পাঠ্যবই ছাপায় অগ্রগতি ৫৮ শতাংশ, পিছিয়ে মাধ্যমিক
শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যবই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে মুদ্রণকাজে অগ্রগতি থাকলেও অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপায় পিছিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছাপাখানা।
এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে বই ছাপার অগ্রগতি ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে গড়ে ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বই ছাপা হয়েছে।
এবার ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ৬২৩টি লটে বই ছাপার কাজ পেয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি এবং মাধ্যমিক স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার এক মাস আগে মুদ্রণকাজ শুরু হয়েছে।
এনসিটিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপা হয়েছে। এ স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ।
প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি। এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি। এ স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি। এ স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার গতি তুলনামূলক কম। কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি ছাপাখানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা ছাপাখানার কাজ বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে।
বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। নিম্নমানের বই ও ফর্মা বাতিল করা হচ্ছে। এনসিটিবির তথ্যমতে, বিভিন্ন ছাপাখানার ৯ লাখ ফর্মা ও ১২ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী বই সরবরাহের কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মুদ্রণকাজ চলতি মাসের মধ্যে ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













Disqus comments are not configured yet.