বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

অষ্টগ্রাম হাওরে গোয়ালঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মোঃ আলী রহমান প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অষ্টগ্রাম হাওরে গোয়ালঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওরের একটি গোয়ালঘর থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের করগাঁও মৌজার পাটাচাপড়া হাওরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা—এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ।

অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত রানা মিয়া (২০) কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার হুমাইপুর (আনোয়ারপুর) গ্রামের বাসিন্দা এবং আলফাজ মিয়ার ছেলে। তিনি গত কার্তিক মাস থেকে মৌসুমি চুক্তিতে অষ্টগ্রাম উপজেলার করগাঁও মৌজার পাটাচাপড়া হাওরে নওশাদ আহম্মেদ ফারুকী মিয়ার মহিষ দেখাশোনার কাজ করতেন।

নিহতের বাবা মো. আলফাজ মিয়া জানান, তিনি কুমিল্লা শহরে ব্যবসা করেন। সোমবার ভোরে মোবাইল ফোনে খবর পান, তার ছেলে রানা মিয়া হাওরের একটি গোয়ালঘরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

রানা মিয়ার সঙ্গে একই স্থানে থাকা শ্রমিক তোতা মিয়া (৩১) ও আক্তার হোসেন (৩৬) জানান, রোববার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে সবাই রাতের খাবার খেয়ে যার যার বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। রাত প্রায় ১টার দিকে তোতা মিয়া ঘুম থেকে উঠে রানা মিয়াকে বিছানায় না দেখে আক্তার হোসেনকে ডাকেন। পরে টর্চলাইট দিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গোয়ালঘরের ভেতরে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।

নিহতের বাবা আলফাজ মিয়া পুলিশের কাছে দেওয়া অপমৃত্যুর আবেদনে উল্লেখ করেন, ধারণা করা হচ্ছে রাত সাড়ে আটটা থেকে রাত ১টার মধ্যে কোনো এক সময় রানা মিয়া সবার অগোচরে গোয়ালঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। আবার কেউ তাকে হত্যা করেও ঝুলিয়ে রাখতে পারে। তিনি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

টটেনহ্যামে গিয়েই জার্সির নাম বদলালেন সাভিনহো, কেন ‘সাভিও’?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
টটেনহ্যামে গিয়েই জার্সির নাম বদলালেন সাভিনহো, কেন ‘সাভিও’?

ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার পর জার্সিতে নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার সাভিও। এতদিন ফুটবলবিশ্বে ‘সাভিনহো’ নামে পরিচিত এই ফরোয়ার্ড নতুন ক্লাবে জার্সিতে লিখিয়েছেন ‘Sávio’। ফলে হঠাৎ নাম পরিবর্তনের কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

মঙ্গলবার ম্যানচেস্টার সিটি থেকে সাভিওর টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নতুন ক্লাবে তিনি ১৭ নম্বর জার্সি পরবেন। তবে জার্সির পেছনে ‘Savinho’-এর পরিবর্তে লেখা থাকবে ‘Sávio’।

সাভিওর পুরো নাম সাভিও মোরেইরা দে অলিভেইরা। ২২ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্যারিয়ারের শুরুতে খেলেছেন দেশটির ক্লাব অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর হয়ে। ২০২২ সালে তিনি ফরাসি ক্লাব ত্রোয়ার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।

ত্রোয়ার মালিকানাধীন ফুটবল নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে স্প্যানিশ ক্লাব জিরোনায় ধারে খেলেন সাভিও। সেখানেই তার ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। জিরোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি।

জিরোনার হয়ে একটি মৌসুমে ১১ গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট করেন সাভিও। তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের নির্বাচকদেরও। জিরোনায় থাকাকালীনই প্রথমবার ব্রাজিলের জাতীয় দলে ডাক পান তিনি।

জিরোনায় খেলার সময় সাভিও তাঁর আসল নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘Sávio’ নামেই পরিচিত ছিলেন। এমনকি ক্লাবটির ১৬ নম্বর জার্সিতেও তাঁর নাম লেখা ছিল ‘Sávio’।

তবে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি জার্সিতে ‘Savinho’ নামটি ব্যবহার শুরু করেন। এরপর ওই নামেই আন্তর্জাতিক ফুটবলসহ বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

‘Savinho’ মূলত ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ব্যবহৃত একটি আদুরে বা ছোট নামের রূপ। তবে টটেনহ্যামে যোগ দিয়ে আবার নিজের মূল নামের রূপ ‘Sávio’-তে ফিরে গেছেন এই উইঙ্গার।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে নিজের জায়গা তৈরি করার পর এবার টটেনহ্যামে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন সাভিও। নতুন ক্লাবে ১৭ নম্বর জার্সিতে তাঁকে দেখা যাবে। সেই জার্সিতে ‘Savinho’-এর বদলে ‘Sávio’ লেখা থাকায় তাঁর পরিচিত নামেও এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।

অর্থাৎ খেলোয়াড়টি একই—পরিবর্তন শুধু জার্সিতে ব্যবহৃত নামের। ‘Savinho’ নামে যে পরিচিতি তিনি তৈরি করেছেন, সেটি বদলে এখন আবার নিজের মূল নাম ‘Sávio’-কেই সামনে আনছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নৌকার মাঝি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নৌকার মাঝি আটক

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধনু নদীতে চলাচলরত বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বাবর আলী (৫৫) নামে এক নৌকার মাঝিকে আটক করেছে নৌপুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার বেতেকা গ্রামের হস্ত ধনু নদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বাবর আলী ইটনা উপজেলার সড়কহাটি এলাকার বাসিন্দা।

নৌপুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধনু নদীতে চলাচলরত একটি বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত নৌকার মাঝি হিসেবে বাবর আলীকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অবৈধ কাজে ব্যবহৃত নৌকার মাঝি হিসেবে বাবর আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধনু নদীতে চলাচলরত বালুবাহী ও মালবাহী বিভিন্ন নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

ধনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “নৌপথে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

নৌপুলিশের এই অভিযানের ফলে ধনু নদীপথে চলাচলকারী বালুবাহী ও মালবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার এক শোকবার্তায় তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। এ দুর্যোগে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অপূরণীয় ক্ষতির ভার বহন করা মানুষগুলোর প্রতি বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা প্রিয়জন হারানো সেসব পরিবার ও মানুষের সঙ্গে রয়েছে, যাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে।”

তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ নেপালের পাশে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটময় এ পরিস্থিতিতে নেপালের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করতে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক ও সহায়তার প্রস্তুতির এই বার্তার তথ্য রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

নেপালের সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শোকবার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় নিহত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানান।