মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাজিতপুরে ফেরিঘাটে টোল নৈরাজ্য, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী-চালক

আলী রহমান খান প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুরে ফেরিঘাটে টোল নৈরাজ্য, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী-চালক

সংগ্রহীত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পাটুলী ফেরিঘাটে যানবাহন পারাপারে সরকার নির্ধারিত টোল হার মানা হচ্ছে না-এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায়ের কারণে চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরকারি তালিকা অনুযায়ী ৩ টন পর্যন্ত মিনি ট্রাক পারাপারের টোল ৯৫ টাকা হলেও বাস্তবে আদায় করা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। কৃষি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলারের ক্ষেত্রে ৭৫ টাকার বদলে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৬০০ টাকা। মাইক্রোবাস ও ফোর-হুইল যানবাহনের জন্য নির্ধারিত ৫০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত সিডান কারের জন্য ৩০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকা। অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য ৩/৪ চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রে ১৫ টাকার পরিবর্তে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য ৫ টাকার বদলে ৩০ টাকা এবং রিকশা-ভ্যানের ক্ষেত্রে ৫ টাকার পরিবর্তে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই অতিরিক্ত টোল আদায় চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

অটোরিকশা চালক ও সবজি ব্যবসায়ী মালেক মিয়া (৩৫) বলেন, “প্রতিদিন পিরোজপুর পাইকারি আড়ত থেকে সবজি কিনে অষ্টগ্রামে বিক্রি করি। ফেরিতে উঠলেই মালামালের ওপর নির্ভর করে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেয়।”

হাওরাঞ্চলের কৃষক মজিবুর রহমান (৩৮) বলেন, “বোরো ধান কেটে বাজিতপুরে নিতে গেলে গত মৌসুমে প্রতি গাড়িতে ৮০০ টাকা দিয়েছি। এবার আরও বেশি দিতে হতে পারে।”

হার্ভেস্টার মালিক রমজান আলী (৫২) জানান, “গত মৌসুমে প্রতি হার্ভেস্টার পারাপারে ১,৬০০ থেকে ২,২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।” অভিযোগ রয়েছে, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স থেকেও ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

একটি পণ্যবাহী পিকআপের চালক আকাশ মিয়া (২৯) বলেন, “৪০০ টাকা দিয়ে রশিদ চাইলে উল্টো তেড়ে আসে। পরে ভয়ে টাকা দিয়ে চলে আসি।”

বাজিতপুর থেকে অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদে যাতায়াতকারী এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, “প্রতিদিনই ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। ঘাটের লোকজনের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। যার কাছ থেকে যেমন ইচ্ছা তেমন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় পাটুলী ঘাটের এক ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই চালকদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বিরোধ হয়, কিন্তু ভয়ের কারণে কেউ মুখ খোলেন না।”

এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তি মন্তব্যে জানান, একটি ধান কাটার মেশিনবাহী ট্রাক পারাপারে তার কাছে ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৪ হাজার টাকায় পারাপার করা সম্ভব হয়।

ফেরিঘাটের ইজারাদার বকুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বায়েজিদ হোসেন হৃদয় দাবি করেন, তিন বছরের জন্য ইজারা নিলেও পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব বদরুল আলম শিপু ও পাটুলীর সোহেল (ফ্রিডম সোহেল)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে ঘাট পরিচালনায় জড়িত সোহেল (ফ্রিডম সোহেল) বলেন, “সারা দেশেই ফেরিতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। ঈদের সময় এই হার আরও বাড়ে, কারণ আমাদেরও অতিরিক্ত খরচ থাকে।”

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সল বলেন, “জনবল সংকটের কারণে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।” তবে দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, “এটি অবশ্যই আমাদের দায়িত্ব। আমরা বিব্রতকর অবস্থায় আছি এবং উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, “ফেরিঘাটটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

কিশোরগঞ্জে হিন্দু যুব মহাজোটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে হিন্দু যুব মহাজোটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

‘সবুজ গড়ি, পরিবেশ বাঁচাই, সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে শহরের নরোত্তম প্রেমধাম মন্দির থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে শহরের বিভিন্ন মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহিদাস আচার্য, রাজন মজুমদার ও সজল কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সূত্রধর, প্রচার সম্পাদক সৌরভ দেবনাথ, অগ্রদীপ সাহাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বক্তারা সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও সড়কের পাশে চারা বিতরণ করা হয়। সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের রোপণ করা গাছের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট দেশব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে নারীসহ দুজনের কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে নারীসহ দুজনের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আমলাপাড়া এলাকার ছোলাইমান মিয়ার স্ত্রী শম্পা (২৮) এবং একই এলাকার জাহিদ হোসেন ওরফে ভোলা মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩১)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শম্পার কাছ থেকে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময় মাদক সেবনের উপকরণসহ রুবেল মিয়াকে আটক করা হয়।

পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক শম্পাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করায় রুবেল মিয়াকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শম্পা ও রুবেলকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের উপকরণসহ আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শম্পাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং রুবেল মিয়াকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভৈরবে ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, মা মাছ ও রেণু পোনা নিধন বন্ধ এবং মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র জলমহালে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ২শ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র জলমহালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মা মাছ ও রেণু পোনা সংরক্ষণে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি বা রিং জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ব্রহ্মপুত্র জলমহালে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে জেলেরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে জাল ফেলে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে জলমহাল থেকে ২শ পিস চায়না দুয়ারি রিং জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

অভিযান শেষে জব্দ করা নিষিদ্ধ জালগুলো মেঘনা নদীর তীরবর্তী ত্রি-সেতু এলাকায় নিয়ে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেনসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদের ইজারাদার আব্দুর রাজ্জাক শেখ এবং ভৈরব নৌ-থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক বলেন, মাছের প্রজনন বৃদ্ধি, রেণু পোনা সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সোমবার মৎস্য কর্মকর্তার বিশেষ তদারকিতে পরিচালিত অভিযানের সময় অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা জাল ফেলে পালিয়ে যান। পরে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ২শ পিস চায়না দুয়ারি রিং জাল জব্দ করা হয়। জালগুলো মেঘনা নদীর ত্রি-সেতু এলাকায় আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু নদী ও জলমহালে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ জালের উৎপাদনস্থল, মজুতের জায়গা ও বাজারে বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এর ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নদীতে জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভৈরব বাজারে যারা নিষিদ্ধ জাল বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিক্রেতারা এসব জাল সরবরাহ করছেন বলেই জেলেরা তা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন।