মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা সাহেবের চর, অবহেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা সাহেবের চর, অবহেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা

প্রকৃতিগত সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চর গ্রাম। চারদিকে সবুজের সমারোহ, নদীঘেরা এই জনপদ যেন প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এক শান্ত গ্রাম। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম ভোগান্তির বাস্তবতা—গ্রামটির রাস্তা-ঘাটের করুণ অবস্থা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামটির একমাত্র বেরিবাঁধ, যা পুরো সাহেবের চর গ্রামকে বন্যার হাত থেকে আগলে রাখে, সেটিই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এই বেরিবাঁধ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

এ ছাড়া সাহেবের চর গ্রাম থেকে আশপাশের গ্রাম ও বাজারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কগুলোর অবস্থাও নাজুক। ভাটিপাড়া আতিবের বাড়ি থেকে চায়না মোড় পর্যন্ত সড়ক, নয়াপাড়া সৈয়দ মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে পিতলগঞ্জ বাজারগামী রাস্তা, ইসহাক চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে নতুন সড়ক, হাজীবাড়ী কালামের বাড়ি থেকে চরকাটিহারী কাজলের বাড়ি পর্যন্ত প্রধান সংযোগ সড়ক—সবকটিই বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।

গ্রামের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও একইভাবে ভেঙে পড়েছে। একই গ্রামের বাসিন্দা ও সিদলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক পায়েল আহমেদ বলেন, “আমাদের গ্রামের প্রতিটি রাস্তাই এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে নয়াপাড়া থেকে সুলু শাহ (রহ.) মাজার পর্যন্ত রাস্তা বর্তমানে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অথচ এই রাস্তাটি গ্রামের একপ্রান্তের মানুষের জন্য অন্যপ্রান্তে যাতায়াতের সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। চার-পাঁচ মাস আগে আবেদন করেও এখনো কোনো সুরাহা মেলেনি।”

স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম জানান, খারাপ রাস্তার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী পরিবার এবং কৃষিপণ্য পরিবহনকারীরা। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে; রাস্তাগুলো তখন কাদামাটির ফাঁদে পরিণত হয়।

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ বলেন, দ্রুত এসব সড়ক সংস্কার করা না হলে গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও ব্যাহত হবে। তাই প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা সাহেবের চর গ্রামকে টিকিয়ে রাখতে হলে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান কাঞ্চন বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছি। যেসব রাস্তার কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলোর জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সব রাস্তার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হবে। সাহেবের চর গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে আমি সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

বাজিতপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাজিতপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন এনজিও এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা পরিষদ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের কিশোরগঞ্জ জেলা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হাফিজা আক্তার। অনুষ্ঠানে বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এর আইনি কাঠামো, বিচারপ্রাপ্তির সহজ প্রক্রিয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা জানান, ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রকল্পের বর্তমান পর্যায়ের কার্যক্রম ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় গ্রাম আদালত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণে গ্রাম আদালত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, হিজড়া এবং দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, গ্রাম আদালতে ফৌজদারি ধরনের আবেদন দাখিলের জন্য ১০ টাকা এবং দেওয়ানি বিরোধের আবেদন দাখিলের জন্য ২০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। এ ছাড়া মামলার জন্য অতিরিক্ত কোনো ব্যয় বহন করতে হয় না। দেওয়ানি বিরোধের ক্ষেত্রে ঘটনার ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হয় এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বসংক্রান্ত জটিল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাজিতপুর উপজেলা গ্রাম আদালতের সমন্বয়কারী মো. আমিনুল ইসলাম, ব্র্যাকের এরিয়া অফিসার আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংবাদকর্মীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে আরও অবগত হবেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।

পাকুন্দিয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর কার্যকারিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসন। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় ও কার্যকর করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ আদালতের বাইরে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বিচারপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং প্রচলিত আদালতের ওপর মামলার চাপও হ্রাস পাবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রিফাত জাহান, ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী হাফিজা আক্তার, পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার এবং উপজেলা গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী মো. আমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করতে পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এর ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।

পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়ের সংস্কারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা কমান্ড কাউন্সিল ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এর আগে একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুন দিবাগত রাতে একদল দুর্বৃত্ত পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের মূল্যবান আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও মর্যাদার প্রতি অবমাননা করা হয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়ের দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে কিশোরগঞ্জ জেলা ও পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানকালে বক্তারা বলেন, হামলার কারণে পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থায়ী সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে একটি উপযুক্ত স্থান বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, আগামী ২৪ জুনের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উত্থাপিত দাবিগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ব্যানারে বৃহত্তর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।