রাশিয়ার একটি গবেষণা কেন্দ্রে সংক্রামক প্লেগে এক কর্মীর মৃত্যুর খবরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে মস্কোর কাছ থেকে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছে ওয়াশিংটন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
তবে প্লেগের বিস্তার ঠেকাতে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের একটি প্লেগ গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর ঘটনাকেও তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস মস্কোকে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোলামেলা তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মস্কোর কাছে আরও তথ্য চেয়েছি। তথ্য বিনিময়ের জন্য বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ রাখছি।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘ডিমার্শে’ নামে পরিচিত একটি কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে রাশিয়ার কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
আইসল্যান্ড সফরের সময় মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে স্বচ্ছ থাকতে এবং বিশ্বের সঙ্গে আরও বেশি তথ্য বিনিময় করার আহ্বান জানাই। এতে আমরা সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারব।’
পরে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় আসলে কী ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাঁর (পুতিন) সঙ্গে আমার ফোনালাপের সূচি নির্ধারিত আছে। খুব শিগগিরই ফোনালাপ হবে।’
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী তথ্য দিচ্ছে, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব গভীর আলোচনার মধ্যে আছি। সম্ভবত আগামীকাল (বুধবার) এ বিষয়ে তথ্য জানাতে পারব।’গত শুক্রবার রাশিয়ার গণমাধ্যম ‘পিপল অব বৈকাল’ জানায়, মারা যাওয়া ওই নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা (২৮)। ভেঙে যাওয়া একটি টেস্ট টিউব থেকে তিনি নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য গণমাধ্যমেও পরীক্ষাগারে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার সঙ্গে দারিয়ার মৃত্যুর সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।
‘পিপল অব বৈকাল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিয়ার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি নথিতে দাবি করা হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রাশিয়ার স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রোসপোট্রেবনাদজোর এ দাবি অস্বীকার করেছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা রাশিয়ার কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য পেয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ইরকুতস্ক শহরে বিপজ্জনক কোনো রোগের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়নি।
তবে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস মস্কোকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে সংক্রামক ধরনগুলোর একটি, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। অন্যদিকে, বিউবনিক প্লেগ সাধারণত সংক্রমিত পোকামাকড়ের মাধ্যমে ছড়ায়।
ডব্লিউএইচওর মতে, নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
সোমবার ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর জবাবে মঙ্গলবার রোসপোট্রেবনাদজোর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত মস্কো।
বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রুশ সংস্থাটি। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে দেশটিতে হামের প্রকোপ বৃদ্ধির কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর রাশিয়ার ইরকুতস্কে প্লেগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের কর্মীর মৃত্যুর সঙ্গে ওই সম্মেলনের কোনো সম্পর্ক নেই।
Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array