জিয়ার পথেই তারেক: খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধনে আজ দিনাজপুর সফর
বাংলাদেশে খালখনন কর্মসূচি মূলত ১৯৭৬–৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উদ্যোগে কৃষি উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচসুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুরু হয়। ‘জিয়া মডেল’ বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের অংশগ্রহণে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছিল। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় বেতনা নদী পুনঃখননের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণ, শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করা এবং খাদ্য উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন।
এই কর্মসূচি ছিল মূলত স্বেচ্ছাসেবামূলক এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ভিত্তিক উদ্যোগ, যেখানে স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল ও নদী খনন বা পুনঃখনন করা হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। পরে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এ কর্মসূচি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে দেশব্যাপী নদী–নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামীকাল দিনাজপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরকালে তিনি তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারত করবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হবে।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে তিনি সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে কাহারোল যাবেন। খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি দিনাজপুর শহরে যাবেন।
সফরকালে তিনি তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে সার্কিট হাউস মাঠে ইফতারে অংশ নেবেন। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রাত ৮টায় সৈয়দপুর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দিনাজপুরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। জেলা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
এদিকে তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারতের খবর প্রকাশের পর থেকে শেখ ফরিদপুর কবরস্থান-এ সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব আলী।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর সফর ঘিরে নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।










