সন্তানের হাতে অল্প বয়সে মোটরসাইকেল-অ্যান্ড্রয়েড ফোন তুলে দেবেন না: এমপি জালাল
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেছেন, সন্তানদের সব আবদার পূরণ করা অভিভাবকদের উচিত নয়। বয়স ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে তাদের আবদার পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের হাতে মোটরসাইকেল ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। অপরিণত বয়সে এসবের ব্যবহার সন্তানদের বিপথে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সোনালী স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিভাবকদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, ‘সন্তানের অন্যায় আবদার পূরণ করতে গিয়ে তাকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কিনে দিচ্ছেন। মোবাইল কিনে দিলেন, নাকি আপনার সন্তানকে ধ্বংস করে দিলেন? এই ধ্বংসের জন্য দায়ী আপনারা, সেই অভিভাবকেরা, যারা সন্তান পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলেই মোটরসাইকেল কিনে দেন।’
সড়ক দুর্ঘটনায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সেদিন আফতাবউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে প্রথম হওয়া ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য কি শুধু সে-ই দায়ী? প্রশ্নটি আপনাদের বিবেকের কাছে রাখলাম। আমি ওই শিক্ষার্থীকে দায়ী করি না। ছোটরা আবদার করবে, কিন্তু তাদের সব আবদার কি আমাদের পূরণ করতে হবে?’
মোটরসাইকেলের গতি এবং শিশু-কিশোরদের তা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাবা পালসার বা অ্যাপাচির মতো মোটরসাইকেল চালান, আর অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকেও একই ধরনের মোটরসাইকেল কিনে দিতে হয়। এসব মোটরসাইকেলের গতি মুহূর্তেই ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটারে উঠে যায়। এই গতি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নেই।’
অভিভাবকদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, একজন ভাই হিসেবে বলছি, সন্তানদের এমন সর্বনাশ করবেন না। তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল তুলে দেবেন না। তারা গেম খেলতে খেলতে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে, অথচ আপনারা খবরও রাখছেন না। মোটরসাইকেল নিয়ে তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, সেদিকেও নজর রাখছেন না।’
তিনি বলেন, মোটরসাইকেল পাওয়ার পর কিশোরদের বন্ধুমহল বড় হয়। এর ফলে তারা খারাপ সঙ্গেও জড়িয়ে পড়তে পারে। একপর্যায়ে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে তা থেকে বেরিয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি তাদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সন্তানদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, জীবনের এ পর্যায়ে এসে সন্তানদের মানুষ করে তোলাই অভিভাবকদের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। সন্তানরা সঠিকভাবে গড়ে উঠলেই অভিভাবকদের জীবন সার্থক হয়।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, বর্তমানে শিশুরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃত্তি পাচ্ছে এবং ক্রেস্ট, বৃত্তির অর্থ ও সনদপত্র অর্জন করছে। তাঁদের সময়ে এ ধরনের সুযোগ ছিল না। বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন শিশুদের মেধা বিকাশে কাজ করছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ।
বিশেষ করে প্রবাসীদের স্ত্রীদের একা সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি মায়েদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করার আহ্বান জানান। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা ও যথাযথ দিকনির্দেশনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ভিপি তৌফিকুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদ ফারুক খোকন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান খান সুমন এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহীন আলম জনি।
অনুষ্ঠানে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৭০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।










Disqus comments are not configured yet.