নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসায় ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশংসা করে বলেছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভালো কাজ করেছেন। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ মন্তব্য নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর সমর্থনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তবে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু তাঁর সমর্থন চেয়েছেন বলে যে ধারণা রয়েছে, তা নাকচ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের সমর্থন সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুব ভালো কাজ করেছেন।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫৩ জন নাগরিক।
ভোটারদের জন্য সারা দেশে ১২ হাজার ১৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সহজে প্রবেশ করা যায় এমন কেন্দ্র রয়েছে ৬ হাজার ২০৯টি। বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন ভোটারদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৬২১টি।
পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা ও আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং দক্ষিণ সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বক্তব্য হলো, ইরানের হুমকি মোকাবিলায় তাঁর নেতৃত্বই সবচেয়ে কার্যকর।
নির্বাচনী প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনও নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে তাঁর নিজের দল লিকুদ পার্টি। এ ছাড়া জোটে রয়েছে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের বসতি স্থাপনপন্থী দল রিলিজিয়াস জায়োনিজম এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী দল জুইশ পাওয়ার।
ইসরায়েলের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর এরিয়েল আভারবুখের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে যোগদান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা।
এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আভারবুখ বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের নাগরিকদের কাছে নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে যোগদান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি। এ কারণে অনেক নাগরিক দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সবার আগে রয়েছে ইসরায়েলের মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি। দ্বিতীয়ত, অনেকেই অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে যোগদান নিয়ে আলোচনা করছেন। তৃতীয়ত, এরপর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও অনেকের উদ্বেগ রয়েছে।’
আভারবুখের ধারণা, এসব বিষয় নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষ প্রায় সমান ভোট পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।







Disqus comments are not configured yet.