বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তাড়াইলের দামিহা-হাছলা সড়ক খানাখন্দে ভরা, দুর্ভোগে স্থানীয়রা

রুহুল আমিন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তাড়াইলের দামিহা-হাছলা সড়ক খানাখন্দে ভরা, দুর্ভোগে স্থানীয়রা

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা-হাছলা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে গেছে। বৃষ্টির সময় সড়কের অসংখ্য গর্ত পানিতে ডুবে থাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দামিহা-হাছলা সড়কের পুরো অংশ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও বেরিয়ে পড়েছে ইটের খোয়া। অনেক গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়কের কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাড়াইল উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দামিহা বাজার ব্রিজ থেকে হাছলা হয়ে তাড়াইল সদর বাজারের পুরাতন ডাকবাংলো পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪২ কিলোমিটার সড়কটি ২০১৭ সালে নবিদেপ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটির আর সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। সড়কের পাশে হাছলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

এ সড়ক দিয়ে পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্র, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল ও সাইকেল নিয়মিত চলাচল করে। সড়কের খানাখন্দের কারণে এসব যানবাহন চলাচলে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি প্রায়ই যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

হাছলা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা ছাইদুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনের সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। খানাখন্দ, পানি ও কাদায় সড়কটি ভরে গেছে।’

সড়কটি দিয়ে নিয়মিত অটোরিকশা চালান কাইয়ূম মিয়া। তিনি বলেন, ‘সড়কের গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই দুর্ঘটনার ভয়ে থাকতে হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব মিয়া বলেন, ‘সড়ক ভেঙে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। খানাখন্দে ভরা সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’

তাড়াইল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিভাগের উপজেলা, ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে সড়কটি মেরামতের জন্য প্রস্তাবিত আছে। অনুমোদন সাপেক্ষে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।’

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা আখতার জানান, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মেরামতের জন্য প্রস্তাবিত হলেই সড়কটি দ্রুত মেরামত করা হবে।’

কিশোরগঞ্জে আইনজীবীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে আইনজীবীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে মিথ্যা মামলা ও জালিয়াতির ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনামুল হক শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন আলী আকবর হৃদয় ও ভুক্তভোগী শাহনেওয়াজ সিরাজী সিহাবের পিতা।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলা নম্বর-০৭-এর এজাহার হিসেবে গত ৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করে একটি ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়। পরে ওই এজাহার ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আলী আকবর হৃদয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একই কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট এনামুল হক শেখের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত হবে।

কিশোরগঞ্জে এসআরবি-এর পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এসআরবি-এর পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-১৪-এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে এসব অভিযান পরিচালনা করে।

প্রথম অভিযানে সকাল আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কটিয়াদি থানার মাদক মামলা নম্বর-০৬(৪)২৩-এর আসামি মো. মাসুম (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হারুয়া এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

এসআরবি-১৪ সূত্রে জানা যায়, মাসুম ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ২৪(গ) ধারায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। কটিয়াদি থানার ওই মাদক মামলায় আদালত তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন।

অপরদিকে, দ্বিতীয় অভিযানে একই কোম্পানির আরেকটি আভিযানিক দল সকাল আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে সদর থানার মাদক মামলা নম্বর-৩২(১)১৯-এর আসামি মো. ইয়াছিন (২২)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইয়াছিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকার মো. রমিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক) ধারায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুই আসামির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর এসআরবি-১৪-এর আভিযানিক দল পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

আসিফ মাহমুদের দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
আসিফ মাহমুদের দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয়, অর্থপাচারসহ দেশ-বিদেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিএফআইইউর পরিচালক বরাবর এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের স্বাক্ষর করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা চালু, সুপ্ত ও বন্ধ—সব ধরনের হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্রও রয়েছে। তাঁদের দেশে-বিদেশে আর্থিক লেনদেনের তথ্যও চেয়েছে দুদক।

বিশেষ করে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং বিদেশে ‘শেল কোম্পানি’ গঠনসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা নথি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিএফআইইউকে অনুরোধ করা হয়েছে। ওই দেশগুলোতে আসিফ মাহমুদ বা তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ বা সম্পদ রয়েছে কি না, সে সম্পর্কিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো অনুসন্ধানাধীন।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পরদিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে চার ধরনের নথি তলব করে সংস্থাটি।

আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ইতোমধ্যে দুদকে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থপাচারসহ নতুন কয়েকটি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সেগুলোও যুক্ত করে তদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়।

নতুন অভিযোগগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা, দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেন, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে বিলাসবহুল ভিলা কেনা, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ ও ‘গ্রিন গ্রুপে’ মূলধন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ প্রক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদের দুই বোনজামাই ও ভাগ্নেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর নিজ উপজেলা মুরাদনগরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে হেলিকপ্টারে ভ্রমণ, হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে চলাচলের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধানের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর মানহানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশ দেন তিনি।

তবে ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। সর্বশেষ বিএফআইইউর কাছে ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও দেশ-বিদেশের আর্থিক লেনদেনের তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে ওই অনুসন্ধানের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।