সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ ১৪৩২

হোসেনপুরে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম ইমনকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় বিচারের দাবিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনের পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য মো. মাসুদ আলম, হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক (বাক্কার), পৌর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সাধারণ সম্পাদক মানসুরুল হক রবিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাফায়েত হোসেন সম্রাট, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া হিমেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন, পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন মিয়া, লেখক ও কলামিস্ট মিজানুর রহমান মামুন, গণঅধিকার পরিষদের পৌর শাখার সভাপতি মনিরুল হক মানিকসহ উপজেলার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি।

বক্তারা বলেন, তারিকুল ইসলাম ইমন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে তারিকুল ইসলাম (২১) নামের কলেজছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের খুরশিদ মহল ব্রিজের নিচ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

কটিয়াদীতে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টির মিছিল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টির মিছিল

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কথিত গোপন বাণিজ্য চুক্তি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তারা এ চুক্তি বাতিলসহ সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহতের আহ্বান জানান।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসন, দখল ও গণহত্যার প্রতিবাদ, জাতীয় সংসদে জাতীয় সংগীতের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জ্বালানি তেল, কৃষি উপকরণ ও নিত্যপণ্যের অবাধ সরবরাহ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা শাখার সভাপতি সেলিম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান রুমি, জেলা সম্পাদকীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া উপজেলা সভাপতি মো. রেনু মিয়া এবং উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মস্তফা কামাল নান্দুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কুলিয়ারচরে ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার আলী আকবরী এলাকায় অবস্থিত নাহার ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

এ সময় যেসব গ্রাহক ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল নিতে এসেছিলেন, তাদের থামিয়ে সতর্ক করা হয়। প্রথমবার বিবেচনায় মানবিক দিক মাথায় রেখে কোনো জরিমানা না করে সচেতনতামূলক সতর্কবার্তা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান জানান, জ্বালানি তেল বিক্রয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফুয়েল কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল সরবরাহ করা যাবে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, এই অভিযানের ফলে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

লাইনের নিয়ম ভেঙে তেল নিতে গিয়ে ইউএনওর নজরে ধরা খেলো কারারক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
লাইনের নিয়ম ভেঙে তেল নিতে গিয়ে ইউএনওর নজরে ধরা খেলো কারারক্ষী

কিশোরগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে লাইনের তোয়াক্কা না করে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে এক কারারক্ষী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হাতে আটক হয়েছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

আটক কারারক্ষীর নাম শিহাব আহমেদ। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে কর্মরত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিহাব আহমেদ নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসেন। এ সময় সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছিলেন। তবে তিনি সেই লাইন উপেক্ষা করে সরাসরি তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ঘটনাস্থলে তখন জ্বালানি তেল বিতরণ কার্যক্রম তদারকিতে ছিলেন সদর উপজেলার ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ। মোটরসাইকেলে কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকায় তিনি শিহাব আহমেদকে থামান এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু তিনি বৈধ কোনো কাগজপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন।

পরে ইউএনও তাকে আটক করে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপারের কাছে হস্তান্তর করেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ বলেন, “আটক কারারক্ষীকে জেল সুপারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার দিদারুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”