বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আপনার শরীর ভিটামিন ডি পাচ্ছে তো?

স্বাস্থ্য ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আপনার শরীর ভিটামিন ডি পাচ্ছে তো?

ভিটামিন ডি মানবদেহের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান, যা হাড়, দাঁত, পেশি ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সুস্থ রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে এই ভিটামিনের ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এর অন্যতম প্রধান কারণ।

স্বাভাবিক অবস্থায় ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয় যখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UVB) ত্বকে পড়ে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষ দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন—অফিস, বাসা বা যানবাহনের মধ্যে। ফলে সূর্যালোকের সংস্পর্শ কমে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন সকালে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রোদে থাকলে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয়।

এন্ডোক্রাইন সোসাইটির এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি শুধু হাড় ক্ষয়ের কারণ নয়, এটি বিষণ্নতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ডায়াবেটিস, ক্লান্তি, এমনকি হৃদরোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও ৫০ শতাংশ পুরুষের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা স্বাভাবিক সীমার নিচে। দীর্ঘ সময় এয়ারকন্ডিশন রুমে থাকা, পর্দাযুক্ত পোশাক, এবং রোদে না যাওয়া এ সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

খাদ্য থেকেও সীমিত পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। যেমন—চর্বিযুক্ত মাছ (স্যালমন, টুনা, সার্ডিন), ডিমের কুসুম, দুধ, মাখন, চিজ ও কিছু ফোর্টিফাইড খাদ্যদ্রব্য। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খাবারের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব নয়, নিয়মিত রোদে থাকা অপরিহার্য।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যাদের শরীরে হাড় বা পেশিতে ব্যথা, মনমরা ভাব, ক্লান্তি বা চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তারা রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জেনে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।

ভিটামিন ডি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রাকৃতিকভাবে এই ভিটামিনের উৎস—সূর্যের আলো—থেকে প্রতিদিন অল্প সময় হলেও উপকার নেওয়া উচিত।

ভিটামিন ডি ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ:

হাড় বা পেশিতে ব্যথা,

দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি,

মনমরা ভাব বা বিষণ্নতা,

চুল পড়া,

ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়া।

এম.এম./কি

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।