হুতি হামলার শঙ্কা, মার্কিন কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ
ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাঁদের সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত যোগ্য পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। হামলার ফলে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটেছে।
হুতি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাঁদের বাহিনী সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো, তেল শোধনাগারসহ বেশ কয়েকটি বিমান চলাচল ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার প্রেক্ষাপটেই মার্কিন কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতি বাহিনীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি বিন সালেহ আল-মালিকি বলেন, হুতি বাহিনীর রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে চলা সংঘাত পুরো অঞ্চলে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়তে বলা হয়েছে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে উচ্চপর্যায়ের অনুমতি ছাড়া মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের দেশের অভ্যন্তরে বিমানপথে যাতায়াতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তাৎক্ষণিক সংঘাতপূর্ণ এলাকার বাইরেও পৌঁছাতে পারে। সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দেশটিতে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মীদের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের আগে মিশনপ্রধানের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। সতর্কবার্তায় বলা হয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২৫ অক্টোবর থেকে আংশিকভাবে চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ ও সৌদি জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালিত কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলবে। কিং খালিদ বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত কিছু ফ্লাইট কাসিমের প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে এসব বিমানবন্দরে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে কিংবা বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন দূতাবাস।
সৌদি আরবে বসবাসরত বা দেশটির মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে সম্ভাব্য হামলা, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল ও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে।










Disqus comments are not configured yet.