মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন সাবেক এমপি আনিসুজ্জামান খোকন

মিজানুর রহমান প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন সাবেক এমপি আনিসুজ্জামান খোকন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুজ্জামান খোকন। তার মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

আনিসুজ্জামান খোকন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ–১৯ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় ময়মনসিংহ–১৯ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল বর্তমান কটিয়াদী উপজেলা। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবার তিনি ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ–২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার সঙ্গে এলাকার নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আনিসুজ্জামান খোকন বলেন,
“আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমি নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করব।”

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, একজন সাবেক সংসদ সদস্যের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিশোরগঞ্জ–২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে এবং যাচাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

কিশোরগঞ্জে হিন্দু যুব মহাজোটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে হিন্দু যুব মহাজোটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

‘সবুজ গড়ি, পরিবেশ বাঁচাই, সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে শহরের নরোত্তম প্রেমধাম মন্দির থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে শহরের বিভিন্ন মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহিদাস আচার্য, রাজন মজুমদার ও সজল কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সূত্রধর, প্রচার সম্পাদক সৌরভ দেবনাথ, অগ্রদীপ সাহাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বক্তারা সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও সড়কের পাশে চারা বিতরণ করা হয়। সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের রোপণ করা গাছের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট দেশব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে নারীসহ দুজনের কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে নারীসহ দুজনের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আমলাপাড়া এলাকার ছোলাইমান মিয়ার স্ত্রী শম্পা (২৮) এবং একই এলাকার জাহিদ হোসেন ওরফে ভোলা মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩১)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শম্পার কাছ থেকে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময় মাদক সেবনের উপকরণসহ রুবেল মিয়াকে আটক করা হয়।

পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক শম্পাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করায় রুবেল মিয়াকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শম্পা ও রুবেলকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের উপকরণসহ আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শম্পাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং রুবেল মিয়াকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভৈরবে ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, মা মাছ ও রেণু পোনা নিধন বন্ধ এবং মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র জলমহালে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র জলমহালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মা মাছ ও রেণু পোনা সংরক্ষণে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি বা রিং জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ব্রহ্মপুত্র জলমহালে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে জেলেরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে জাল ফেলে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে জলমহাল থেকে ২শ পিস চায়না দুয়ারি রিং জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

অভিযান শেষে জব্দ করা নিষিদ্ধ জালগুলো মেঘনা নদীর তীরবর্তী ত্রি-সেতু এলাকায় নিয়ে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেনসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদের ইজারাদার আব্দুর রাজ্জাক শেখ এবং ভৈরব নৌ-থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক বলেন, মাছের প্রজনন বৃদ্ধি, রেণু পোনা সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সোমবার মৎস্য কর্মকর্তার বিশেষ তদারকিতে পরিচালিত অভিযানের সময় অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা জাল ফেলে পালিয়ে যান। পরে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ২শ পিস চায়না দুয়ারি রিং জাল জব্দ করা হয়। জালগুলো মেঘনা নদীর ত্রি-সেতু এলাকায় আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু নদী ও জলমহালে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ জালের উৎপাদনস্থল, মজুতের জায়গা ও বাজারে বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এর ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নদীতে জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভৈরব বাজারে যারা নিষিদ্ধ জাল বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিক্রেতারা এসব জাল সরবরাহ করছেন বলেই জেলেরা তা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন।