কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় সেচ পাম্পের ইজারা ও লভ্যাংশ বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হারেছ মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চারিতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হারেছ মিয়ার ভাই মো. হারুন মিয়া বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সেচ পাম্পের ইজারা ও লভ্যাংশ বণ্টন নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২ অক্টোবর নিয়ামতপুর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সেচ পাম্পের খরচ ও লভ্যাংশ বাদীপক্ষ ছয় আনা এবং অভিযুক্তপক্ষ ১০ আনা হারে ভাগ করে নেবে। তবে এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে অভিযুক্তরা সেচ পাম্পটি এককভাবে দখলে নেন। এর প্রতিবাদ করলে বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে অভিযুক্তরা রামদা, বল্লম, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চারিতলা গ্রামের সৈয়দ উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলা চালান। এ সময় সৈয়দ উদ্দিনকে ধাওয়া করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে ঘরে আশ্রয় নেন। তাঁর চিৎকার শুনে হারেছ মিয়া এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হন।
অভিযোগে বলা হয়, মামলার ৩ নম্বর আসামি কাছম আলী লোহার রড দিয়ে হারেছ মিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি তাঁকে চেপে ধরেন এবং ১ ও ২ নম্বর আসামি লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁর বুকে পা দিয়ে চাপ দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় হারেছ মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরও অন্তত ১৭ জন হামলার শিকার হন। তাঁদের রামদা, বল্লম ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মো. আবুল খায়ের, মো. এনায়েত হোসেন, মো. আসাদ উল্লাহ, মো. শহীদ, মো. লিমন, মুনতাজ, মো. উজ্জ্বল, মো. শিবলু, বেদেনা আক্তার, মো. আকরাম হোসাইন ও হোসনা আক্তারসহ আরও অনেকে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা সৈয়দ উদ্দিন, নাজমুল ও আবুল খায়েরের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। এ ছাড়া মোনতাজের বাড়িতে ভাঙচুর করে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। এ সময় এক নারীর গলা থেকে আড়াই ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতাল ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হারেছ মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ অক্টোবর রাত ৩টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা-পুলিশ হারেছ মিয়ার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিনই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
Disqus comments are not configured yet.