পরকিয়ার জেরে যুবক হত্যা:২৫ দিন পর ভুট্টাক্ষেতে কঙ্কাল উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় পরকিয়া সম্পর্কের জেরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর আবির (২৮) নামে এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিকা কেয়া (১৮) ও তার স্বামী মাহমুদুল হাসান রিয়ান (২০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ডুবি গ্রামের হাংড়াইল হাওরের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আবির উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবড়াটিয়া গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় কৃষক রহিমুদ্দিনের বাড়িতে বার্ষিক চুক্তিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কেয়া রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার আ. রশীদের মেয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে কেয়া ও মাহমুদুল হাসান রিয়ানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গত ১৯ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।
নিহত আবির ও মাহমুদুল হাসান ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। সেই সূত্রে আবির প্রায়ই মাহমুদুলের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে মাহমুদুলের স্ত্রী কেয়ার সঙ্গে আবিরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত ২ মার্চ মাহমুদুল হাসান স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে চট্টগ্রামে তার বাবার কাছে যান। এ সময় আবির কেয়ার সঙ্গে তোলা ছবি মাহমুদুলের কাছে পাঠান। পরে ৯ মার্চ ভোরে মাহমুদুল বাড়িতে ফিরে আসেন। একই দিন বিকেল থেকে আবির নিখোঁজ হন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ১৩ মার্চ নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর স্থানীয়দের মাধ্যমে ভুট্টাক্ষেতে একটি কঙ্কাল পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে। কঙ্কালের পরনের কাপড় দেখে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে আবিরের বলে শনাক্ত করেন।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। উদ্ধারকৃত কঙ্কাল ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত কেয়া ও তার স্বামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”




