শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

করিমগঞ্জে আদালতের উচ্ছেদ অভিযানে আগুন—পুড়ল চারটি দোকান

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ২:২০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জে আদালতের উচ্ছেদ অভিযানে আগুন—পুড়ল চারটি দোকান

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে বিবাদী পক্ষ দোকানপাটে আগুন লাগিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের বালিয়াবাড়ি বাজারে এই ঘটনা ঘটে। আগুনে চারটি দোকানের মালপত্র পুড়ে যায়।

উচ্ছেদ অভিযানে করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন কবির, আদালতের কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের লোকজনের নেতৃত্বে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হচ্ছে। একটি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর টিন ও আসবাব সরানো হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, জয়কা ইউনিয়নের কুকিমাদল গ্রামের নজরুল ইসলাম ও মো. মোকারমের মধ্যে বাজারের ২৯ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রাস্তার পাশে থাকা ওই জমিতে কয়েকটি দোকান গড়ে ওঠে, যা এতদিন নজরুল ইসলামের দখলে ছিল। একাধিক সালিস-বৈঠকেও সমাধান না হওয়ায় মোকারম আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত সম্প্রতি মোকারমের পক্ষে রায় দেন এবং জমি থেকে দোকানপাট উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে সোমবার আদালতের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিবাদী নজরুল ইসলামের ভাই সুলতান নিজের দোকানে ঢুকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার খুলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তিনি নিজেও দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। মুহূর্তেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনে নজরুল ও মোকারমের মালিকানাধীনসহ মোট চারটি দোকান পুড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় তাদের ৬০–৭০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

মোকারম বলেন,
“নজরুলরা আমার জমি দখল করে সেখানে দোকান তুলে ভাড়া দিত। আমি বাধ্য হয়ে তার কাছ থেকেই একটি দোকান ভাড়া নিয়েছিলাম। মামলার রায়ে আমি জমির মালিকানা পাই। উচ্ছেদের সময় বিবাদী পক্ষ দোকানপাটে আগুন লাগায়। আমার দোকানটিও পুড়ে গেছে।”

অগ্নিকাণ্ডের পর নজরুল ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন কবির বলেন,
“আদালতের আদেশ অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছিল। এ সময় বিবাদী পক্ষের একজন দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাদী পক্ষকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

করিমগঞ্জ থানার ওসি সাদেক আল মামুন বলেন,
“প্রাথমিক তদন্তে বিবাদী পক্ষের আগুন লাগানোর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত চালু হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় নদীর ওপর স্থাপিত দুটি ফেরি।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার সূতারপাড়া ইউনিয়নের ধনু নদীতে বালিখলা ফেরি এবং মিঠামইন উপজেলা সদরসংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীতে শান্তিপুর ফেরির চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ফেরি চলাচল উদ্বোধনের সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং ইজারাদারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, ফেরিগুলো মূলত শুকনো মৌসুমে চলাচল করে। প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস হাওরের সাবমার্জিবল সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পানি নেমে সড়ক ভেসে উঠতেই ফেরি আবার চলতে শুরু করে।

এই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় করিমগঞ্জের বালিখলা হয়ে হাওরের তিন উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের উদ্যোগে তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পাইকপাড়া হোসাইনিয়া বাবুলউলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে দুই শতাধিক নারী–পুরুষ মেডিসিন, হৃদরোগ, চর্মরোগ, গাইনি ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের কারণে এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়েছে। যারা সময়মতো ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তারা আজ সুবিধা পেয়েছেন।’
চিকিৎসা নিতে আসা শাহানারা বেগম বলেন, ‘হৃদরোগের পরীক্ষা করতে আগে দূরে যেতে হতো। আজ ক্যাম্পে এসে চেকআপ করিয়ে স্বস্তি পেয়েছি।’

হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন চর্মরোগে ভুগছিলেন। ক্যাম্পে এসে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সময় নিয়ে পরামর্শ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।
রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। গাইনি সমস্যায় চিকিৎসা পেতে কষ্ট হত। আজ একদম বিনা খরচে সেবা পেয়েছি।’

ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন সুমন, তাড়াইল উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, দিগদাইড় ইউনিয়ন সভাপতি শরিফুল, ধলা ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাড়াইল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম।

‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

কিশোরগঞ্জ–১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী বলেছেন, “দেশজুড়ে দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ এবং হোসেনপুরও এর বাইরে নয়। এমপি থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার দেখা যায়। এই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জনশক্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাদী এ মন্তব্য করেন।

সভায় জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মোকাররম হুসাইনের সভাপতিত্ব এবং সহসভাপতি মুহাম্মদ মুযাক্কির হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।