ভৈরবে একটি বগির ত্রুটিতে থমকে গেল তিন রুটের ট্রেন চলাচল
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনের কাছে চট্টগ্রামগামী ঢাকা মেইল-২ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা–সিলেট–চট্টগ্রাম রুটে সাড়ে ৮ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ভৈরবসহ আশপাশের স্টেশনগুলোতে কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ভৈরব বাজার জংশন ছাড়ার প্রায় ১৫০ মিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেইল-২ ট্রেনটি রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ভৈরব বাজার জংশনে পৌঁছে কেবিন মাস্টারের কাছ থেকে সংকেত পেয়ে অগ্রসর হয়। জংশন অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর ইঞ্জিনের পর চতুর্থ কোচটি লাইনচ্যুত হয়। এতে স্টেশনের আপ ও ডাউন উভয় লাইন বন্ধ হয়ে পড়ে এবং ওই পথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে আখাউড়া রেলস্টেশন থেকে একটি উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। রেলওয়ের প্রকৌশলী ও কর্মীরা লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে রেললাইন সচল করার কাজ চালান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল ও তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে। অনেক যাত্রী স্টেশনে বসেই রাত কাটাতে বাধ্য হন।
ভৈরব রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, দুর্ঘটনার কারণে আপ ও ডাউন উভয় লাইন বন্ধ হয়ে পড়েছিল। উদ্ধারকাজ শেষে বগি অপসারণ ও লাইন মেরামত সম্পন্ন হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










