বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মামলায় দোষী সাব্যস্ত মার্কিন নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মামলায় দোষী সাব্যস্ত মার্কিন নারী

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কাছ থেকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া হালিমা সালমান। কিশোরী বয়সে বাবার সঙ্গে সিরিয়ায় যাওয়ার পর আইএসের এক যোদ্ধার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে হালিমার আইনজীবীদের দাবি, সে সময় তিনি গৃহযুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন এবং স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত হালিমাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বিচার চলাকালে তাঁর হাতে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থাকার ভিডিও এবং আইএসের পতাকার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া স্বামীর কাছে পাঠানো তাঁর কিছু খুদে বার্তাও প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়।

ব্রুকলিনের মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য হালিমাকে দায়ী করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তিনি আইএসের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিলেন এবং স্বেচ্ছায় সংগঠনটির কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

তবে হালিমার আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, কিশোরী বয়সে বাবার সঙ্গে সিরিয়ায় যাওয়ার পর তিনি গৃহযুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়েন। পরে চরমপন্থী স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থাকতে বাধ্য হন। তাঁদের দাবি, স্বামীর নির্দেশ মেনে চলা ছাড়া তাঁর সামনে তেমন কোনো পথ ছিল না।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া হালিমার বয়স যখন ১৭ বছর, তখন ২০১৭ সালে তাঁর বাবা পুরো পরিবারকে নিয়ে সিরিয়ায় যান। হালিমার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ভেবেছিলেন, তাঁরা তুরস্কে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের বহনকারী ভ্যানটি সিরিয়ায় ঢুকে পড়লে মুখোশধারী কয়েকজন বন্দুকধারী তাঁদের ঘিরে ধরে।

আদালতে হালিমা বলেন, সে সময় তিনি ভীত ছিলেন এবং কী ঘটছে, তা বুঝতে পারছিলেন না। তাঁর বাবা তাঁদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, সে সম্পর্কেও তাঁর ধারণা ছিল না। সিরিয়ায় পৌঁছানোর পর পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আগে প্রায় তিন মাস আইএস পরিচালিত একটি আবাসনকেন্দ্রে ছিলেন বলে জানান তিনি। বিমান হামলায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের দুবার বাসা পরিবর্তন করতে হয়।

হালিমার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা তাঁকে আইএসের এক যোদ্ধার সঙ্গে বিয়ে দেন। ১৮ বছর বয়সে জোর করে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেননি। বিয়ের পরও একাধিকবার বিবাহবিচ্ছেদের চেষ্টা করেছিলেন বলে আদালতে জানান তিনি।

বিয়ের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হালিমা বলেন, তাঁর স্বামী তাঁকে ঘুম থেকে তুলে স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা বলেছিলেন। দাম্পত্য জীবনের বেশির ভাগ সময় তাঁকে স্বামী ও শাশুড়ির জন্য ঘরের কাজ করতে হতো বলে জানান তিনি।

২০১৮ সালে বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর তাঁর বাবা মারা যান। হালিমার ভাষ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য জীবনের শেষ বছরটি ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। প্রায়ই বোমা হামলা হতো এবং কখনো কখনো তাঁদের রাস্তায় রাত কাটাতে হতো। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, চারদিকে শুধু মৃতদেহ দেখতে পেতেন।

মামলায় প্রসিকিউশন দাবি করে, হালিমার স্বামী তাঁর হাতে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থাকার ভিডিও ধারণ করেছিলেন এবং তাঁকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তবে হালিমা সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, স্বামীর অনুরোধেই তিনি রাইফেলটি হাতে নিয়েছিলেন।

জেরার সময় তাঁর কাছে স্বামীকে ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে একটি ধর্মীয় গান পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া স্বামীর কাছে পাঠানো দুটি স্নেহপূর্ণ খুদে বার্তা দেখিয়ে তাঁর দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবীরা।

অন্যদিকে, হালিমার আইনজীবীরা দাবি করেন, স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে তিনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। তাঁদের মতে, সিরিয়ায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে হালিমার বক্তব্যের পাশাপাশি সে সময়ের পরিস্থিতি ও তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

২০১৯ সালে সিরিয়ার বাঘুজ এলাকায় আইএসবিরোধী বাহিনীর হাতে আটক হন হালিমা। ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে ফিরে এলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

রায় ঘোষণার পর হালিমা, তাঁর মা ও আইনজীবীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে আদালতের ভেতরে রেলিংয়ের দুই পাশ থেকে হালিমা ও তাঁর মা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।

