নারী উদ্যোক্তা সুমির বিনামূল্যের প্রশিক্ষণে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন শত শত নারী
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল গ্রামের নারী উদ্যোক্তা সুমির উদ্যোগে বিনামূল্যে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছেন অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বেকার নারীরা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে দক্ষতা অর্জন করে অনেক নারী দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। কেউ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, আবার অনেকে নিজ উদ্যোগে ঘরে বসেই আয় করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতায় অবদান রাখছেন।
কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ রোডের উকিলপাড়ায় ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ‘নারী উদ্যোক্তা সুমি’ (রেজিস্ট্রেশন নং-১৫৩/২৪)-এ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১২টি বিষয়ে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, সেলাই, কেক বেকিং, বিউটিশিয়ান, শোপিস তৈরি, হ্যান্ড স্টিচ, কুশিকাঁটা, ব্লক ও বাটিক, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড ও স্ক্রিন প্রিন্ট, আইসক্রিম তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড প্রস্তুতকরণ।
প্রশিক্ষণ শেষে অনেক নারী এখানেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে অনেকে নিজ এলাকায় বা বাসায় বসেই বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে আয় করছেন। এতে তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।
প্রশিক্ষণার্থী কানিজ ফাতিমা বলেন, “আমি এখানে বিনামূল্যে ব্লক ও বাটিকের কাজ শিখছি। প্রশিক্ষণ শেষে নিজ বাড়িতে এই কাজ শুরু করতে চাই। পরিবারের পাশাপাশি নিজেও আয় করে স্বাবলম্বী হতে চাই।”
প্রশিক্ষণার্থী পুষ্পা আক্তার বলেন, “এখানে কেক তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন বাসায় কেক তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করছি। এতে সংসারের খরচে সহযোগিতা করতে পারছি।”
আরেক প্রশিক্ষণার্থী শারমিন আক্তার বলেন, “আমি একজন গৃহিণী। এখানে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন কিনে বাসায় কাজ শুরু করতে চাই, যাতে পরিবারের আয়-রোজগারে অবদান রাখতে পারি।”
প্রশিক্ষণার্থীদের ভাষ্য, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ তাঁদের নতুন দক্ষতা অর্জনের পথ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে অনেকেই নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হওয়ার আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সুমি জানান, তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (এমএ) সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জে জেন্ডার প্রমোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল সুবিধাবঞ্চিত নারীদের দক্ষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। সেই লক্ষ্য থেকেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখান থেকে প্রশিক্ষণ ও সনদ নিয়ে অনেক নারী দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
সুমি জানান, তিনি ২০২৪ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মাননা অর্জন করেন। ২০২৫ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পান। এছাড়া তিনি ১২টি বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষক এবং জাতীয় যুব পুরস্কারের বিচারক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক নারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array