বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। রোববার (তারিখ) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে।

এর আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় পৌঁছায়।

মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সহকারী মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এবং বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস রয়েছেন। আফরোজা আব্বাস জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী।

অতিবৃষ্টিতে নিকলীর হাওর তলিয়ে যাচ্ছে, শ্রমিক সংকটে ধান কাটায় চরম বিপাকে কৃষক

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
অতিবৃষ্টিতে নিকলীর হাওর তলিয়ে যাচ্ছে, শ্রমিক সংকটে ধান কাটায় চরম বিপাকে কৃষক

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। পানি বাড়তে থাকায় সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাকি পাকা ও আধাপাকা ধান কাটতে দেরি হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হাওরাঞ্চলের একমাত্র প্রধান ফসল বোরো ধান। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কৃষকরা প্রতি বছর এ ফসল উৎপাদন করেন। আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক হাওরে ধান কাটতে এলেও বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের কারণে সেই প্রবণতা কমে গেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা দ্রুত ও কম খরচে ধান কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

তবে চলতি মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে হাওরের খাল-বিল ও নদীনালা পানিতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক জমিতে হারভেস্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চড়া মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের কৃষক আদিত্য হাসান সাজন, শহরমুল গ্রামের আনোয়ার হোসেন এবং নিকলী সদরের কৃষক আব্দুল কাদিরসহ একাধিক কৃষক জানান, মৌসুমের শুরুতে কিছু ধান কাটা গেলেও হঠাৎ বৃষ্টি ও ঢলে জমি তলিয়ে যাওয়ায় এখন ধান কাটতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন তারা। হারভেস্টার ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় শ্রমিক মিলছে না।

শ্রমিকরা জানান, ঠান্ডা পানি, কাদামাটি ও ভারী বৃষ্টির কারণে ধান কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকির কারণে অনেকেই হাওরে কাজ করতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিকলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুস সামাদ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাদা ও পানিতে হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা শ্রমিকনির্ভর হয়ে পড়েছেন। শ্রমিক সংকটের কারণেই ধান কাটায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বৃষ্টির থাবায় হাওরের কৃষকের স্বপ্ন ডুবছে, বোরো ধান তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির থাবায় হাওরের কৃষকের স্বপ্ন ডুবছে, বোরো ধান তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই অকাল বন্যায় কৃষকের কষ্টে ফলানো সোনালী বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, ফলে স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় বোরো ধান পুরোপুরি পাকার আগেই আধাপাকা ও কাঁচা অবস্থায় তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কিছু এলাকায় পাকা ধানও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় দুই হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, সারা বছরের একমাত্র আয়ের উৎস এই ফসলই এখন ধ্বংসের পথে।

নিকলীসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, যেসব ধান কোনোভাবে কেটে আনা সম্ভব হচ্ছে, সেগুলোও রোদের অভাবে শুকানো যাচ্ছে না। উঠান ও রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা ধান পচে যাওয়া বা অঙ্কুরিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফসলহানির কারণে তারা এখন চরম ঋণের বোঝায় পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন, যা হাওর এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকদের ভাষায়, “হাওর এখন সোনালী ধানে ভরে থাকার কথা ছিল, কিন্তু প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর পরিণতিতে সবই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।”

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা এবং হাওর রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দুর্যোগের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ হতে পারে।

হাজীপুরে ভূমি অফিসের সীমানা জটিলতা, জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
হাজীপুরে ভূমি অফিসের সীমানা জটিলতা, জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হাজীপুর কাচারী বাজার ভূমি অফিসের জায়গার সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে অবহিত না করেই সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর স্বশরীরে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল খালেক ফকির।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক বরাবর এই আবেদন দাখিল করেন বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত বদর উদ্দিন ফকিরের ছেলে মো. আব্দুল খালেক ফকির।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত থেকে হাজীপুর কাচারী বাজার ভূমি অফিসের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করেন। তবে তাকে পূর্বে কোনো ধরনের নোটিশ বা অবহিত না করায় তিনি বা তার কোনো প্রতিনিধি ওই সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি।

ভুক্তভোগীর দাবি, উক্ত সম্পত্তির সীমানা এর আগেও একাধিকবার সরকারি সার্ভেয়ার, নায়েব এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলমান ছিল। কিন্তু পুনরায় সীমানা নির্ধারণ করায় নতুন করে বিরোধ ও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ভূমি অফিসের সীমানা ও তার ক্রয়কৃত ব্যক্তিগত সম্পত্তির সীমানা একই হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে গেলে বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে তাকে অফিস ত্যাগ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী মো. আব্দুল খালেক ফকিরের সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে হাজীপুর মৌজার হাল খতিয়ান ১৯৫ (সাবেক ৩০১), হাল দাগ ৫৭ ও ১৬৩, মোট ৩১ শতাংশ জমি। অন্যদিকে সরকারি খাস খতিয়ান-১ অনুযায়ী ৫৬ ও ১৬২ হাল দাগ সংশ্লিষ্ট জমি রয়েছে।

ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সম্পত্তির সীমানা পুনঃনির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার বৈধ দলিলমূলে ক্রয়কৃত সম্পত্তি নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছি। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সমাধান চাই।”