বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাজিতপুরে অবৈধ বালু ব্যবসায় প্রশাসনের অভিযান, কারাদণ্ড ও ড্রেজার জব্দ

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুরে অবৈধ বালু ব্যবসায় প্রশাসনের অভিযান, কারাদণ্ড ও ড্রেজার জব্দ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন ছাড়াই নিচু জমি ভরাটের বিরুদ্ধে টানা দুই দিন অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সাতটি অবৈধ বালু ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর এক কিশোরকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জালাল উদ্দিন। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের বড় ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা, কৈলাগ সড়ক, দিলালপুর, বলিয়াদী, দিঘীরপাড়, কৈলাগ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

এ ছাড়া স্টিল বডির নৌকায় করে নদী থেকে বালু এনে বিভিন্ন এলাকায় ফেলা হচ্ছিল। বড় আকারের পাইপ সড়কের ওপর দিয়ে স্থাপন করে বালু পরিবহন করায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি, সড়কের ক্ষতি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন টানা দুই দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। অভিযানের সময় অবৈধভাবে বসানো বালু পরিবহনের পাইপ অপসারণ ও ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি সাতটি অবৈধ বালু ড্রেজার জব্দ করা হয়।

অভিযানে কৈলাগ ইউনিয়নের কৈলাগ গ্রামের রউফ মিয়ার ছেলে শাহীনুর (২৩)-কে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই ঘটনায় শহীদ মিয়ার ছেলে মো. তামীম (১৬) অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শাহীনুর মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘোড়াউত্রা নদীর বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে রাতের বেলায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, জলাশয় ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও সব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অবৈধ বালু উত্তোলন ও জমি ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “কেউ যদি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে বালু আনলোড করেন, সে ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার ব্যবহার এবং অনুমোদনহীন জমি ভরাটের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

চৌদ্দশতে সড়ক দুর্ঘটনা, অজ্ঞাতপরিচয় যুবক হাসপাতালে

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
চৌদ্দশতে সড়ক দুর্ঘটনা, অজ্ঞাতপরিচয় যুবক হাসপাতালে

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকায় গ্যাস পাম্পসংলগ্ন কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পথচারী ও কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত যুবকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হাসপাতালে আনার পর আহত যুবক নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি। তবে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিচু স্বরে নিজের নাম ‘জনি’, বাড়ি ‘কসাইখানা’ এবং বয়স আনুমানিক ২৬ থেকে ২৭ বছর বলে জানান। তবে তার দেওয়া এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত যুবকের পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার স্বজনদের সন্ধান এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

যদি কোনো ব্যক্তি আহত যুবকের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানেন, তাহলে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে  যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সাবেক ইউপি সদস্যের

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সাবেক ইউপি সদস্যের

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সদর উপজেলার বগাদিয়া মদিনা মসজিদ-সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে তার জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জের ধরে একটি কুচক্রী মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এই ষড়যন্ত্রে তার পরিবারের একজন সদস্যও জড়িয়ে পড়েছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।

সাবেক এই ইউপি সদস্য বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে যে নারী কেলেঙ্কারির প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই। এসব অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সবসময় সাধারণ মানুষের সেবায় কাজ করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি সমাজের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জীবনের এই পর্যায়ে তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সামাজিক সম্মান ও ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের আয়না। তাই প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনে ভূমিকা রাখার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই।”

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কটিয়াদীতে বাম্পার ফলন, মণপ্রতি ৪ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পাট

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে বাম্পার ফলন, মণপ্রতি ৪ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পাট

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে পাটের আবাদ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ এলাকায় পাটের ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। এর সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

কৃষকদের আশা, বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে পাট চাষে তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবেন। কৃষি বিভাগও বলছে, ধান চাষের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় অনেক নতুন কৃষক এবার পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো মানের পাট মণপ্রতি গড়ে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও উৎকৃষ্ট মানের তোষা পাটের দাম ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে তুলনামূলক নিম্নমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। কৃষকদের মতে, পাট কিছুদিন সংরক্ষণ করে বিক্রি করলে দাম আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কটিয়াদী উপজেলায় ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতেই ফলন ভালো হয়েছে। একসময় পতিত পড়ে থাকা অনেক জমিতেও এবার পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ধান চাষে লোকসানের অভিজ্ঞতা এবং পাটের বর্তমান লাভজনক বাজার কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে।

পৌর এলাকার জোয়ারিয়া গ্রামে রাস্তার পাশে সারি সারি করে শুকানো হচ্ছে নতুন পাট। মানিখালী, করগাঁও, সহশ্রাম, ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকা, মসুয়া, বনগ্রাম ও লোহাজুরীসহ বিভিন্ন এলাকায়ও একই চিত্র। কোথাও কৃষকেরা জমি থেকে পাট কাটছেন, কোথাও পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। রাস্তার ধারে শুকানো হচ্ছে পাট ও পাটকাঠি। বিভিন্ন জলাশয়ের পাড়ে শ্রমিকেরা আঁশ ছাড়িয়ে বান্ডিল তৈরি করছেন। ইতোমধ্যে কটিয়াদী পুরাতন বাজারের ঐতিহ্যবাহী পাট মোকামেও নতুন পাটের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

বনগ্রাম ইউনিয়নের নন্দিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মিয়া বলেন, “এ বছর দুই একর জমিতে পাট চাষ করেছি। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমার জমিতে প্রায় ৪৫ মণ পাট হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।”

লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের কৃষক আবুল হাশিম বলেন, “বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও কিছুদিন পর দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে অনেক ব্যবসায়ী ভালো পাটকেও নিম্নমানের বলে দাম কমানোর চেষ্টা করেন। বর্তমান বাজারদর ধরে থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।”

কটিয়াদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা বলেন, “ভালো মানের পাট ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে। এখনো পুরোপুরি পাট বাজারে ওঠেনি। বড় ব্যবসায়ীরা সময়মতো নগদ অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসা আরও গতিশীল হবে। বেশি দিন গুদামে পাট জমে থাকলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হয়।”

কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহা বলেন, “বর্তমানে তোষা পাটের দাম প্রকারভেদে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ টাকা মণ। মেস্তা পাটের বাজারও ভালো। মিল মালিকরা দ্রুত অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীদের জন্য পাট কেনাবেচা সহজ হবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে।”

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকেরা সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। তবে অনেক কৃষক অপর্যাপ্ত ও অপরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেন, এতে আঁশের মান কমে যায়। পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দিলে আঁশের গুণগত মান আরও উন্নত হবে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন।”

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41