বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কীটনাশকের ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশাহারা তাড়াইলের কৃষক

রুহুল আমিন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কীটনাশকের ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশাহারা তাড়াইলের কৃষক

দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়েছে কীটনাশকের বাজারেও। দুই বছরের ব্যবধানে বেশিরভাগ কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম গড়ে ২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। কোনো কোনো কীটনাশকের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে। কোম্পানিগুলো ‘ইচ্ছামতো’ দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতারা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য কীটনাশক, মাকড়নাশক, ছত্রাকনাশক ও আগাছানাশক রয়েছে। এর মধ্যে গোটা দশেক কোম্পানির অর্ধশতাধিক পণ্যের বেচাকেনা বেশি। প্রচলিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কয়ার, বায়ার, সেমকো, সিনজেনটা, অটোক্রপ, এসিআই, সেতু কর্পোরেশন, ন্যাশনাল ও পদ্মা অয়েল।

তাড়াইল উপজেলার সবকটি বাজারের সার ও কীটনাশকের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গত এক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম গড়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণও হয়েছে। আগে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দামের একটি কৃষিপণ্য এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি দরে।

আগাছানাশক প্যারাকোয়াটের ২০ লিটারের ড্রামের দাম এখন ৬ হাজার ৫০০ টাকা। আগে এর দাম ছিল ৪ হাজার ২০০ টাকা। সার, ছত্রাকনাশক ও মাকড়নাশক মাইক্রোথিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩৯৫ টাকা কেজি দরে। অথচ ছয় মাস আগে এর দাম ছিল ৩০০ টাকার নিচে। ছত্রাকনাশক ম্যানসার ১০০ মিলি ২০০ টাকা এবং ৫০০ মিলি ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে এই পণ্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল।

উদ্ভিদের জৈব উজ্জীবক লিটোসেন ১০০ মিলি ১৯৩ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা হয়েছে। ছত্রাকনাশক সেলটিমারের ১০০ মিলির দাম গড়ে ২০ টাকা বেড়েছে। কীটনাশক মর্টারের দামও ২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। কীটনাশক মার্শালের ৫০০ মিলির দাম এক বছরে ৮৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৮৫ টাকা হয়েছে। সুমিথিয়ানের দাম কার্টনপ্রতি বেড়েছে ২৫০ টাকা। নুট্রাফস ১০০ মিলির দাম ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা হয়েছে।

কৃষক আব্দুল জলিল, ছাইদুর রহমান, মানিক মিয়াসহ আরও অনেকেই বলেন, কীটনাশক প্রয়োজন হলে দোকানদারকে বললে দিয়ে দেন। বাকিতে কিনতে হয় বলে দোকানদার যে দাম বলেন, সেই দামেই কিনতে হয়। বাড়তি দাম চাইলেও তা দিতে হয়। দোকানদাররা শুধু বলেন, ‘কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে।’

তাড়াইল সদর বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম বাড়ে। তাঁরা ডিলারের কাছ থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করেন। কোম্পানি খুচরা মূল্য বাড়িয়ে দিলে তাঁদেরও বাড়তি দামে কিনতে হয়। কেন দাম বাড়ানো হলো, তা নিয়ে কেউ তাঁদের কাছে জানতে চান না।

বিক্রেতারা আরও বলেন, কীটনাশকের দাম কোম্পানিগুলো নির্ধারণ করে দেয়। তারা যেভাবে দাম লিখে দেয়, সেভাবেই বিক্রি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁদের কিছু করার থাকে না। কোম্পানিগুলোই কীটনাশক ও বালাইনাশকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং তারাই দাম নির্ধারণ করে দেয়। এমনও দেখা গেছে, একটি পণ্যের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, কীটনাশক বা বালাইনাশক বিক্রির ক্ষেত্রে স্থানীয় বিক্রেতারা বড় ভূমিকা রাখেন। প্রয়োজন হোক বা না হোক, বিক্রেতাদের পরামর্শে কৃষকেরা নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেন। কোনো সমস্যা মনে হলেই কৃষকেরা বিক্রেতা বা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। ফলে কারণে-অকারণে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো কীটনাশকের দাম তাদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে দেয়। তবে এর নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে পণ্য উৎপাদনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

