেন এ ঘটনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না এবং কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বাজিতপুর চৌকি আদালতে নিকলী সিভিল জজ আদালতের কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ খাদিজা আক্তার শোকজ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।