কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে বহির্বিভাগে সেবা নিতে রোগীদের ভোগান্তি চরমে
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিনই রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পেতে ভোগান্তির শেষ নেই। সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন। পুরুষ, মহিলা ও শিশু—তিন ভাগে আলাদা কাউন্টার থাকলেও জনস্রোত সামাল দেওয়া দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২০ সাল থেকে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে শেয়ার্ড হেলথ রেকর্ড ও অটোমেশন কার্যক্রম চালুর কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এ সুবিধা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে রোগীর পুরোনো ইতিহাস হাতে-কলমে যাচাই করতে গিয়ে চিকিৎসকদের সময় ব্যয় বেশি হচ্ছে এবং প্রতিটি বিভাগে ৫০ থেকে ১০০ জন রোগীর দীর্ঘ লাইন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় হাজারখানেক রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন। কম সংখ্যক মেডিকেল অফিসার দিয়ে এমন চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। রোগীদের অভিযোগ স্বল্প জনবল ও অটোমেশন না থাকার কারণে চিকিৎসা পেতে সময় লাগছে কয়েক ঘণ্টা।
কয়েকজন রোগী জানান, যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকেলে স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা চালু করে যেমন ১০০ টাকায় সাধারণ চিকিৎসা ও ২০০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, তাহলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা যথাযথ সেবা পেতে পারবে। তারা বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা ভিজিট দিয়ে চিকিৎসা করানো অনেকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে, উপরন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও বহন করা কষ্টকর। এ কারণে অনেকেই চিকিৎসা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।এতে মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে ঠিক তেমনি মানবিক দিক থেকে বিষয়টি খুবই অমানবিক।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হাসপাতালের সব সেবা অটোমেশনের আওতায় আনার ঘোষণা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এনআইডি ভিত্তিক সেবা চালু হলে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে, ফলে চিকিৎসা সেবা দেওয়া আরও সহজ হবে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নূর মো. শামসুল আলম বলেন,
“এনআইডি কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করতে পারিনি, তবে কাজ চলছে। জনবল সংকটের কারণে কিছু ডিপার্টমেন্ট যেমন চক্ষু বিভাগ বন্ধ আছে। আমরা বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ে জনবল চাহিদা পাঠিয়েছি। বিকেল বেলা অতিরিক্ত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।”
রোগী ও সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতালের অটোমেশন চালু করা এবং বিকেলে স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা চালু করলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসা সহজ হবে এবং সার্বিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array