‘ফ্যাসিবাদের দোসররা হামলা করছে’: মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
‘ফ্যাসিবাদের দোসররা হামলা করছে’: মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে সিটি করপোরেশন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ নম্বরে উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিরা এবং তাদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহনকর্মী, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ করে দিতে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চায় এবং বুধবারের ঘটনায় সেটি প্রমাণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এবং ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাতেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছেন এবং এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করা হচ্ছে। এটি সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কারও ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করায় স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি মিরপুরের সন্তান এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। ফুটপাত দখলের মতো কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

ছাড়িয়ে নিতে তদবির নয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করুন

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ছাড়িয়ে নিতে তদবির নয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করুন

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির না করে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন নিকলী থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিন একই সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ওসির মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বদলিজনিত কারণে শূন্য থাকায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে বলে সভায় আলোচনা হয়। এর ফলে উপজেলা জুড়ে অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন ও বিক্রি, ইভটিজিং, চুরি ও হামলার মতো ঘটনা বেড়ে যায় এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমও অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে জনমনে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউএনও ও ওসি পদায়ন হওয়ার পর প্রশাসনে তাঁদের যোগদানের পর এটিই ছিল প্রথম মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা। সামাজিক অবক্ষয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সভাটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর বলে মনে করছেন উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সভায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যদের উপস্থাপিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নবনিযুক্ত নিকলী থানার ওসি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, থানায় জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের স্বল্পতা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতা পেলে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব।

রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে যেন কোনো ধরনের তদবির না করা হয়। কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর কোনো ধরনের তদবির রক্ষা করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল মামুন, কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা হাজী মাসুক মিঞা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সভাপতি আবুল হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক আবির, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ উবাইদুল হক সম্রাটসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

গাজীপুরে মহাসড়কের পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে মহাসড়কের পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে উদ্যোগ

গাজীপুর মহানগরের মাস্টারবাড়ি থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকায় ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার করা হয়েছে। সড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধ এবং যানবাহনে চলাচলকারীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কাউলতিয়া ফাঁড়ি পুলিশের উদ্যোগে এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

মাস্টারবাড়ি থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড়, আগাছা ও বিভিন্ন ধরনের গাছপালা বেড়ে ওঠায় সড়কের অনেক অংশ আড়াল হয়ে ছিল। এতে রাতে চলাচলকারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড় থাকায় কিছু কিছু স্থানে অন্ধকার ও আড়াল তৈরি হয়। ফলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। বিশেষ করে রাতে দূরপাল্লার যানবাহন, পণ্যবাহী গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে মহাসড়কের পাশে থাকা ঝোপঝাড় ও আগাছা কেটে সড়কের আশপাশের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কাউলতিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ সুমন খান জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। মহাসড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড়ের কারণে দুষ্কৃতকারীরা আড়ালে লুকিয়ে থেকে এ পথে চলাচলকারী যানবাহনে হামলা চালিয়ে রড, দা, চাকা বা বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার সুযোগ পেত বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শীতকালে ডাকাতির প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে স্থানীয় লোকজনের স্বেচ্ছাশ্রমে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মহাসড়কের দুই পাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকলে দুষ্কৃতকারীদের লুকিয়ে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ কমবে। এতে ধীরে ধীরে ডাকাতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে কাউলতিয়া ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি জিএমপি সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা মহাসড়কের দুই পাশে থাকা ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার করেন এবং সড়কের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু ঝোপঝাড় পরিষ্কার করলেই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি মহাসড়কে নিয়মিত পুলিশি টহল, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা করাও জরুরি। একবার পরিষ্কার করার পর আবার যাতে ঘন ঝোপঝাড় তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়কে চলাচলকারীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।