বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

উমরা পালনের আগে যে বিষয়গুলো ভাবা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:০১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
উমরা পালনের আগে যে বিষয়গুলো ভাবা জরুরি

উমরা ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গুনাহ থেকে ক্ষমা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মুসলমানরা মক্কায় গিয়ে এই পবিত্র ইবাদতে অংশ নেন। তবে উমরার মতো আত্মিক সফরে যাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিন্তা ও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

নিয়ত শুদ্ধ করা:
উমরার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা। কোরআনে বলা হয়েছে, “তাদেরকে আদেশই করা হয়েছিল যে তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে, তার প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে।” (সূরা আল-বায়্যিনাহ: ৫)।
অতএব, উমরা করার উদ্দেশ্য যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়—খ্যাতি বা সামাজিক স্বীকৃতির জন্য নয়।

ক্ষমা প্রার্থনা:
নবী করিম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি হজ বা উমরা করল এবং কোনো অশ্লীল কথা বা গুনাহর কাজে লিপ্ত হলো না, সে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।” (সহিহ বোখারি: ১৫২১)।
উমরার আগে আত্মসমালোচনায় মনোযোগ দিন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার মনোভাব তৈরি করুন।

প্রতিটি আমলের তাৎপর্য অনুধাবন করা:
ইহরাম পরা, কাবা তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া সাঈ—সবকিছুরই গভীর অর্থ রয়েছে। যেমন হযরত হাজেরা (আ.)-এর অনুসরণে সাঈ করা আমাদের শেখায়, আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা কীভাবে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।

মক্কা ও মদিনার মর্যাদা উপলব্ধি:
এই দুটি শহর শুধু ঐতিহাসিক স্থান নয়, ইসলামের আত্মা। কাবা হলো আল্লাহর ঘর, আর মদিনায় রয়েছে নবী করিম (সা.)-এর রওজা মোবারক। তাই সফরে সর্বোচ্চ বিনয় ও শ্রদ্ধা বজায় রাখা আবশ্যক।

ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা:
দীর্ঘ যাত্রা, ভিড়, গরম—সবকিছুই সফরের অংশ। এগুলো ধৈর্যধারণের পরীক্ষা, আর ধৈর্যও এক প্রকার ইবাদত। প্রতিটি কষ্ট গুনাহ মোচনের পথ খুলে দেয়।

দোয়া ও জিকিরে ব্যস্ত থাকা:
উমরার প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর স্মরণ ও দোয়া করুন—নিজ, পরিবার, উম্মাহ ও মানবতার কল্যাণে। এটি আল্লাহর রহমত পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম।

বিনয় ও কৃতজ্ঞতা:
উমরার সুযোগ পাওয়া মহান নেয়ামত। নবী করিম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করে, সে যেন আমার জীবিত অবস্থায় আমাকে সাক্ষাৎ করল।” (সহিহ বোখারি)।
এই সফরকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে গ্রহণ করুন এবং জীবনের পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখুন।

আত্মিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি:
উমরা শুধুই একটি ধর্মীয় সফর নয়—এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং মানুষকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করে। চেষ্টা করুন যেন এই সফর আপনাকে এক নতুন মানুষে রূপান্তরিত করে।

সকালবেলা/আর.এন

হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী মো. নাজমুল ইসলাম হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ আদালতের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আলোকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের মেচেড়া (আটকাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দখল ও বসতঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় আবেদন করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের শহীদ মিয়া, সোহাগ মিয়া, মো. ফজলু গংসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

আরও বলা হয়, বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে দখল নেওয়া এবং বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। হোসেনপুর থানা থেকে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমিতে কেউ কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, দখল বা অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীপক্ষ ওই নির্দেশনা অমান্য করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতিরোধে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টির স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ৬ নম্বর পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নান্দানিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোশারফ হোসেনকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

তার এই গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে পুমদী ইউনিয়নসহ হোসেনপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

জানা যায়, মোশারফ হোসেন এর আগে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে ওসি (ডিবি) হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

পুমদী ইউনিয়নবাসী আশা প্রকাশ করেন, তিনি নতুন কর্মস্থল সাটুরিয়া থানায়ও দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এ সময় তার সার্বিক সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মজীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।

অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত সম্মানি ভাতা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণেরও কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রতি বছর চার হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, স্বীকৃত হাসপাতালের বিল মন্ত্রণালয় পরিশোধ করে থাকে।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপজেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে তা যাচাই করে।

অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১০৩টি সভার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।