শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১ ১৪৩২
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১ ১৪৩২

পরকিয়ার জেরে যুবক হত্যা:২৫ দিন পর ভুট্টাক্ষেতে কঙ্কাল উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পরকিয়ার জেরে যুবক হত্যা:২৫ দিন পর ভুট্টাক্ষেতে কঙ্কাল উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় পরকিয়া সম্পর্কের জেরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর আবির (২৮) নামে এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিকা কেয়া (১৮) ও তার স্বামী মাহমুদুল হাসান রিয়ান (২০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ডুবি গ্রামের হাংড়াইল হাওরের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আবির উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবড়াটিয়া গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় কৃষক রহিমুদ্দিনের বাড়িতে বার্ষিক চুক্তিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কেয়া রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার আ. রশীদের মেয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে কেয়া ও মাহমুদুল হাসান রিয়ানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গত ১৯ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।

নিহত আবির ও মাহমুদুল হাসান ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। সেই সূত্রে আবির প্রায়ই মাহমুদুলের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে মাহমুদুলের স্ত্রী কেয়ার সঙ্গে আবিরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গত ২ মার্চ মাহমুদুল হাসান স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে চট্টগ্রামে তার বাবার কাছে যান। এ সময় আবির কেয়ার সঙ্গে তোলা ছবি মাহমুদুলের কাছে পাঠান। পরে ৯ মার্চ ভোরে মাহমুদুল বাড়িতে ফিরে আসেন। একই দিন বিকেল থেকে আবির নিখোঁজ হন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ১৩ মার্চ নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর স্থানীয়দের মাধ্যমে ভুট্টাক্ষেতে একটি কঙ্কাল পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে। কঙ্কালের পরনের কাপড় দেখে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে আবিরের বলে শনাক্ত করেন।

নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। উদ্ধারকৃত কঙ্কাল ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত কেয়া ও তার স্বামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”

চন্দিপাশায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
চন্দিপাশায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলেছেন একই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে ৩০ কেজি চালের কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও মেম্বার আব্দুল হাই প্রতিজন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৩,৭০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এছাড়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে তিনি মারমুখী ও অশোভন আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন অভিযোগ করেন, “মেম্বার, তার ছেলে এবং তাদের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জমশেদ বলেন, “মেম্বার ও তার সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থে বাধা পেলেই মারমুখী আচরণ করে। সম্প্রতি ঘাগড়া নদীর পাড়ের ঈদগাহ মাঠে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়, এতে আমি আহত হয়েছি।”

৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল মিয়া জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে আব্দুল হাইয়ের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও এমপিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আব্দুল হাই এখনও প্রভাব বিস্তার করছেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন। দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এছাড়া তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে এলাকায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযুক্ত মেম্বার আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “দলীয় লোকদের সমন্বয় করে আমি কার্ড বিতরণ করেছি।”

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন।

বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় তীব্র পেট্রোল সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার পৈলানপুর এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি ১৭ ঘণ্টা থেকে দেড় দিন পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকেই মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পটিকে কেন্দ্র করে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে অবস্থান করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাননি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে থাকছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রেখে পেট্রোল বিতরণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।

পাম্পের মালিক আরাফাত বাপ্পি জানান, “আগে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার পেট্রোল বিক্রি হতো। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে ২০০০ থেকে ৩০০০ লিটারে দাঁড়িয়েছে। পাশের উপজেলাগুলোর পাম্প বন্ধ থাকায় কুলিয়ারচর ও নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ভিড় করছেন। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৫০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।”

পেট্রোল নিতে আসা সরারচর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সফিক মিয়া বলেন, “৩১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেট্রোল পাইনি। পরদিন ১ এপ্রিল সকাল ৭টায় আবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাই। পরিচিতদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সীমিত পরিমাণ পাচ্ছে।”

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “উপজেলায় পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুতই আরেকটি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ চালু করা হবে, এতে চাপ কমবে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। খুচরা দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাময়িক এই সংকট দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।”

কটিয়াদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায়

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায়

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পেট্রোল মজুদ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আফরোজ মারলিজ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের দায়ে করগাঁও ইউনিয়নের আলমগীরকে ১ লাখ টাকা এবং একই অপরাধে মো. কবির মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানকালে চান্দপুর ইউনিয়নের মানিকখালী বাজারে পেট্রোল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানার টাকা আদায়ের পাশাপাশি জব্দকৃত পেট্রোল ন্যায্য মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “বিনা অনুমতিতে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং পেট্রোল মজুদের মাধ্যমে জনস্বার্থহানি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত থাকে।”

অভিযান চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।