সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২

নিকলীতে ঈদের চাল কেলেঙ্কারি: প্যানেল চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিকলীতে ঈদের চাল কেলেঙ্কারি: প্যানেল চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদে ঈদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের অপসারণ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

এর আগে গত রবিবার হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের আওতায় মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বিতরণ কর্মসূচির চাল প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে মজুদ রাখার অভিযোগ ওঠে। এ খবর পেয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল জব্দ করে সিলগালা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে চলতি মাসের ১৮ তারিখ থেকে মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় এবং ঈদের আগেই তা শেষ করার কথা ছিল। ছয়টি ইউনিয়নে বিতরণ সম্পন্ন হলেও কারপাশা ইউনিয়নে তা শেষ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ২ হাজার ৬৫৪ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে অনেকের কাছ থেকে চাল প্রাপ্তির স্লিপ রেখে তাদের চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেন প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দার। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের চার দিন পরও চাল বিতরণ না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে তারা বিষয়টি নজরদারিতে রাখেন। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. দেলোয়ার হোসেন গত ২৫ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ৬৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে তালাবদ্ধ করেন।

এ ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো সিলগালা করেন।

মানববন্ধন চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থক কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত সাংবাদিকদের হুমকি দেন এবং তাদের হেনস্তার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এসবের জের ধরে তিনি এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলাও করেছিলেন, যা পুলিশ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আদিত্য হাছান সাজন জানান, “প্যানেল চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর নয়জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তা এখনো তদন্তের আলো দেখেনি।”

জেলা শহরের ব্যবসায়ী ও নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ রতন বলেন, “জামাল সর্দার দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অনিয়ম করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণ না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রশাসনকে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় টপি রানী পাল (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার নগরকুল এলাকায় নিজ বসতঘরের একটি কক্ষে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে তিনি গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত টপি রানী পাল একই এলাকার তাপস চন্দ্র পালের স্ত্রী এবং হিমাংশু পালের মেয়ে।

ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। চাকরির সুবাদে তিনি শরীয়তপুরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পরবর্তীতে স্বামীসহ নিহতের বাবা-মা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সংবাদ পেয়ে তাড়াইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বন্ধুকে থাপ্পর মারার প্রতিবাদ করায় পাপন (১৯) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদর বাজারের পাকুন্দিয়া–মির্জাপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাপন পৌরসদরের লক্ষীয়া গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে পাপনের বন্ধু রাজনের সঙ্গে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে চর পাকুন্দিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে পারভেজ ও মাসুম মিয়ার ছেলে ইমরানের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পারভেজ রাজনকে থাপ্পর মারেন। এর প্রতিবাদ করলে পাপনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে পারভেজ ও ইমরানের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক পাপনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে পারভেজ তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা পাপনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক শাহান শাহ বলেন, পারভেজ ও ইমরানসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সর্বশেষ তারা পাপনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পারভেজ ও ইমরান নামে দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে গুরুতর আহত ফার্নিচার মিস্ত্রি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (৪২) মারা গেছেন। ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ফখরুল ইসলাম উপজেলার গুজদিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ কাজল আক্তার ও রোমা আক্তার নামের দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর গ্রামের রহিম, আশিক, ফজলু ও হোসেনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একখণ্ড জমি নিয়ে ফখরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২৬ মার্চ সকালে ফখরুল ইসলাম গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় নিহতের ভাই আল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।