মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘দাবার বোর্ড’ হতে চায় না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘দাবার বোর্ড’ হতে চায় না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত থাকার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো পক্ষের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ‘দাবার বোর্ড’ হতে চায় না; বরং নিজেদের শর্তে এগিয়ে যেতে চায়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘নতুন করে লেখা এক বিশ্ব’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা, সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব করতে প্রস্তুত। তবে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এর একটি হলো অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকট এবং অন্যটি উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাস ও কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির বিষয়।

জ্বালানি সংগ্রহে নতুন উৎস ও ক্ষেত্রের দিকে নজর দেওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে নিজস্ব গ্যাস ও এলএনজির সম্ভাব্য উৎস রয়েছে, যেগুলো অতীতে অনুসন্ধান করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে এসব উৎসের অনুসন্ধান শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের প্রতিটি নাগরিককে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সম্মেলনটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চাঁদাবাজ-দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, বিএনপিতেও শুদ্ধি তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
চাঁদাবাজ-দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, বিএনপিতেও শুদ্ধি তৎপরতা

সরকারের কঠোর নির্দেশনার পর চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বিএনপির ভেতরেও শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। এরই মধ্যে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কর্মীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি বিলুপ্ত এবং মিষ্টির পদত্যাগের পর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতারা অনেকটাই চুপসে গেছেন। চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এদিকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয় গ্যাং ও অপরাধী চক্রগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে বিশেষ টিমও কাজ শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে অপরাধী মহলেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল বা সরকারের পদ-পদবি দিয়ে তাকে রক্ষা করা হবে না। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে পুলিশ প্রশাসনে স্বস্তি ফিরেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধীদের আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না—এমন বিশ্বাস তৈরি হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের গতি ও সাহস বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এখন সহজ হবে।

স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে। জনগণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এসআরবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালী বা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাদের পালানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। ওপর মহল থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ায় অনেক অপরাধী আত্মগোপনে চলে গেছে। মাঠপর্যায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ভিটা আছে, ঘর নেই: চার মেয়েকে নিয়ে আশ্রয়হীন সুফিয়া

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
ভিটা আছে, ঘর নেই: চার মেয়েকে নিয়ে আশ্রয়হীন সুফিয়া

বিশ্বজুড়ে যখন নিরাপদ আবাসন ও বাসস্থানের অধিকার নিয়ে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে কিশোরগঞ্জে নিজের ভিটেমাটিতেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন সুফিয়া আক্তার নামে এক বিধবা। স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে হারানো এই নারী অভিযোগ করেছেন, নিজের নামে জমির রেকর্ড থাকার পরও দেবর ও স্বজনদের বাধা, হুমকি ও দখলের কারণে তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে চার মেয়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া আক্তারের দাবি, দীর্ঘ আট বছর ধরে জমি নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। একপর্যায়ে তাঁর বসতঘর ভেঙে মালামাল সরিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে নিজের ভিটায় ফিরতে পারছেন না তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সুফিয়ার বসতঘরটি যেখানে ছিল, সেখানে একটি নতুন টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সুফিয়ার অভিযোগ, তাঁর দেবর নিজাম উদ্দিন ওই ঘরটি নির্মাণ করেছেন। বাড়ির প্রবেশপথে টিনের গেট তৈরি করে তাতে তালা দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি নিজের বসতভিটায় প্রবেশ করতে পারছেন না।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, চৌদ্দশত মৌজার ১১৭০ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে সুফিয়ার প্রয়াত স্বামী নুরুন্নবী, দেবর নিজাম উদ্দিনসহ অন্য ওয়ারিশদের মোট ১ একর ২৭ শতাংশ জমি ছিল। নুরুন্নবী ও তাঁর ছেলে মবিনের মৃত্যুর পর বিআরএস ২৫-২৪৯৩ নম্বর খতিয়ানে সুফিয়া ও তাঁর চার মেয়ে রেবা সুলতানা, মালা আক্তার, রত্না আক্তার ও স্বপ্নার নামে মোট ৩০ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত হয়।

