টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণভাবে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস টিকল না ওয়ানডেতে। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতেও ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হলো মেহেদী হাসান মিরাজের দল। মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে লজ্জার এক রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ-ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর। ফলাফল- ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হার এবং তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ।

সিরিজ শেষে হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সরাসরি স্বীকার করলেন ব্যর্থতার কথা, ‘আমরা স্বীকার করছি যে এই সিরিজে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। আমাদের ভুল হয়েছে অনেক। আমরা রান করতে পারিনি এবং যেসব সুযোগ পেয়েছি সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। তাদের বোলিং আক্রমণ ভালো ছিল, তবে আমাদের এর চেয়েও ভালো খেলতে হতো। দলের সবাই একমত যে আমরা ভালো পারফর্ম করতে পারিনি।’

বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে যেন ছিল পতনের মিছিল। তৃতীয় ওয়ানডেতে সাইফ হাসান একাই করেন ৪৩ রান। বাকিদের কেউই পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কে। দলের বাকি ১০ ব্যাটারের রান ছিল ফোন নম্বরের মতো-৭, ৩, ৭, ৬, ০, ২, ৪, ৫, ৯ ও ২। ম্যাচ শেষে মিরাজের কণ্ঠে তাই শোনা যায় হতাশার সুর, তবে সঙ্গে ভবিষ্যতের চিন্তাও, ‘আমরা কিছু নির্দিষ্ট দিক নিয়ে চিন্তিত। আপনি যদি রান করতে না পারেন, তাহলে জেতা সম্ভব নয়। ব্যাটিংয়ের শুরু থেকে মাঝের দিক পর্যন্ত সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। এখন আমাদের নজর দিতে হবে পরের সিরিজের দিকে।’

মিরাজের দল পুরো সিরিজে একবারও ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি। তিনি এটিকে দীর্ঘ সময় পর ওয়ানডে খেলার প্রভাব বলেও ব্যাখ্যা করেছেন, ‘প্রথমত, আপনাকে ৫০ ওভার খেলার সামর্থ্য রাখতে হবে। এই সিরিজে আমরা কোনো ম্যাচেই সেটা করতে পারিনি। আমরা অনেকদিন পর ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলেছি। এখন সবাই ভাবছে কীভাবে প্রতিটি ম্যাচে আরও ভালো করা যায়।’

পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা কতটা হতাশাজনক। সর্বশেষ ১২ ম্যাচের ১১টিতে হেরেছে দল, টানা চারটি সিরিজ হারের পাশাপাশি নেমে গেছে র‍্যাঙ্কিংয়েও-৭৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এখন তারা আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে। নবম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং ৮০। আসছে সিরিজে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই মাঠে নামবে মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে হলে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয় দলের মধ্যে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। সামনে ২৩টি ওয়ানডে বাকি থাকলেও বর্তমান পারফরম্যান্সে কাজটা হবে কঠিন। তৃতীয় ওয়ানডেতে আফগানদের কাছে ২০০ রানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর মিরাজ বলেন, ‘আমরা ব্যাটিং নিয়ে বেশ চিন্তিত। রান করতে না পারলে জেতা সম্ভব না। টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটারদের ধারাবাহিকভাবে রান করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কীভাবে ভালো করা যায়, সেটা নিয়েই আমরা এখন ভাবছি, এখন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর।’

ওয়ানডেতে এই নিয়ে ছয়বার ২০০ বা তার বেশি রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩৩ রানে হারের পর এই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০০ রানের হার বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম লজ্জার হার হিসেবে জায়গা করে নিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *