বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৮ ১৪৩২
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৮ ১৪৩২

বাংলাদেশের সঙ্গে বৈষম্য? আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নিয়ে প্রশ্ন তুলল উইজডেন

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাংলাদেশের সঙ্গে বৈষম্য? আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নিয়ে প্রশ্ন তুলল উইজডেন

আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যার পরিবর্তে টুর্নামেন্টে খেলবে স্কটল্যান্ড। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে খেলতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। অথচ গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের জন্য ভারতের করা অনুরূপ দাবিকে মেনে নিয়েছিল সংস্থাটি। এ দুই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিখ্যাত ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নয়?

এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি দিয়ে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রভাব পড়ে এই ক্রিকেটারকে ঘিরেও। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত নানা ‘প্রোপাগান্ডা’র প্রভাবে কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে।

এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই কেকেআরকে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ আসন্ন বিশ্বকাপ ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, স্টাফ, সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়।

কিন্তু ভারতীয় জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আমলে নেয়নি। বরং বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে বলে কঠোর অবস্থান নেয় সংস্থাটি এবং অন্যথায় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

উইজডেন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, একই ধরনের ঘটনা ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগেও ঘটেছিল। টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানে আয়োজনের কথা থাকলেও ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা পাকিস্তানে সফর করবে না। নিজেদের ম্যাচের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যুর দাবি তোলে দেশটি। দীর্ঘ আলোচনার পর আইসিসি সেই দাবি মেনে নেয় এবং ভারত তাদের সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলে। একই ভেন্যুতে সব ম্যাচ খেলার সুবিধা নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারত টুর্নামেন্টের শিরোপাও জিতে নেয়।

উইজডেনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায্যতা আদৌ কি শর্তসাপেক্ষ—সে প্রশ্ন এখন জোরালো হয়েছে। ভারত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তিন মাস সময় পেয়েছিল, অথচ সূচি ও গ্রুপ ঘোষণার পর বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র এক মাস। শুধু সময়ের ব্যবধান কি আইসিসির এই বৈষম্যমূলক অবস্থানকে ন্যায্যতা দিতে পারে?

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংকট তৈরিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ভূমিকা উপেক্ষা করা যায় না। বিসিসিআই কখনোই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে স্পষ্টভাবে নিরাপত্তার কথা বলেনি; ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’—এই অস্পষ্ট ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এটিকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখেছে। যুক্তি ছিল—যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে পুরো দল কীভাবে নিরাপদ থাকবে?

উইজডেন আরও মন্তব্য করেছে, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ছিল নিঃশর্ত ও অনুতাপহীন। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একজন খেলোয়াড়কে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বিসিসিআই কার্যত দেখিয়ে দিয়েছে, ক্রিকেট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে। প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্রিকেটকে রাজনৈতিক বার্তার বাহন বানানো হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ম্যাগাজিনটি।

বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারত জানে তাদের অর্থনৈতিক শক্তি ও সুপারস্টার নির্ভর বাজার ছাড়া আইসিসির টুর্নামেন্ট কার্যত অচল। সে কারণেই তারা পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পেরেছে। শুরু থেকেই পাল্লা ভারতের দিকেই ভারী ছিল। বাংলাদেশের সেই সামর্থ্য না থাকায়, নীতিগত অবস্থান নেওয়ার খেসারত হিসেবেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে তাদের।

উইজডেনের উপসংহারে বলা হয়েছে, আইসিসি এখন নীতি-নৈতিকতা ও ন্যায্যতার মানদণ্ডের চেয়ে ভারত তোষণেই বেশি মনোযোগী। অর্থনৈতিক শক্তির জোরে ভারত আইসিসি এবং অনেক সদস্য দেশকে দিয়ে নিজেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত আদায় করে নিতে সক্ষম হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য আত্মমর্যাদা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রেখে রুখে দাঁড়ানোই একমাত্র পথ।

কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ধানক্ষেতে উদ্ধার সদ্যোজাত কন্যাশিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ধানক্ষেতে উদ্ধার সদ্যোজাত কন্যাশিশু

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে সদ্যোজাত এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের খৈরাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মহাসড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান এক পথচারী। পরে বিষয়টি স্থানীয় অটোচালক হালিম মিয়াকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে নতুন কাপড় পরিয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। উদ্ধারকালে শিশুটির শরীরে রক্তের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, শিশুটিকে জন্মের তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছিল।

অটোচালক হালিম মিয়া জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিশুটিকে ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মানবিক কারণে তিনি শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে পরিচর্যা করেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান হাসপাতালে গিয়ে নবজাতকের খোঁজখবর নেন। তিনি শিশুটির চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে কটিয়াদীর সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
ঈদ উপলক্ষে কটিয়াদীর সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলাজালালপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৫৩৯টি কার্ডধারী দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

এ উপলক্ষে জালালপুর ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ৪৫ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা কটিয়াদী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম রবিন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র পাল, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাইনুল হক মেনু, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হক, প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মতিন আসাদ, ইউপি সদস্য মো. দিদারুল ইসলাম, মো. শাহাদাৎ হোসেন, মো. খোকন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মনোয়ারা বেগমসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৫৩৯টি কার্ডধারী দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রথম দিনে ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে।

উন্নয়ন ও বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন ও বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব: নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার এই উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নাগরিক ও সাংবাদিক মনে করছেন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে এমন উদ্যোগের মাধ্যমে।

সম্প্রতি এক লাইভ উপস্থাপনায় তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ এবং সেই অর্থ ব্যয়ের খাতসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি, চলমান প্রকল্প এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দেন।

এই উপস্থাপনা দেখে অনেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন স্বচ্ছ ও তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা খুব কমই দেখা যায়। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি নিজেই তার এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পূর্ণ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ে এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা শক্তিশালী হয়।

কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক মারুফ আহমেদ তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহর পুরো প্রেজেন্টেশনটি আমি মনোযোগ দিয়ে একাধিকবার দেখেছি। নিজের নির্বাচনী এলাকার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়ে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেখে আমিও অনেক কিছু নতুন করে জানতে পেরেছি। এতে নিজের সংসদীয় এলাকা নিয়েও একইভাবে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থ কোথা থেকে আসে, কীভাবে ব্যয় হয় এবং সেই কাজের অগ্রগতি কী—এসব তথ্য জানা সাধারণ ভোটারদের অধিকার। একজন জনপ্রতিনিধি যখন স্বেচ্ছায় এসব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তখন তা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা দাবি-দাওয়া থাকলেও সেগুলোর বিস্তারিত আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থাপন করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা বা বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না।

এই প্রেক্ষাপটে হাসনাত আব্দুল্লাহর তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনাকে অনেকেই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি তার এলাকার প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে তা অন্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রে জনগণ শুধু ভোটার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিক। তাই জনগণের অর্থ দিয়ে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব জনগণের কাছে তুলে ধরা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, যদি দেশের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য এভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন, তাহলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

তাদের ভাষায়, “হাসনাত আব্দুল্লাহ হয়তো একটি নতুন ধারা শুরু করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও যদি একইভাবে জনগণের সামনে তাদের কাজের হিসাব তুলে ধরেন, তাহলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের সূচনা ঘটতে পারে।”