সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২

তেলের পাম্পে ‘তেল নেই’ ঘোষণা: যুদ্ধের ছায়া, নাকি কৃত্রিম সংকট?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তেলের পাম্পে ‘তেল নেই’ ঘোষণা: যুদ্ধের ছায়া, নাকি কৃত্রিম সংকট?

প্রতীকী ছবি

রাজধানী ঢাকার রাজপথে গতকাল এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের ছবি ফুটে উঠেছে। একদিকে সরকারের নীতিনির্ধারক ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাস—‘তেলের কোনো অভাব নেই, মজুত পর্যাপ্ত’; অন্যদিকে সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা—‘পাম্পে তালা, মাইকে তেল নেই ঘোষণা’। মধ্যপ্রাচ্যের ইরানইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ যেন হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশের তেলের বাজারেও এসে লেগেছে।

গতকাল সকাল থেকে ঢাকা শহরের অলিগলি ও প্রধান সড়কগুলোতে যে হাহাকার দেখা গেছে, তা কেবল তেলের সংকট নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবন–জীবিকার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই রাজধানীর চিত্র বদলাতে শুরু করে। বিকেলে যেখানে দীর্ঘ সারি ছিল, শনিবার সকালে সেখানে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা কিংবা ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড।

অথচ গতকালই জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে দাবি করেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী সপ্তাহেই নতুন তেলের জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। কিন্তু মন্ত্রীদের এই আশ্বাস মাঠপর্যায়ে তেমন কোনো স্বস্তি ফেরাতে পারেনি। বরং পাম্প মালিকদের একাংশের রহস্যময় আচরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থবিরতা সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

রাজধানীর তেজগাঁও, সাতরাস্তা ও ধানমন্ডি এলাকার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রবেশপথ দড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন।

পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ কমে গেছে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাম্প মালিকদের একটি অংশ ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় তেল মজুত করে রাখছে অথবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

মগবাজারের একটি পাম্পের ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গতকাল রাতেও তেলের জন্য মানুষ মারামারি করেছে। আমাদের যে পরিমাণ তেল ছিল, তা রাতেই শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ডিপো থেকে গাড়ি আসেনি।”

তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কিছু পাম্প পরিচিত গ্রাহকদের কাছে বা বেশি দামে গোপনে তেল বিক্রি করছে। এই অরাজকতা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর কোনো নজরদারি চোখে পড়েনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এর প্রভাব এখনই তেলের ‘শূন্য মজুত’ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা নয়। তাদের মতে, এটি মূলত একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক সংকট’।

এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হচ্ছেঃ  ১. প্যানিক বায়িং: অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করছেন।  ২. গুজব: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে’ ধরনের বার্তায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পাম্পে ভিড় করছেন।  ৩. বাজার নিয়ন্ত্রণহীনতা: সরকারের আশ্বাসের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল না থাকায় মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দ্রুত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে এবং পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়ানো না হলে এর প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। পরিবহন ধর্মঘট বা ভাড়া বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

যারা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে সরকারকে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরাঃ ডিপো থেকে সরবরাহ ত্বরান্বিত করা: বর্তমান মজুত থেকে দ্রুত পাম্পগুলোতে তেল পৌঁছে দেওয়া।  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা: তেল থাকা সত্ত্বেও ‘নেই’ বলে বিক্রি বন্ধ রাখা পাম্পগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।  সঠিক তথ্য প্রকাশ: প্রতিদিন কোন পাম্পে কত তেল সরবরাহ হচ্ছে, তা সরকারিভাবে প্রকাশ করা।

যুদ্ধ পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তেই হোক না কেন, তার মাশুল যেন দেশের খেটে খাওয়া মানুষকে দিতে না হয়—এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় টপি রানী পাল (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার নগরকুল এলাকায় নিজ বসতঘরের একটি কক্ষে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে তিনি গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত টপি রানী পাল একই এলাকার তাপস চন্দ্র পালের স্ত্রী এবং হিমাংশু পালের মেয়ে।

ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। চাকরির সুবাদে তিনি শরীয়তপুরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পরবর্তীতে স্বামীসহ নিহতের বাবা-মা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সংবাদ পেয়ে তাড়াইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বন্ধুকে থাপ্পর মারার প্রতিবাদ করায় পাপন (১৯) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদর বাজারের পাকুন্দিয়া–মির্জাপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাপন পৌরসদরের লক্ষীয়া গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে পাপনের বন্ধু রাজনের সঙ্গে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে চর পাকুন্দিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে পারভেজ ও মাসুম মিয়ার ছেলে ইমরানের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পারভেজ রাজনকে থাপ্পর মারেন। এর প্রতিবাদ করলে পাপনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে পারভেজ ও ইমরানের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক পাপনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে পারভেজ তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা পাপনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক শাহান শাহ বলেন, পারভেজ ও ইমরানসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সর্বশেষ তারা পাপনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পারভেজ ও ইমরান নামে দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে গুরুতর আহত ফার্নিচার মিস্ত্রি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (৪২) মারা গেছেন। ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ফখরুল ইসলাম উপজেলার গুজদিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ কাজল আক্তার ও রোমা আক্তার নামের দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর গ্রামের রহিম, আশিক, ফজলু ও হোসেনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একখণ্ড জমি নিয়ে ফখরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২৬ মার্চ সকালে ফখরুল ইসলাম গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় নিহতের ভাই আল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।