সুফিয়া আক্তার বলেন, “কাগজে আমার নামে ৩০ শতাংশ জমি থাকলেও বাস্তবে মাত্র ২ শতাংশ জায়গায় একটি ঘর করার সুযোগও পাচ্ছি না। আমার ঘর ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে। বাড়িতে ঢুকতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”

তাঁর অভিযোগ, দেবর নিজাম উদ্দিন, চাচাতো দেবর হারিছ মিয়া ও নিজাম উদ্দিনের জামাতা মামুন মিয়া তাঁর বসতঘর ভেঙে তাঁকে উচ্ছেদ করেছেন।

তবে সুফিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিজাম উদ্দিন। তাঁর দাবি, তাঁর ভাই ও ভাতিজা মারা গেছেন এবং ওই জমিতে সুফিয়ার কোনো অধিকার নেই। সুফিয়া বর্তমানে যে জায়গায় অবস্থান করছেন, সেটিও তাঁর বলে দাবি করেন তিনি।

নিজাম উদ্দিনের জামাতা মামুন মিয়া বলেন, “সুফিয়া আইন-আদালতের পেছনে ঘুরে কী করবেন।” সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সুফিয়ার প্রতি এত মায়া থাকলে তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেওয়া হোক।

বিষয়টি একাধিকবার গণমাধ্যমে আসার পর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ সরেজমিনে সুফিয়ার বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিতে বলেন।

চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাহার আলী বলেন, স্বামী ও সন্তান হারিয়ে সুফিয়া সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। চার মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবিক সংকটে পড়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সুফিয়ার পক্ষেও সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই সিদ্ধান্ত মানেননি বলে তিনি জানান।

জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান জানান, উভয় পক্ষকে জেলা পরিষদে ডেকে তাঁদের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সুফিয়াকে বর্তমান অবস্থানেই থাকতে বলা হয়েছিল।

তবে সুফিয়ার অভিযোগ, কারও কথা না শুনে তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী দোলন কুমার আচার্য্য বলেন, সুফিয়ার পক্ষে কয়েকবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র অনুযায়ী সুফিয়া জমির মালিক। কিন্তু তাঁর দেবররা সেখানে তাঁকে ঘর তুলতে দিচ্ছেন না।

বর্তমানে নিজের কোনো নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় প্রবাসী মেয়ের দুই শিশুকন্যা (নাতনি) নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিন-রাত কাটছে সুফিয়ার। বিবাহিত মেয়েদের সংসারে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না তিনি। তাঁর একমাত্র চাওয়া, নিজের ভিটায় ফিরে ছোট্ট একটি ঘর তুলে শান্তিতে বসবাস করা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুফিয়া আক্তার বলেন, “নিজের জায়গায় ছোট একটা ঘর করে শান্তিতে থাকতে চাই। আর কিছু চাই না।”

সুফিয়ার এই দুর্দশা শুধু একজন অসহায় বিধবার ব্যক্তিগত কষ্টের ঘটনা নয়; এটি গ্রামীণ জনপদে জমি নিয়ে বিরোধ, দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং সামাজিক ক্ষমতার অসমতারও একটি প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব বসতি দিবসে যখন সবার জন্য নিরাপদ আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে, তখন নিজের নামে জমির রেকর্ড থাকার দাবি করা একজন নারী কেন নিজের ভিটায় আশ্রয় পাচ্ছেন না, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে আদালত ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সুফিয়ার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে তাঁর মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

ভৈরবে ইয়াবার বড় চালানসহ আটক ১

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ইয়াবার বড় চালানসহ আটক ১

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ জাকির হোসেন (৫৩) নামে একজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয়ের সদস্যরা।

জাকির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানাধীন সোনারামপুর (কলাবাগান) এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর পশ্চিম পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে টোল প্লাজার সামনে থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে জাকির হোসেনকে আটক করা হয়। আটকের পর তাঁর দেহ তল্লাশি করে পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে বিশেষ কায়দায় রাখা দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আটক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা।