বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে চারটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব উদ্যোগের বিষয়ে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা, বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। পুরোনো বাস অপসারণ, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ—সব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।’

রাজধানীর যানজট এখন শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ নয়; এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে কাটাতে হয়। এতে উৎপাদনশীলতা কমে এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করে ঢাকার যানজটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি।

রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনের কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গণপরিবহনের মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ফলে গণপরিবহনের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলে সেগুলোর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশগত সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তজেলা বাসের প্রবেশ ও বহির্গমন নগরের চলাচলে প্রভাব ফেলে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর বা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কে বাসের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে টার্মিনাল স্থানান্তর শুধু বাস রাখার স্থান পরিবর্তনের বিষয় নয়। নতুন টার্মিনালের অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীদের যাতায়াতের সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলেও সেখান থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পর্যাপ্ত বাস, মেট্রোরেল বা অন্যান্য পরিবহন সংযোগ না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

আন্তজেলা বাসের যাত্রা শুরু ও শেষের স্থান এবং মহানগরীর অভ্যন্তরীণ বাস চলাচলের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হওয়ার নির্দিষ্ট পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, বাসের অপেক্ষমাণ জায়গা এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা গেলে আশপাশের সড়কে চাপ কমানো সম্ভব।

রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের উদ্যোগ গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংস্কারের আওতায় কোন কোন রুট রয়েছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।

রুট সংস্কার বলতে শুধু সড়কের উপরিভাগ মেরামত নয়। বাস চলাচলের পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, স্টপেজের অবস্থান, সংযোগকারী সড়ক এবং যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকার বিভিন্ন সড়কে একই পথে একাধিক বাস কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তোলার জন্য হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আবার কিছু এলাকায় যাত্রীর তুলনায় বাসের সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রুট সংস্কারের পরিকল্পনায় এসব সমস্যা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

যাত্রী চলাচলের তথ্য, কর্মব্যস্ত সময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অবস্থান এবং মেট্রোরেলসহ অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বাসের সময়সূচি, যাত্রীর অপেক্ষার সময় এবং রুটভিত্তিক পরিবহন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

রুট পরিবর্তনের ফলে কোনো এলাকার যাত্রী যেন সরাসরি পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প রুট ও সংযোগকারী বাস চালু করা গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।

রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচল, যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন নীতিমালায় যানবাহনের নিবন্ধন ও পরিচিতি, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত চলাচল এলাকা, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোন সড়কে কোন ধরনের যান চলাচল করবে, তা সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা, নির্ধারিত স্ট্যান্ড এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা না থাকলে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সুফল সীমিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বাসসকে বলেন, ‘পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন জরুরি। পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা, টার্মিনাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন স্থানের সঙ্গে নগর পরিবহনের সংযোগ, রুট সংস্কারের সঙ্গে বাস পরিচালনার সমন্বয় এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিকল্প যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহনমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোন সংস্থা কী কাজ করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

পরিবহন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বাসের ফিটনেস পরীক্ষা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজ কার্যকর করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার, গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা এবং পরিবহনের নিয়মিত চলাচলকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা সুফল দিচ্ছে, তা পরিমাপ করা সহজ হবে।

রাজধানীর সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নীতিমালা বা অবকাঠামোগত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ধারাবাহিক তদারকি, আইন প্রয়োগ, জনসম্পৃক্ততা এবং গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা। চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার যানজট কমানো ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে: রিজভী

বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তাঁর দাবি, এ সম্পর্কের প্রমাণও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বিরোধী দল জামায়াতের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সম্পর্ক আছে, এটির প্রমাণ রয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি অপপ্রচারকারী দল, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুপ্ত দল। এই দুটি দলের সঙ্গে অপপ্রচারে কেউ পারবে বলে মনে হয় না।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কারণে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সরকার সফলভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব সম্পন্ন করতে পেরেছে।

চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যান, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

দুই সপ্তাহে দুই দফা কমল সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
দুই সপ্তাহে দুই দফা কমল সোনার দাম

দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ২৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছিল। সেদিন ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা।

তরুণদের বিক্ষোভে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
তরুণদের বিক্ষোভে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভের পেছনে আন্তর্জাতিক বামপন্থী নেটওয়ার্কের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে মার্কিন ব্যবসায়ী নেভিল রয় সিংহাম ও ভারতীয় মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী বিজয় প্রসাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিক্ষোভে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকার অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ফক্স নিউজের  দাবি করা হয়েছে, কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের প্রচার ও বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই নেটওয়ার্কের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই নেটওয়ার্ক ভারতে ছাত্রবিক্ষোভেও সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এসব বিক্ষোভকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের কারণ ও প্রেক্ষাপট এক নয়। বিক্ষোভগুলোর মধ্যে সমন্বিত কোনো আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে নেভিল রয় সিংহামের অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সিংহাম বর্তমানে চীনের সাংহাইয়ে বসবাস করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বামপন্থী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমকে অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

২০২৩ সালের আগস্টে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে সিংহামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর অভিযোগ করা হয়েছিল। ওই অর্থের একটি অংশ বামপন্থী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ফক্স নিউজ ওই প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে সিংহামের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বিজয় প্রসাদকেও সিংহামের ভারতীয় সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রসাদ একজন মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও পুঁজিবাদের সমালোচক হিসেবে তিনি পরিচিত। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর নেত্রী বৃন্দা কারাতের ভাতিজা।

তবে সিংহাম ও প্রসাদ ভারতের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সংগঠিত বা পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে তাঁদের সঙ্গে বিক্ষোভগুলোর সম্ভাব্য সম্পর্কের অভিযোগকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এক টেলিভিশন আলোচনায় ভারতের কয়েকটি বিক্ষোভের পেছনে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা থাকতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়। আলোচনায় মিসরের জেসমিন বিপ্লব এবং শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন আন্দোলনের ক্ষেত্রেও বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অতীতে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ আসে। বিজেপির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত তৎপরতার ভূমিকা থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে এসব আন্দোলনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা। কোনো একটি আন্দোলনে বিদেশি ব্যক্তি বা সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেই অন্য আন্দোলনগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিকল্পনা ছিল বলে ধরে নেওয়া যায় না। প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিযোগের পক্ষে স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

ভারতের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগও ওই আলোচনায় উঠে আসে। রাহুল গান্ধীর দাবি, দেশে ভোট চুরি হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এর জবাবে বিজেপির এক নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয় এবং ২০২৪ সালে আসনসংখ্যা কমে যাওয়ার পরও এনডিএ সরকারের ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি বিরোধীদের অবস্থানের পরিবর্তন তুলে ধরে।

বিজেপি নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো সেসব নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছে। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও উপদেষ্টা ‘ভোট চুরি’র বয়ান সামনে এনেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে নির্বাচন নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ এবং তার জবাবে বিজেপির বক্তব্য—দুটিই রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অবস্থান। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন, অভিযোগ ও প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিক গৌরব সাওয়ান্ত বলেন, বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভের মধ্যে যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তদন্তের বিষয়। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তা প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের বিক্ষোভের পেছনে একই ধরনের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করছে কি না, কিংবা কোথাও সমন্বিত সাংগঠনিক তৎপরতা রয়েছে কি না—তা বুঝতে প্রতিটি আন্দোলনের নিজস্ব প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে দায়ী করার আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, স্বাধীন যাচাই ও যথাযথ তদন্তের প্রয়োজনীয়তাও এ আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।