মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে যুবদল: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে যুবদল: রিজভী

দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল নিজেদের বিএনপির ইস্পাতকঠিন অগ্রবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দেশের অন্যতম বৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতনের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সংগ্রাম, সাহস, ঐক্য ও বীরত্বের প্রতীক যুবদলকে রাজপথে বহুবার দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে নেতাকর্মীদের মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতাকর্মীরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎপাদন, উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার যে নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন, তা বাস্তবায়নে জাতীয়তাবাদী যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের গঠনমূলক ও পুনর্গঠনমূলক কাজ এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে সংগঠনটি কাজ করে যাবে।

যুবদলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ছাত্রজীবন থেকেই ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন। তাঁদের নেতৃত্ব যুবদলের ঐক্য সুসংহত করেছে। ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতন্ত্রের পতনেও তাঁদের সাহসী নেতৃত্ব ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১১টায় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নেতৃত্বে সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা তথ্য উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা তথ্য উপদেষ্টার

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন।

পিরোজপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সামনে যে তথ্য এসেছে, তা খুবই দুঃখজনক। একটি রাজনৈতিক দল এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হয়ে কাজগুলো করেছে। এর পরিণতি তারা ভোগ করবে।’

মৃত্যুর পর কোনো ব্যক্তির মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কেউ পছন্দ করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এমন কাজ করেন, শেষ পর্যন্ত তারা সমাজে নিন্দিত হবেন।

অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কিছু ব্যক্তির বিচার হওয়ার পর তাঁদের মরদেহের সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয়েছিল।

এদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তবে তাঁকে কোনো ধরনের গণপিটুনি বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর আইনি প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার, তা-ই হবে।

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শুরু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায় আবুধাবিতে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ‘এমিরেটস ইন্টারন্যাশনাল কোরআন অ্যাওয়ার্ড’-এর চূড়ান্ত পর্ব। দেশটির জেনারেল অথরিটি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, এনডাউমেন্টস অ্যান্ড জাকাতের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতায় পবিত্র কোরআনের হাফেজ, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং কোরআনের সেবায় অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির জেনারেল অথরিটি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, এনডাউমেন্টস অ্যান্ড জাকাতের চেয়ারম্যান ড. ওমর হাবতুর আল দারঈ বলেন, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া চূড়ান্ত পর্বটি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাইয়ের ধারাবাহিকতা। এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শীর্ষস্থানীয় কারিদের অংশগ্রহণ, স্বীকৃত কিরাতের দক্ষতা যাচাই, সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ, সুমধুর তিলাওয়াতের প্রতিভা অন্বেষণ এবং আমিরাতের তরুণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

আল দারঈ জানান, প্রেসিডেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা পবিত্র কোরআনের সেবা, এর শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রচার এবং দেশি-বিদেশি হাফেজদের সম্মানিত করার প্রতি আমিরাতের নেতৃত্বের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের আদর্শ অনুসরণ করে এ উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দেশে ও দেশের বাইরে কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোরআনের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

এবারের প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিভিন্ন বিভাগে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪৬৪ জন প্রতিযোগী। প্রাথমিক মূল্যায়নের ধাপ পেরিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮৯ জন চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১১২ জন প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ করা হয়। ২৭টি দেশের ধর্মীয় ও কোরআনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক মনোনয়নের ভিত্তিতে এসব আবেদন জমা পড়ে। নির্ধারিত মানদণ্ড ও শর্ত পূরণ করে তাঁদের মধ্যে প্রায় ১১ জন আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে বিশেষায়িত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিচারক প্যানেলের ৮০ শতাংশ সদস্যই আমিরাতি নারী। কোরআন শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের বিষয়টিও এ উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আল দারঈ আরও বলেন, আমিরাতের কোরআনভিত্তিক প্রতিভা বিকাশ, পবিত্র কোরআন শুদ্ধভাবে পাঠ ও মুখস্থ করার চর্চা জোরদার এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে কোরআন শিক্ষার প্রসারে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে পোশাকশিল্পের নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে পোশাকশিল্পের নতুন সম্ভাবনা

বিশ্বের পোশাকশিল্পে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। পরিবেশগত বিধিনিষেধ, সরবরাহব্যবস্থার রূপান্তর এবং নৈতিকভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের বিষয়ে ক্রেতাদের বাড়তি আগ্রহ উৎপাদনকারীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের গুরুত্ব বাড়ছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে দেশের পোশাকশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থায় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এমএএস হোল্ডিংস (MAS Holdings)। তিন দশকের বেশি সময় ধরে পোশাকশিল্পে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি স্পোর্টসওয়্যার, পারফরম্যান্স পোশাক ও বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদনে দক্ষতা অর্জন করেছে।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমএএস সুমান্ত্রার জেনারেল ম্যানেজার আদিত্য বান্দারা বলেন, পোশাক উৎপাদনের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনের ওপর নির্ভর করবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার বিষয় নয়; বরং দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের উৎপাদনের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ।

পোশাক কারখানায় বর্জ্য কমানো, উৎপাদনদক্ষতা বাড়ানো এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়ছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, তথ্যভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনা, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমএএসের বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন কৌশল ‘প্ল্যান ফর চেইঞ্জ’-এর আওতায় টেকসই পণ্য তৈরি, পুনর্ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পানিসম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর একটি উদাহরণ এমএএস সুমান্ত্রা ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম রিভার্স রিসোর্সেসের (Reverse Resources) অংশীদারি। ২০২০ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এ উদ্যোগের আওতায় কাপড় কাটার পর তৈরি হওয়া অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৫৬ টনের বেশি বস্ত্রের অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সুতা উৎপাদকেরা এসব উপকরণ থেকে সুতা তৈরি করেন। পরে ইমপ্রেস-নিউটেক্স কম্পোজিট টেক্সটাইলস সেই সুতা দিয়ে কাপড় তৈরি করে, যা সংগ্রহ করে এমএএস সুমান্ত্রা। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদনবর্জ্য কমানোর পাশাপাশি সম্পদের পুনর্ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে

বাংলাদেশে এমএএসের পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। পাশাপাশি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত আছেন আরও প্রায় চার হাজার কর্মী। প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারের জন্য ক্রীড়াপোশাক, সেলাইবিহীন পোশাক ও অন্তর্বাস তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘বিয়ন্ড বর্ডারস’ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন দেশের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পান।

এমএএস সুমান্ত্রার জেনারেল ম্যানেজার আদিত্য বান্দারা বলেন, প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদন পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জন্য এ বিষয়গুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার পাশাপাশি দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের উৎপাদনের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমএএস এ পরিবর্তনকে এমন কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখে, যেগুলো দক্ষতার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণেও প্রস্তুত।

বাংলাদেশে এমএএসের কার্যক্রম কারখানার বাইরেও বিস্তৃত। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এতিমখানার ১৩০ শিশুর জন্য মাসিক শুকনো খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগেও যুক্ত হয়েছে।

পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ১৫টির বেশি স্কুলে বর্জ্য পৃথকীকরণ, বৃক্ষরোপণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, পরিবেশগত কার্যকারিতা ও শ্রমিককল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থায় বিনিয়োগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সক্ষমতার সমন্বয়ে এমএএসের কার্যক্রম বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের রূপান্তরের একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।