মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: তারেক রহমান

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নতুন কর্মসংস্থান ও অভিন্ন সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে, যা বর্তমান প্রজন্মের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপানের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকার করেছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে চুক্তি ও সমঝোতা বিনিময় করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের বিনিয়োগকারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে জাপানি অংশীদারদের অংশগ্রহণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশই উপকৃত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী, যার মাধ্যমে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল দুই দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর
আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এ বিষয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদারের সই করা একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বর্তমানে এলএলবি অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন বয়সসীমা কার্যকরের ক্ষেত্রে সময় দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়সসীমা আগামী ১ জানুয়ারি ২০৩০ থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত তারিখ থেকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদন গ্রহণ, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং তালিকাভুক্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন বয়সসীমা অনুসরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজায় গণহত্যা বন্ধ হয়নি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
গাজায় গণহত্যা বন্ধ হয়নি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অভিযোগ

গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও তুলেছে কমিশন। এসব অপরাধের মধ্যে গণহত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেছে কমিশন। পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও প্রাণহানিও বেড়েছে। কমিশনের মতে, সেখানে রাষ্ট্রীয় মদদে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিমান হামলায় ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৫৪ জন।

কমিশনের অভিযোগ, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি শিশুদেরও ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গাজাতেও শিশুদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।

গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কমিশনের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সঙ্গে যুক্ত চারজনকে হত্যা করেছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, রোববারের অভিযানে তিনজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ইসলামিক জিহাদের সদস্য আলা আবু জায়েদ ও হামদান সুলেইমান ইব্রাহিম আবু আমরা রয়েছেন। নিহত অপর ব্যক্তি হামাসের স্নাইপার সদস্য ফাওজি সালাম ওদাত আল্লাহ সাওয়ারহা।

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

নভেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে বন্ধ তিন সার কারখানা, উৎপাদন বাড়বে ২৭ লাখ টন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
নভেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে বন্ধ তিন সার কারখানা, উৎপাদন বাড়বে ২৭ লাখ টন

দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে আগামী নভেম্বরের মধ্যে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় তিনটি সার কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন ও নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে চারটি চালু রয়েছে। গ্যাস ও কাঁচামালের সংকটে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিএল), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)। প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেরামতকাজ শেষ করে কারখানাগুলো চালুর প্রস্তুতি চলছে।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বাসসকে বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন শুরুর জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্ধারিত চাপে গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি কারখানা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে নভেম্বরের মধ্যে কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদিত হয়েছে।

ওই অর্থবছরে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে এ চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনে চাহিদার যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৭৯ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করতে হয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিব্যয় কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

সব সার কারখানা চালু করে ইউরিয়া আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুরনো কারখানার প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন ইউরিয়া ও টিএসপি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং কারখানাগুলোর কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিসিআইসির আশা, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সারের আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ সহজ হবে।