রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ড. এম ওসমান ফারুক এর সাথে নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ড. এম ওসমান ফারুক এর সাথে নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক এর সাথে তার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) এর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। রবিবার (০৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের হোটেল শুকতারায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম ওসমান ফারুক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত সহ অন্যান্য দলের লোকজনের সাথে আমাদের প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু কোনরূপ প্রতিহিংসা থাকবে না। করিমগঞ্জ তাড়াইলের সকল মানুষের কল্যাণের জন্য আমি বিশ্বব্যাংকের চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। আজীবন সকলের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই। মতবিনিময় সভায় তার স্ত্রী রানা ফারুক, চাচাতো ভাই মিসবাহ উদ্দিন টুটুল, করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান দুলাল সিকদার, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক রোষানলে মিথ্যা যুদ্ধপরাধ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তাকে দীর্ঘ আট বছর প্রবাসে থাকতে হয়েছে। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর গত বছর অক্টোবরে তিনি দেশে ফেরেন।

গত ৩রা নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬৪, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) থেকে দল তাকে মনোনয়নের জন্য নির্বাচিত করেন। ৫ নভেম্বর তিনি পুনরায় দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। আগামী ১৫ নভেম্বর করিমগঞ্জ পৌর বিএনপির আয়োজনে করিমগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে ও ১৭ নভেম্বর তাড়াইল উপজেলা বিএনপির আয়োজনে তাড়াইল কলেজ মাঠে সংবর্ধনা সভায় যোগদানের কথা রয়েছে।

এদিকে সংবর্ধনা ঘিরে তার নির্বাচনী এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। করিমগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আশরাফ হোসেন পাভেল জানান, সংবর্ধনার জন্য বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। পৌর এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক গেইট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও জনসাধারণের মিলনমেলা হবে স্মরণকালের এ সংবর্ধনা।

কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পর্শে কিশোরীর মৃত্যু, আহত মা-দাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পর্শে কিশোরীর মৃত্যু, আহত মা-দাদি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে বসতঘরের টিনের চালে ছড়িয়ে পড়া বিদ্যুতে বিদ্যুৎস্পর্শে আমেনা আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হয়েছেন তাঁর মা ও দাদি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উত্তর অষ্টঘরিয়া (নয়াপাড়া) গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমেনা আক্তার ওই গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই ওই এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে আমেনা বাড়িতে ফিরে বসতঘরের টিনের দরজার সামনে হেলান দেন। এ সময় বিদ্যুৎস্পর্শে আটকে যান তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাশের একটি ঘরে মেরামতের কাজ চলছিল। ওই ঘর থেকে দাদির ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য ঝুলিয়ে রাখা জোড়াতালি দেওয়া একটি তারে লিকেজ ছিল। সেই লিকেজের কারণে বিদ্যুৎ টিনের চালে ছড়িয়ে পড়ে। পরে টিনের দরজায় হেলান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমেনা বিদ্যুৎস্পর্শে আক্রান্ত হন।

আমেনাকে বিদ্যুৎস্পর্শে আক্রান্ত অবস্থায় দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর মা ও দাদিও বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হন।

পরে পরিবারের সদস্যরা আমেনাকে দ্রুত কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত মা ও দাদিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। নিহত আমেনা আক্তারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পাকুন্দিয়ায় হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে মৃত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে মৃত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ভাবীকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আজহারুল ইসলাম মিলন (২৪) কারাগারে মারা গেছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ২০ মিনিটে অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য আজহারুল ইসলামের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

মৃত আজহারুল ইসলাম পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরের মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম সায়েম উদ্দিন।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ জুন সকালে পারিবারিক কলহের জের ধরে বড় ভাই বাবুলের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন আজহারুল ইসলাম।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাসলিমা আক্তারকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাসলিমা আক্তার পাকুন্দিয়া সদরের ছয়ছির গ্রামের ফজর আলী ও সৈয়দ বানুর মেয়ে।

ঘটনার পর ওই দিন দুপুরের দিকে আজহারুল ইসলাম নিজেই পাকুন্দিয়া থানায় গিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন।

পরদিন নিহত তাসলিমার ভাই শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে আজহারুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তের পর ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ জিয়াউল রাব্বী।

মামলাটির দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১০ জুন কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর পর এখন নতুন করে গুপ্ত শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর পর এখন নতুন করে গুপ্ত শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে’

কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংগঠনটিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আগে কখনো ‘রাজাকার’, কখনো ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলা হয়েছে। এখন নতুন করে ‘গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রশিবিরকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন জাহিদুল ইসলাম।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এখনো আমাদেরকে নানা প্রোপাগান্ডা, নানাভাবে অপবাদ দেওয়া হয়। কখনো আমাদেরকে রাজাকার, কখনো যুদ্ধাপরাধী বলা হয়েছে। এখন একটা শব্দ বের হয়েছে ‘গুপ্ত’। তোমাদের এখানে আসার আগেও শুনলাম ‘গুপ্ত’।”

তিনি আরও বলেন, “এত সুন্দর বড় একটি অনুষ্ঠান শিল্পকলায় হচ্ছে, এরপরও কেউ না কেউ ফেসবুকে এসে লিখবে ‘গুপ্ত’। তার সঙ্গে একসঙ্গে বসে আমরা টকশো করছি, এরপরও তিনি আমাদেরকে বলছেন ‘গুপ্ত’।”

একটি ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, “আমরা কিছু কিছু জায়গায় বলেছি, আপনাদের সাংগঠনিক যত কাজ, সবগুলো কাজ দেশের মানুষের কাছে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শো করুন। ছাত্রশিবির যে কাজ করেছে, তাও শো করুন।”

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এরপরও তারা মেনে নেবে না। সব দায় আমাদের ওপর দিয়ে দেবে। মনে আছে, একটি সংবাদ সম্মেলনে বলছিল, শিবিরের ওপর দায় দিয়ে দাও।”

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্লাস পাওয়া পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবু আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক, সাবেক নায়েবে আমির মুসাদ্দেক ভূইয়া, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ ছাত্রশিবিরের নেতারা।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও সাফল্য কামনা করা হয়।