তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে এক টাকাও ব্যয় করতে পারেনি দুটি মন্ত্রণালয় ও একটি বিভাগ। এগুলো হলো—সেতু বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ, যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন। করোনা মহামারির সময়েও অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এর চেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল। স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগেও এডিপি বাস্তবায়নের হার ২ শতাংশের নিচে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে দুই হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৯৩৬ কোটি টাকা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১৮৫ কোটি টাকা। তবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন সংস্থার কোনো অর্থই ব্যয় হয়নি।
এ ছাড়া পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নামমাত্র অর্থ ব্যয় করেছে। এগুলো হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আইএমইডি এবং মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।
চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৭ কোটি টাকা। ফলে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৩.৮৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫.০৯ শতাংশ।
এর আগের অর্থবছরগুলোতেও প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার চলতি অর্থবছরের তুলনায় বেশি ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ হার ছিল ৪.৭৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭.৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮.৫৫ শতাংশ।
একক মাস হিসেবেও সেপ্টেম্বরে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমেছে। এ মাসে বাস্তবায়নের হার ছিল ২.৪ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২.৭০ শতাংশ।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছয় হাজার ১৪ কোটি টাকার বিপরীতে প্রথম তিন মাসে ব্যয় হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের পাঁচ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে ব্যয় হয়েছে ১০২ কোটি টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুটি বিভাগেরই এডিপি বাস্তবায়নের হার ২ শতাংশের নিচে।
এদিকে প্রথম তিন মাসে সরকারি তহবিল থেকে আট হাজার ৫৮ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ থেকে তিন হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এতে সরকারি তহবিলের বরাদ্দের ৪.২৪ শতাংশ এবং বিদেশি ঋণের ৩.১৩ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।










Disqus comments are not configured yet.