মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ ১৪৩২

বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় তীব্র পেট্রোল সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার পৈলানপুর এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি ১৭ ঘণ্টা থেকে দেড় দিন পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকেই মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পটিকে কেন্দ্র করে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে অবস্থান করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাননি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে থাকছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রেখে পেট্রোল বিতরণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।

পাম্পের মালিক আরাফাত বাপ্পি জানান, “আগে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার পেট্রোল বিক্রি হতো। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে ২০০০ থেকে ৩০০০ লিটারে দাঁড়িয়েছে। পাশের উপজেলাগুলোর পাম্প বন্ধ থাকায় কুলিয়ারচর ও নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ভিড় করছেন। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৫০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।”

পেট্রোল নিতে আসা সরারচর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সফিক মিয়া বলেন, “৩১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেট্রোল পাইনি। পরদিন ১ এপ্রিল সকাল ৭টায় আবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাই। পরিচিতদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সীমিত পরিমাণ পাচ্ছে।”

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “উপজেলায় পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুতই আরেকটি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ চালু করা হবে, এতে চাপ কমবে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। খুচরা দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাময়িক এই সংকট দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।”

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার, মিন্টো রোডে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার, মিন্টো রোডে জিজ্ঞাসাবাদ

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সহিংসতার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর-এ স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের করা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি-সহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় টিপু মুনশি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

রাজনৈতিক কর্মজীবনে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে টানা চারবার এই সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি শপথ নেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়নে রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।

৫ আগস্টের পর থেকে তিনি জনসম্মুখে খুব একটা না আসলেও তাঁর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ছিল।

কটিয়াদীতে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টির মিছিল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টির মিছিল

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কথিত গোপন বাণিজ্য চুক্তি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তারা এ চুক্তি বাতিলসহ সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহতের আহ্বান জানান।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন, দখল ও গণহত্যার প্রতিবাদ, জাতীয় সংসদে জাতীয় সংগীতের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জ্বালানি তেল, কৃষি উপকরণ ও নিত্যপণ্যের অবাধ সরবরাহ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা শাখার সভাপতি সেলিম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান রুমি, জেলা সম্পাদকীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া উপজেলা সভাপতি মো. রেনু মিয়া এবং উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মস্তফা কামাল নান্দুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কুলিয়ারচরে ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার আলী আকবরী এলাকায় অবস্থিত নাহার ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

এ সময় যেসব গ্রাহক ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল নিতে এসেছিলেন, তাদের থামিয়ে সতর্ক করা হয়। প্রথমবার বিবেচনায় মানবিক দিক মাথায় রেখে কোনো জরিমানা না করে সচেতনতামূলক সতর্কবার্তা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান জানান, জ্বালানি তেল বিক্রয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফুয়েল কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল সরবরাহ করা যাবে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, এই অভিযানের ফলে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।