সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয়, প্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপরও জোর দেন তিনি।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও কর আদায়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়। রাজস্ব খাতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এসব সুযোগ-সুবিধার ব্যয় জনগণের করের অর্থ থেকে আসে বলে উল্লেখ করে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এর মধ্যে কর আদায় ও করদাতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণাও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে সরকার।

করদাতাদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং তাঁদের সহযোগিতা করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কর আদায়ের ক্ষেত্রে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে করদাতাদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি হয়। বরং মানুষকে কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে এবং কর প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সেবা ও জনকল্যাণে কীভাবে অবদান রাখা যায়, তা বোঝাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করের অর্থের মাধ্যমে জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসুবিধা ও বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এনবিআরের কর্মকর্তাদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যৌথভাবে ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর আয়োজন করে। এতে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন মেটাতে রাজস্ব সংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ

২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। তবে অর্থনীতির মোট আকার, ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) ও প্রবৃদ্ধির গতির দিক থেকে ভারত এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাসে দুই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতার চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও অর্থনীতির সামগ্রিক সক্ষমতা ও মানুষের প্রকৃত জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে এখনো পার্থক্য রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড়। ২০২৬ সালে ভারতের মোট জিডিপি ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জিডিপি হতে পারে ৫০৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ ডলার। একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালেও মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পরবর্তী সময়ে ভারত আবারও এগিয়ে যায়।

গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ অগ্রগতিতে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং শ্রমবাজারে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসায় বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছে।

মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেও ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপির হিসাবে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। এ পদ্ধতিতে দুই দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্থানীয় মূল্যস্তরের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে মাথাপিছু জিডিপির তুলনায় পিপিপির হিসাব মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা সম্পর্কে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পিপিপির ভিত্তিতে ২০২৬ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার।

অর্থাৎ, মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও অর্থনীতির সামগ্রিক আকার ও ক্রয়ক্ষমতার সমতার হিসাবে ভারত এগিয়ে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

আগামী জুলাইয়ে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
আগামী জুলাইয়ে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য

রাজধানীর গণপরিবহনে নতুন সংযোগ যুক্ত হতে যাচ্ছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলকারী মেট্রোরেল এবার সম্প্রসারিত হয়ে পৌঁছাবে কমলাপুর রেলস্টেশনে। এতে মেট্রোরেল থেকে নেমে অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনে কমলাপুর যাওয়ার বাড়তি ঝামেলা কমবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য তৈরি হবে সহজ যোগাযোগের সুযোগ।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের সম্প্রসারিত অংশের নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জুলাইয়ের শুরুতে এ অংশে যাত্রী নিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হতে পারে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-৬-এর এই সম্প্রসারণ রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সরাসরি মেট্রোরেল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

বর্তমানে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার বা অন্য স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে মতিঝিল পর্যন্ত এসে কমলাপুর যেতে যাত্রীদের আলাদা যানবাহন ব্যবহার করতে হয়। এতে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়, সময়ও ব্যয় হয়। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে এই বাড়তি যাতায়াতের প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

রাজধানীর মেট্রোরেলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। শুধু মতিঝিল স্টেশন দিয়েই প্রতিদিন প্রায় এক লাখ যাত্রীর যাতায়াত রয়েছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে রেলস্টেশনগামী যাত্রীদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মেট্রোরেলে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশ চালু হলে এ সংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রকল্পের প্রাক্কলনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশের উড়ালপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। কমলাপুর মেট্রোস্টেশনের মূল কাঠামোর কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখন রেললাইন বসানো, বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন এবং স্টেশনের বিভিন্ন কারিগরি ও আনুষঙ্গিক কাজ চলছে।

এ অংশে রেললাইন বসানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের তার, সংকেতব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্র, লিফট, চলন্ত সিঁড়ি এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে। স্টেশনের ভেতরে টাইলস, শৌচাগার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কাজও শেষ করা প্রয়োজন।

কিছু যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনার বিষয়টিও সময়সূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব সরঞ্জাম স্থাপন ও পরীক্ষা সম্পন্ন না হলে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন শুরু করা কঠিন হবে। এ কারণে নির্মাণকাজের অগ্রগতির পাশাপাশি কারিগরি প্রস্তুতির গতিও চালুর সময় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। আগের পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের জুনে এ অংশ চালুর লক্ষ্য ছিল। পরে বিভিন্ন কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে।

এই সম্প্রসারণে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার নতুন উড়ালপথ যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬-এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। পুরো পথে স্টেশন থাকবে ১৭টি।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করে জুলাইয়ের শুরুতে যাত্রী পরিবহনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বাকি কারিগরি কাজ, যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং পরীক্ষামূলক চলাচলের ফলাফলের ওপর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে।

কমলাপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগকেন্দ্র। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বেড়েছে। ফলে কমলাপুরে যাত্রীদের যাতায়াতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মেট্রোরেলের সঙ্গে কমলাপুর রেলস্টেশনের সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে রেলযাত্রীদের একটি অংশ সড়কপথের পরিবর্তে দ্রুতগতির গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারবেন। এতে স্টেশনমুখী সড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রেলস্টেশনে পৌঁছানোর সময় ও খরচও কমতে পারে।

ঢাকার যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্প নেওয়া হয়। উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর যাত্রী পরিবহন শুরু হয়।

এবার কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে মেট্রোরেল ও জাতীয় রেল যোগাযোগের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে চালু করতে হলে নির্মাণের অবশিষ্ট কাজ, কারিগরি পরীক্ষা এবং স্টেশনের যাত্রীসেবার প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

জাপানে পোশাক রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
জাপানে পোশাক রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে ওঠানামার মধ্যে থাকা এই বাজারে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের হিস্যা বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাপানও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার। মোট রপ্তানিতে জাপানের অংশ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে।

এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য নতুন বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। তবে জাপানে রপ্তানির হিস্যা বাড়লেও এ অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।

জাপানের পোশাক বাজারের আকার বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করে। পরবর্তী এক বছরে আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নেমে আসে।

এরপর বাজারটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ২০২৪-২৫ সময়ে জাপানের পোশাক আমদানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ সময়ে তা আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে। চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে দেশটি ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে।

আমদানির এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও জাপানের বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রপ্তানি বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটির আমদানি বাড়লেই বাংলাদেশ সমান হারে লাভবান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং জাপানি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

জাপানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সাম্প্রতিক ইতিহাসে উত্থান-পতন স্পষ্ট। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটিতে ১১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।

পরের অর্থবছরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে পোশাক রপ্তানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে রপ্তানি দাঁড়ায় ১১৩ কোটি ডলারে।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিও আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে নেমে আসে। এর ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে।

অর্থাৎ, জাপানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও বাজারটিতে দেশের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়নি। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানির হিস্যা বৃদ্ধির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা ধরে রাখতে হলে পরবর্তী মাসগুলোতেও রপ্তানির গতি বজায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে তা কাজে লাগানোর চ্যালেঞ্জ। বড় আমদানি বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে হলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির দিকে নজর দিতে হবে।

পাশাপাশি এক বা দুই প্রান্তিকের ভালো ফলের পরিবর্তে দীর্ঘ সময়ের রপ্তানি প্রবণতা মূল্যায়ন করাও জরুরি। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মোট পরিমাণের পাশাপাশি জাপানের বাজারে দেশের হিস্যা কতটা বাড়ছে, তা বিবেচনায় নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, জাপানের পোশাক আমদানি বাজারে পুনরুদ্ধারের প্রবণতা এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি হিস্যা বৃদ্ধির তথ্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তব অগ্রগতিতে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি কতটা ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো যায় তার ওপর। জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সাময়িক প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।