বাজিতপুরে অবৈধ বালু ব্যবসায় প্রশাসনের অভিযান, কারাদণ্ড ও ড্রেজার জব্দ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন ছাড়াই নিচু জমি ভরাটের বিরুদ্ধে টানা দুই দিন অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সাতটি অবৈধ বালু ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর এক কিশোরকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জালাল উদ্দিন। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের বড় ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা, কৈলাগ সড়ক, দিলালপুর, বলিয়াদী, দিঘীরপাড়, কৈলাগ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
এ ছাড়া স্টিল বডির নৌকায় করে নদী থেকে বালু এনে বিভিন্ন এলাকায় ফেলা হচ্ছিল। বড় আকারের পাইপ সড়কের ওপর দিয়ে স্থাপন করে বালু পরিবহন করায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি, সড়কের ক্ষতি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন টানা দুই দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। অভিযানের সময় অবৈধভাবে বসানো বালু পরিবহনের পাইপ অপসারণ ও ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি সাতটি অবৈধ বালু ড্রেজার জব্দ করা হয়।
অভিযানে কৈলাগ ইউনিয়নের কৈলাগ গ্রামের রউফ মিয়ার ছেলে শাহীনুর (২৩)-কে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই ঘটনায় শহীদ মিয়ার ছেলে মো. তামীম (১৬) অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শাহীনুর মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘোড়াউত্রা নদীর বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে রাতের বেলায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, জলাশয় ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও সব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অবৈধ বালু উত্তোলন ও জমি ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “কেউ যদি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে বালু আনলোড করেন, সে ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার ব্যবহার এবং অনুমোদনহীন জমি ভরাটের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array