বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

আপনার শরীর ভিটামিন ডি পাচ্ছে তো?

স্বাস্থ্য ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আপনার শরীর ভিটামিন ডি পাচ্ছে তো?

ভিটামিন ডি মানবদেহের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান, যা হাড়, দাঁত, পেশি ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সুস্থ রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে এই ভিটামিনের ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এর অন্যতম প্রধান কারণ।

স্বাভাবিক অবস্থায় ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয় যখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UVB) ত্বকে পড়ে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষ দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন—অফিস, বাসা বা যানবাহনের মধ্যে। ফলে সূর্যালোকের সংস্পর্শ কমে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন সকালে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রোদে থাকলে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয়।

এন্ডোক্রাইন সোসাইটির এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি শুধু হাড় ক্ষয়ের কারণ নয়, এটি বিষণ্নতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ডায়াবেটিস, ক্লান্তি, এমনকি হৃদরোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও ৫০ শতাংশ পুরুষের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা স্বাভাবিক সীমার নিচে। দীর্ঘ সময় এয়ারকন্ডিশন রুমে থাকা, পর্দাযুক্ত পোশাক, এবং রোদে না যাওয়া এ সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

খাদ্য থেকেও সীমিত পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। যেমন—চর্বিযুক্ত মাছ (স্যালমন, টুনা, সার্ডিন), ডিমের কুসুম, দুধ, মাখন, চিজ ও কিছু ফোর্টিফাইড খাদ্যদ্রব্য। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খাবারের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব নয়, নিয়মিত রোদে থাকা অপরিহার্য।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যাদের শরীরে হাড় বা পেশিতে ব্যথা, মনমরা ভাব, ক্লান্তি বা চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তারা রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জেনে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।

ভিটামিন ডি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রাকৃতিকভাবে এই ভিটামিনের উৎস—সূর্যের আলো—থেকে প্রতিদিন অল্প সময় হলেও উপকার নেওয়া উচিত।

ভিটামিন ডি ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ:

হাড় বা পেশিতে ব্যথা,

দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি,

মনমরা ভাব বা বিষণ্নতা,

চুল পড়া,

ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়া।

এম.এম./কি

প্রথম আঘাত ইংল্যান্ডের, শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
প্রথম আঘাত ইংল্যান্ডের, শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

প্রথমে গোল হজম, এরপর একচেটিয়া আধিপত্য। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে অ্যান্টনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন লিওনেল মেসিরা।

সেমিফাইনালের প্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই গোল যেন উল্টো আর্জেন্টিনাকে আরও ক্ষুধার্ত করে তোলে। গোল হজমের পর থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে। কার্যত হাফলাইন পেরিয়ে আক্রমণে ওঠার সুযোগই পায়নি ‘থ্রি লায়ন্স’।

৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। সমতায় ফিরেই আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তেরা।

আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল রুদ্ধশ্বাস ও শারীরিক লড়াইয়ে ভরপুর। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

  • প্রথম ১০ মিনিটেই হয় ৭টি ফাউল, যার মধ্যে ৪টিই করে আর্জেন্টিনা।
  • প্রথমার্ধ শেষে মোট ১৯টি ফাউল নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে।
  • মাঝেমধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
  • প্রথমার্ধে উভয় দলই দুটি করে শট নেয়। ইংল্যান্ডের একটি শট লক্ষ্যভেদী ছিল।

প্রথমার্ধ থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর নিখুঁত পাস, বল নিয়ন্ত্রণ ও টার্ন ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ আরও বাড়িয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা।

গোল হজমের পর যেভাবে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ইংল্যান্ডকে রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করেছে, তা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মানসিক দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলেরই প্রমাণ। শেষ পর্যন্ত এনজো ও লাউতারোর দুই গোলেই স্বপ্নের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মেসির দল।

মিঠামইনে গাছকাণ্ডে পদ স্থগিত সেই বিএনপি সভাপতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিঠামইনে গাছকাণ্ডে পদ স্থগিত সেই বিএনপি সভাপতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির পদ স্থগিত সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হন। হামলায় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন।

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল আওয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে মিঠামইন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজন। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারীতে কামালপুর বেড়িবাঁধের মেহগনি গাছ কাটার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক কারণ বা অন্য কোনো বিষয় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

কটিয়াদীতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানে নিম্নমানের ও পঁচা গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দোকানে সংরক্ষিত মাংস পরীক্ষা করে তা পচনশীল এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাংস ব্যবসায়ী শারফিন কসাইয়ের দোকান থেকে প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জব্দ করা হয়। পরে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা মাংস জনস্বার্থে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়, যাতে তা কোনোভাবেই বাজারে ফিরে যেতে না পারে।

অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে অস্বাস্থ্যকর, ভেজাল বা সন্দেহজনক খাদ্য বিক্রির তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দোকানের মাংসের মান নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। অনেক ক্রেতা মাংস থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ করলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের অভিযানে পঁচা মাংস জব্দ ও ধ্বংস করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার করা মাংস ধ্বংস করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। ভেজাল, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41