শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

নিয়মিত জামায়াতে নামাজ পড়ায় বাইসাইকেল পেল ২৬ শিক্ষার্থী

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিয়মিত জামায়াতে নামাজ পড়ায় বাইসাইকেল পেল ২৬ শিক্ষার্থী

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায় করায় ২৬ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মিঠামইন জিরো পয়েন্ট এলাকায় মহিষারকান্দি যুবসমাজের উদ্যোগে এ বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিষারকান্দি নিজামিয়া মাতলুবুল উলুম ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোবারক হোসাইন আজহারী। প্রধান অতিথি ছিলেন হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিঠামইন উপজেলার সভাপতি মো. নুরুল আমীন, ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং ঢাকা জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাইজুল আমীন আফছারী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নামাজ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে এ উদ্যোগ একটি প্রশংসনীয় উদাহরণ। নিয়মিত সালাত আদায় শুধু আত্মিক শান্তি দেয় না, বরং চরিত্রবান ও নৈতিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যাডভোকেট ফাইজুল আমীন আফছারী বলেন, “এই বাইসাইকেল কোনো পুরস্কার নয়, বরং নিয়মিত সালাত আদায়ের প্রেরণা। আমরা চাই তরুণ সমাজ নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠুক। ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

বাইসাইকেলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “নিয়মিত জামায়াতে নামাজ পড়ায় এই উপহার পেয়ে আমরা আরও অনুপ্রাণিত হয়েছি। এখন মসজিদে যাওয়া আরও সহজ হবে।”
আরেক শিক্ষার্থী আশরাফুল কবির জানায়, “আমাদের নামাজের অভ্যাসকে সম্মান জানানো হয়েছে—এটা আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।”

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল তুলে দেন। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

ভৈরবে সমবায়ী দম্পতির টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই: সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের দাবি

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
ভৈরবে সমবায়ী দম্পতির টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই: সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের দাবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব-এ সমবায়ী দম্পতির ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকায় সমবায়ীদের নিজস্ব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন—মাসুদ আলম (২৫) ও তার স্ত্রী রিতা আক্তার (২০)।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১৬ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে সমবায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পৌর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সুলমান মিয়া (৩২)-এর নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রিতা আক্তারের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে ফেলা হয়।

পরবর্তীতে দম্পতিকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় রিতা আক্তারকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা সমবায়ের সংগ্রহ করা নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি রিতা আক্তারের গলায় থাকা প্রায় ১৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও লুট করে নিয়ে যায়।

তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় পুনরায় হামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মাসুদ আলম অভিযোগ করেন, “সুলমান গংরা এর আগে আমার এক আত্মীয়কে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। আমি প্রতিবাদ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং এরপর থেকে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভৈরব থানা পুলিশ-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুলমান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা, বাঁচতে চায় হোসেনপুরের জুয়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা, বাঁচতে চায় হোসেনপুরের জুয়েল

একটি হাসি,যে হাসিতে ছিল স্বপ্নের আলো। এক জোড়া চোখ,যেখানে ছিল ভবিষ্যতের হাজারো গল্প।আর আজ-সেই মানুষটি লড়ছে বেঁচে থাকার জন্য, প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চৌদার মীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল (ছদ্মনাম) বর্তমানে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন। জরুরি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জুয়েলের শরীরে দুটি টিউমার ধরা পড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিনই তাকে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণেও চরম কষ্ট হচ্ছে, আর প্রতিটি দিনই তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম।

জুয়েল ছিলেন এক সাধারণ তরুণ, যার ছিল স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন—পরিবারকে ভালো রাখা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কিন্তু হঠাৎ করেই মরণব্যাধি ক্যান্সার তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে।

বর্তমানে তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা—সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা ও একটি জরুরি অস্ত্রোপচার হলে জুয়েলের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা একটি দিনমজুর পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব।

ইতোমধ্যে আত্মীয়স্বজন ও কিছু মানবিক সংগঠনের সহায়তায় প্রায় ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনও প্রায় ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন।

জুয়েলের বড় ভাই সোহেল মিয়া বলেন, “ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আমাদের যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেছে। এখন সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই একমাত্র ভরসা।”

স্থানীয় কলামিস্ট ও স্বেচ্ছাসেবী এস এম মিজানুর রহমান মামুন দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি মানুষের জীবন বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো। আসুন, আমরা সবাই মিলে জুয়েলের পাশে দাঁড়াই।”

সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসে এই তরুণের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা করার জন্য।

কিশোরগঞ্জে কালোয়ার মা দরগা জামে মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে কালোয়ার মা দরগা জামে মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের মারিয়া ইউনিয়ন-এর বরুঙ্গাচর গ্রামে অবস্থিত কালোয়ার মা দরগা জামে মসজিদ-এর তিনতলা দালানের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কাসেম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মালেক মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল আমিন। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, আপাতত মসজিদের প্রথম তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পুরো তিনতলা ভবনের কাজ শেষ করা হবে।

প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক মসজিদের নির্মাণকাজে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।