বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরে নেই বাংলাদেশের কোনো শহর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরে নেই বাংলাদেশের কোনো শহর

বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো শহরের। বরং এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রায় সব বড় শহরের বৈশ্বিক অবস্থান আরও পিছিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে রাজশাহীর। এক লাফে ৬৬ ধাপ নেমে শহরটির অবস্থান এখন ৭৭৯তম।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসন—এই পাঁচটি সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তালিকায় বাংলাদেশের আটটি শহরের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ঢাকা রয়েছে ৫১৫তম অবস্থানে। গত বছর ৪৮২তম অবস্থানে থাকা রাজধানী এক বছরের ব্যবধানে পিছিয়েছে ৩৩ ধাপ। ফলে এবার সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ঢাকা।

শুধু ঢাকা নয়, পিছিয়েছে দেশের অন্যান্য বড় শহরও। চট্টগ্রাম ১৪ ধাপ পিছিয়ে রয়েছে ৭৬৩তম অবস্থানে। খুলনা ৮১১তম, সিলেট ৮৩৪তম এবং ময়মনসিংহ ৮৯৫তম অবস্থানে রয়েছে।

বগুড়া ৩২ ধাপ পিছিয়ে ৯২৬তম অবস্থানে রয়েছে। রাজশাহীর অবস্থান ৭৭৯তম। বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে শুধু কুমিল্লা আগের বছরের অবস্থান ধরে রেখেছে; শহরটির অবস্থান ৮৮৩তম।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচকে অর্থনীতির জন্য ৩০, মানবসম্পদের জন্য ২৫, জীবনযাত্রার মানের জন্য ২৫ এবং পরিবেশ ও শাসনের জন্য ১০ করে মোট ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামগ্রিক র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।

অর্থনৈতিক সূচকে ঢাকার অবস্থান বিশ্বে ২৮৬তম। জিডিপির আকার ও প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মাথাপিছু জিডিপি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এ সূচকে।

মানবসম্পদ সূচকেও দেশের শহরগুলোর মধ্যে এগিয়ে ঢাকা; বিশ্বে এর অবস্থান ১৭৮তম। শিক্ষা, ব্যবসার পরিবেশ ও জনমিতিক প্রবণতার ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়।

কিন্তু পরিবেশসহ অন্যান্য সূচকে দুর্বল অবস্থানের কারণে সামগ্রিক র‌্যাংকিংয়ে সেই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারেনি রাজধানী।

পরিবেশ সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর অবস্থান সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এ সূচকে ঢাকার অবস্থান ৯৩০তম। চট্টগ্রাম ৯২৪তম, ময়মনসিংহ ৯৪০তম এবং খুলনা ৯৭৪তম অবস্থানে রয়েছে।

দেশের শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা সিলেটও রয়েছে ৭৩৫তম অবস্থানে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, পানির সংকট, নগরায়ণের চাপ, সবুজ কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ বাংলাদেশের শহরগুলোর পরিবেশগত অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

রাজশাহীর ক্ষেত্রেও পরিবেশগত অবনতির বিষয়টি উঠে এসেছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বায়ুদূষণ, গাছপালা কমে যাওয়া, তীব্র গরম, পানি সংকট এবং নদীদূষণকে এ অবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জীবনযাত্রার মানের সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে এগিয়ে রাজশাহী। বিশ্বে শহরটির অবস্থান ৫৪২তম। এরপর খুলনা ৬১২তম এবং চট্টগ্রাম ৬৫৩তম অবস্থানে রয়েছে।

নাগরিকদের সামগ্রিক জীবনমান, আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নাগরিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এ সূচকে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই একটি শহর বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। গণপরিবহন, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নাগরিক সেবা এবং কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ ঢাকা-কেন্দ্রিক হওয়ায় রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। কর্মসংস্থানের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঢাকামুখী হওয়ায় আবাসন, পরিবহন, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার ওপর তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য শহরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে ঢাকামুখী জনস্রোত কমানো সম্ভব হতে পারে।

একই সঙ্গে সহজ অর্থায়নে আবাসন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জমির বাজারে কার্যকর নীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের নগরায়ণের চাপ এখন আর শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ বড় শহরগুলোতেও জনসংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে নাগরিক সেবা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় বাড়ছে নগর সংকট।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ শহর হলো নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের শহরগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতের একাধিক শহর—দিল্লি ২৬৮তম, বেঙ্গালুরু ৩১১তম, মুম্বাই ৩৩০তম, চেন্নাই ৩৮১তম এবং হায়দরাবাদ ৪২১তম।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক আরেক আন্তর্জাতিক সূচকেও ঢাকার নগরজীবন নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক শহর সূচকের এই ফলাফল বাংলাদেশের নগর উন্নয়নের সামনে একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে। শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, পরিবেশ, নাগরিক সেবা, সুশাসন, আবাসন ও জীবনমান নিশ্চিত করেই গড়ে তুলতে হবে বাসযোগ্য শহর।

অপরাধ স্বীকার না করলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন কঠিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
অপরাধ স্বীকার না করলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন কঠিন

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা ‘রিকনসিলিয়েশন’ অসম্ভব নয়। তবে এ প্রক্রিয়া শুরুর আগে দলটিকে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বক্তব্যের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা করা কঠিন। আওয়ামী লীগকেই এ বিষয়ে প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অনেক মানুষ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। দলের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়। বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে এর আগে রিকনসিলিয়েশনের মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. জাহেদ বলেন, মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে সরকারের প্রতি হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দিক থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা শুরু করা কঠিন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলের প্রধান নেত্রী– তিনি এখনও দোষারোপ করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সারাদেশে নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। এ জন্য সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না– এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোলাবাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার যে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে। তিস্তা প্রকল্পে শুধু নদীশাসন নয়, বর্ষার পানি কীভাবে ধরে রাখা যায়– ওয়াটার রিটেনশনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করেই পদক্ষেপ নেবে।
বাজার তদারকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালালেই সব সমস্যার সমাধান হবে– সরকার এমনটি মনে করে না। আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীরা যাতে পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারে সরবরাহ ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
ভিজিএফের চাল ২০ কেজি করার উদ্যোগ
নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চালের বরাদ্দ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আলম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শিরোনাম সহ সম্পাদনা

বৈদেশিক ঋণের অর্থ রাখতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এফসি হিসাব খোলার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
বৈদেশিক ঋণের অর্থ রাখতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এফসি হিসাব খোলার সুযোগ

অনুমোদিত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের জন্য যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ফরেন কারেন্সি (এফসি) হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৈদেশিক অর্থায়নের আওতায় আন্তঃসীমান্ত পরিশোধের কার্যক্রম সহজ করতে বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী, বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির (আইবিএ) ফরেন লোন/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট-সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি কমিটি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং/অথবা স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনের অনুমোদন নিতে হবে।

অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের অনুমোদন ও বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ ধরনের হিসাবে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে আমদানি মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবার মূল্য পরিশোধেও এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এফসি হিসাবের বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় ভাঙানো যাবে। এ ছাড়া ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী এসব হিসাবের স্থিতির ওপর সুদ বা মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকবে।

বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগও রাখা হয়েছে সার্কুলারে। ঋণচুক্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের শর্ত থাকলে ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত এফসি হিসাব চালু রাখা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি স্থিতি রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ অনুমোদিত বৈদেশিক অর্থায়নের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিচালনাগত নমনীয়তা বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে আমদানি ও সেবা মূল্য পরিশোধ, অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় এবং বৈদেশিক ঋণের নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীর মৃত্যু, তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীর মৃত্যু, তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার একটি গবেষণা কেন্দ্রে সংক্রামক প্লেগে এক কর্মীর মৃত্যুর খবরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে মস্কোর কাছ থেকে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছে ওয়াশিংটন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে প্লেগের বিস্তার ঠেকাতে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের একটি প্লেগ গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর ঘটনাকেও তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস মস্কোকে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোলামেলা তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মস্কোর কাছে আরও তথ্য চেয়েছি। তথ্য বিনিময়ের জন্য বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ রাখছি।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘ডিমার্শে’ নামে পরিচিত একটি কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে রাশিয়ার কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

আইসল্যান্ড সফরের সময় মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে স্বচ্ছ থাকতে এবং বিশ্বের সঙ্গে আরও বেশি তথ্য বিনিময় করার আহ্বান জানাই। এতে আমরা সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারব।’

পরে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় আসলে কী ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাঁর (পুতিন) সঙ্গে আমার ফোনালাপের সূচি নির্ধারিত আছে। খুব শিগগিরই ফোনালাপ হবে।’

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী তথ্য দিচ্ছে, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব গভীর আলোচনার মধ্যে আছি। সম্ভবত আগামীকাল (বুধবার) এ বিষয়ে তথ্য জানাতে পারব।’গত শুক্রবার রাশিয়ার গণমাধ্যম ‘পিপল অব বৈকাল’ জানায়, মারা যাওয়া ওই নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা (২৮)। ভেঙে যাওয়া একটি টেস্ট টিউব থেকে তিনি নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য গণমাধ্যমেও পরীক্ষাগারে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার সঙ্গে দারিয়ার মৃত্যুর সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।

‘পিপল অব বৈকাল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিয়ার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি নথিতে দাবি করা হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রাশিয়ার স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রোসপোট্রেবনাদজোর এ দাবি অস্বীকার করেছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা রাশিয়ার কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য পেয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ইরকুতস্ক শহরে বিপজ্জনক কোনো রোগের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়নি।

তবে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস মস্কোকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে সংক্রামক ধরনগুলোর একটি, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। অন্যদিকে, বিউবনিক প্লেগ সাধারণত সংক্রমিত পোকামাকড়ের মাধ্যমে ছড়ায়।

ডব্লিউএইচওর মতে, নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

সোমবার ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর জবাবে মঙ্গলবার রোসপোট্রেবনাদজোর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত মস্কো।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রুশ সংস্থাটি। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে দেশটিতে হামের প্রকোপ বৃদ্ধির কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর রাশিয়ার ইরকুতস্কে প্লেগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের কর্মীর মৃত্যুর সঙ্গে ওই সম্মেলনের কোনো সম্পর্ক নেই।