হালিমার আইনজীবীরা রায় বাতিল করে তাঁকে খালাস দেওয়ার আবেদন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে, উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব না হলে বিচারক রায় বাতিল করে খালাস দিতে পারেন। তবে এ ধরনের আবেদন খুব কম ক্ষেত্রেই মঞ্জুর হয়।

এই অপরাধে হালিমার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার আইএসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০১৪ সালে গোষ্ঠীটি ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিজেদের খিলাফত ঘোষণা করেছিল। পরে ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডের পতন ঘটলেও গোষ্ঠীটির সদস্যরা এখনো বিভিন্ন এলাকায় গোপনে সক্রিয় রয়েছে।

আর্সেনালকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল ফ্লিটউড

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
আর্সেনালকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল ফ্লিটউড

ইংলিশ লিগ কাপে বড় অঘটনের শিকার হয়েছে আর্সেনাল। ইংল্যান্ডের চতুর্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড টাউনের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় ফ্লিটউড।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের ফ্লিটউডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালের হয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারায়েস। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন ফ্লিটউডের গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। এরপর কোনর হগি জয়সূচক পেনাল্টিতে গোল করলে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্বাগতিক সমর্থকেরা।

ম্যাচের ২১ মিনিটে অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায় ফ্লিটউড। বিরতির পর ৫০ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেস গোল করে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান। এরপর নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে আর কোনো দল গোল করতে পারেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে ৮৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় হ্যারিসন নিলকে লাথি মারার ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার ম্যাক্স ডাওম্যান। ফলে ম্যাচের শেষ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্সেনালকে।

রবিবার লিভারপুলের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিয়মিত একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। এভারটনের বিপক্ষে আগের ম্যাচের একাদশ থেকে নয়জনকে বদলে মাঠে নামান তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হলো লিগ কাপ থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে।

চতুর্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড লিগ টুতে ১৮তম স্থানে থাকলেও শক্তিশালী আর্সেনালের বিপক্ষে শুরু থেকেই লড়াই করেছে। গোলরক্ষক জে লিঞ্চের দৃঢ়তা এবং টাইব্রেকারে খেলোয়াড়দের সাফল্যে স্মরণীয় জয় পায় দলটি। জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফ্লিটউডের কোচ ম্যাট ললর। মাঠে নেমে উল্লাসে যোগ দেন সমর্থকেরাও।

এই হার আর্সেনালের জন্য বড় ধাক্কা। এর আগে শনিবার এভারটনকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সমান পয়েন্টে পৌঁছেছিল দলটি। কিন্তু লিগ কাপে অপেক্ষাকৃত নিচের বিভাগের দলের কাছে হেরে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামতে হবে আর্তেতার শিষ্যদের।

খাদ্যে পুষ্টি নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা চান প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
খাদ্যে পুষ্টি নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা চান প্রতিমন্ত্রী

খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ করে চাল ও আটা-ময়দায় পুষ্টি উপাদান যুক্ত করা বা ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করতে কার্যকর বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে ফর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (এফএবি) আয়োজিত ‘কনভেনিং পার্টনারশিপ অন ফুড ফর্টিফিকেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

খাদ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মীর শাহে আলম বলেন, জনগণের কাছে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পৌঁছে দিতে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা জরুরি। লবণ ও ভোজ্যতেলে আয়োডিন ও ভিটামিন যুক্ত করার উদ্যোগ সফল হলেও চাল ও আটার ক্ষেত্রে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

দেশে বছরে প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয় এবং চাহিদা রয়েছে ৩ কোটি ২৫ থেকে ৩ কোটি ২৬ লাখ মেট্রিক টন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চালের উৎপাদন ও মজুত পর্যাপ্ত থাকায় সঠিক পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী রূপরেখার মাধ্যমে চালের ফর্টিফিকেশন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশু সদন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেশনসহ সরকারি বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে সরবরাহ করা চাল ও আটায় পর্যায়ক্রমে ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কাজের পরিধি নির্ধারণ এবং পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার আহ্বানও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সুস্থ প্রজন্ম গড়তে হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
সুস্থ প্রজন্ম গড়তে হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি: প্রতিমন্ত্রী

নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এসব অভ্যাস নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। ফাস্টফুড খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত।

ঢাকা শহরের নাগরিক সেবা ও পানির সরবরাহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি এবং ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত। সুস্থ থাকতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায়ও সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালায় আহমাদযাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ওআইসি) ড. রাজেস নারওয়াল এবং ইউনিসেফের চিফ অব ওয়াশ পিটার মায়েস।

বক্তারা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথ পাঠ করানো হয়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয়।