প্রকৃতিগত সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চর গ্রাম। চারদিকে সবুজের সমারোহ, নদীঘেরা এই জনপদ যেন প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এক শান্ত গ্রাম। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম ভোগান্তির বাস্তবতা—গ্রামটির রাস্তা-ঘাটের করুণ অবস্থা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামটির একমাত্র বেরিবাঁধ, যা পুরো সাহেবের চর গ্রামকে বন্যার হাত থেকে আগলে রাখে, সেটিই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এই বেরিবাঁধ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

এ ছাড়া সাহেবের চর গ্রাম থেকে আশপাশের গ্রাম ও বাজারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কগুলোর অবস্থাও নাজুক। ভাটিপাড়া আতিবের বাড়ি থেকে চায়না মোড় পর্যন্ত সড়ক, নয়াপাড়া সৈয়দ মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে পিতলগঞ্জ বাজারগামী রাস্তা, ইসহাক চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে নতুন সড়ক, হাজীবাড়ী কালামের বাড়ি থেকে চরকাটিহারী কাজলের বাড়ি পর্যন্ত প্রধান সংযোগ সড়ক—সবকটিই বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।

গ্রামের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও একইভাবে ভেঙে পড়েছে। একই গ্রামের বাসিন্দা ও সিদলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক পায়েল আহমেদ বলেন, “আমাদের গ্রামের প্রতিটি রাস্তাই এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে নয়াপাড়া থেকে সুলু শাহ (রহ.) মাজার পর্যন্ত রাস্তা বর্তমানে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অথচ এই রাস্তাটি গ্রামের একপ্রান্তের মানুষের জন্য অন্যপ্রান্তে যাতায়াতের সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। চার-পাঁচ মাস আগে আবেদন করেও এখনো কোনো সুরাহা মেলেনি।”

স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম জানান, খারাপ রাস্তার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী পরিবার এবং কৃষিপণ্য পরিবহনকারীরা। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে; রাস্তাগুলো তখন কাদামাটির ফাঁদে পরিণত হয়।

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ বলেন, দ্রুত এসব সড়ক সংস্কার করা না হলে গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও ব্যাহত হবে। তাই প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা সাহেবের চর গ্রামকে টিকিয়ে রাখতে হলে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান কাঞ্চন বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছি। যেসব রাস্তার কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলোর জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সব রাস্তার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হবে। সাহেবের চর গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে আমি সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *