বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঝিনাইদহ-৪ এ ধানের শীষে রাশেদ খানের নাম আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঝিনাইদহ-৪ এ ধানের শীষে রাশেদ খানের নাম আলোচনায়

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন—এমন গুঞ্জন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও রাশেদ খান শুরুতে ঝিনাইদহ-২ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন, তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঝিনাইদহ-৪ আসনে তার পক্ষে নির্বাচনী সভা করবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি ওই আসনে প্রার্থী হতে সম্মত হন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাশেদ খান নিজেই গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলে জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে দলটি। এর আগে ঝিনাইদহ-২ আসনে অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং ঝিনাইদহ-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান রনিকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

তবে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খানের নাম ছড়িয়ে পড়ার পর কালীগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যদিও দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া সাময়িক।

দেখা যায়, নতুন করে রাশেদ খানের নাম আলোচনায় আসায় কালীগঞ্জের সাধারণ ভোটার ও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে কিছুটা নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, বিগত দিনে কালীগঞ্জে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।

স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে এই দুই নেতা হেভিওয়েট হিসেবে পরিচিত। তাদের পাশ কাটিয়ে রাশেদ খানকে প্রার্থী করায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে দাবি করছেন অনেকে। সাধারণ ভোটারদের ধারণা, এর প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলেও পড়তে পারে।

কালীগঞ্জের একাধিক তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী জানান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতের সঙ্গে। বর্তমান নির্বাচনী হালচালও সে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের মতে, এই আসনে দলের ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের প্রার্থী করা হলে বিএনপির ভোটের পাল্লা আরও ভারি হতো। তবে রাশেদ খান প্রার্থী হলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে গুঞ্জন রয়েছে, রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি যদি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ওই প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে নির্বাচনী সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, সেক্ষেত্রে রাশেদ খান বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারেন।

কালীগঞ্জের সাধারণ ভোটার শাহ আলম বলেন, “কালীগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি বলতে হামিদ ভাই ও ফিরোজ ভাইকেই আমরা চিনি। তাদের যেকোনো একজনকে প্রার্থী হিসেবে পাবো বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি।”

ঝিনাইদহ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিএনপির সঙ্গে আমাদের জোট রয়েছে। সে কারণেই বিএনপি ঝিনাইদহ-৪ আসন রাশেদ খানের জন্য ছেড়ে দিয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

মনোনয়নের বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, “মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ উপস্থিত ছিলেন। ওই আলোচনায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে আমাকে প্রার্থী করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, “ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খানই লড়বেন। তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের সহযোদ্ধা। তিনি যদি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করেন, তাহলে তিনি আমাদেরই প্রার্থী। সে ক্ষেত্রে বিএনপির সব নেতাকর্মী তার পক্ষেই কাজ করবেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবো।”

কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বুধবার(২২ জুলাই) কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাছরিফুল হাছিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। চিকিৎসার অভাবে যাতে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা সহায়তা ও বিশেষ অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে। সেই কষ্ট লাঘব করতেই সরকার বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, বরং অসহায় মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।

বক্তারা বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সুফল ইতোমধ্যে লাখো মানুষ পাচ্ছেন। চিকিৎসা সহায়তার এ বিশেষ অনুদান কর্মসূচিও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আটজন অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যেককে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। উপকারভোগীরা সরকারের এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উপকারভোগী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে পাকুন্দিয়ার সেরা আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে পাকুন্দিয়ার সেরা আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের ঐক্য, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যুক্তি, তথ্যনির্ভর উপস্থাপনা এবং দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণবন্ত বিতর্কে অংশ নেয়।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসতেহাদ আহমেদ এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুন্নাহার।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া এবং উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তামান্না দিলশাত রিমি। মডারেটর ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শারফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক তরীকুল হাসান শাহীন। এ সময় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে হোসেন্দী উচ্চ বিদ্যালয় ও আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মুখোমুখি হয়। যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা, তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য এবং বিশ্লেষণধর্মী বিতর্কের মাধ্যমে আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। আয়োজকরা জানান, চ্যাম্পিয়ন দলটি পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রতিনিধিত্ব করবে।

পাকুন্দিয়ায় কৃষক হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় কৃষক হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আলোচিত কৃষক নুর ইসলাম (৭০) হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পোড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন— হাতিছ মিয়া (৪০) ও রশিদ মিয়া (৬৫)। তারা উভয়েই কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

র‍্যাব জানায়, নিহত নুর ইসলাম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায়ই নুর ইসলামের আবাদি জমির ফসল গবাদিপশু দিয়ে নষ্ট করতেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা হয়।

গত ২৩ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নুর ইসলাম নিজ ফসলি জমিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোবারক মিয়া বাদী হয়ে ২৪ জুন পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ১১৪, ৫০৬ ও ৩৪ ধারার সঙ্গে পরবর্তীতে ৩০২ ধারা সংযুক্ত করে রুজু করা হয়।

মামলা দায়েরের পর র‍্যাব-১৪-এর সিপিসি-২ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে র‍্যাব-১-এর সিপিএসসি পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সহায়তায় গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পোড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41