কিশোরগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২২ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত
কিশোরগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ জন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে মোট ৬৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন এবং কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এ ছাড়া বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, ভৈরবে ১০ জন, করিমগঞ্জে ৫ জন, কুলিয়ারচরে ২ জন, হোসেনপুরে ১ জন, পাকুন্দিয়ায় ১ জন, ইটনায় ২ জন, মিঠামইনে ২ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফুর ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতায় ভুগছিলেন তিনি। পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রোগীর স্বজন জহির উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করায় রোগীর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। তিনি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত জেলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে ভৈরবের দুজন ডেঙ্গু রোগী ঢাকায় ও ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য জেলায় পর্যাপ্ত কিট রয়েছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যক্রম চলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও তৎপর রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array