বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সীমান্তে নিরাপত্তার পাশাপাশি নির্বিঘ্ন বাণিজ্য নিশ্চিতের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সীমান্তে নিরাপত্তার পাশাপাশি নির্বিঘ্ন বাণিজ্য নিশ্চিতের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ লক্ষ্যে সরকার জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১ বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল প্রয়োগ, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মানবাধিকার ও মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

মানব পাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরও প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা চান।

আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা দিতে আইওএম আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যে অনিয়ম, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যে অনিয়ম, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন করে নামী-দামি বিভিন্ন কোম্পানির নামে বাজারজাত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের অপরাধে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলার নিয়ামতপুর বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত বাজার তদারকিমূলক অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নকল ভূষি উৎপাদন করে নামী-দামি বিভিন্ন কোম্পানির নামে বাজারজাত করার অপরাধে মেসার্স ইভা এন্ড স্নিগ্ধা এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধে তাইয়্যেবা সুইটসকে ২০ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের অপরাধে মেসার্স সাফায়াত এন্টারপ্রাইজকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার তানজীনা বেবী এবং জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাজার তদারকির পাশাপাশি জনস্বার্থে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকা এবং দোকানের দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করা হয়েছে।

ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং বাজারে অনিয়ম ও প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জে বাসে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজাসহ পাবনার যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে বাসে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজাসহ পাবনার যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় তাঁর কাছ থেকে মাদক বিক্রির ১ হাজার ৯৩০ টাকা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন আঞ্চলিক মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান চালায় এসআরবি-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল। গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন পাবনা জেলার বাসিন্দা।

এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চেকপোস্টে তল্লাশির সময় সিলেট থেকে ময়মনসিংহগামী ‘বিশাল পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থামানো হয়। বাসটির পেছনের আসনে বসা এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ট্রাভেলিং ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকারী দলের দাবি, উদ্ধার করা গাঁজার পাশাপাশি সাদ্দাম হোসেনের কাছ থেকে মাদক বিক্রির ১ হাজার ৯৩০ টাকা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

এসআরবির ভাষ্য, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

সারাদেশে মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদক চোরাকারবারিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ফুলেল শুভেচ্ছা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কটিয়াদী সরকারি কলেজে নবীনবরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
ফুলেল শুভেচ্ছা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কটিয়াদী সরকারি কলেজে নবীনবরণ

‘এসো নবীন, জ্ঞানের পথে, গড়ো জীবন, গড়ো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এ স্লোগানকে ধারণ করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফুলেল শুভেচ্ছা, উষ্ণ অভ্যর্থনা, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন কলেজের শিক্ষক, অতিথি ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

বুধবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখা শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যোগ্য, দক্ষ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

কটিয়াদী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের প্রভাষক মুহাম্মদ সাখাওয়াত হুসেন ও সহকারী অধ্যাপক বদরুন্নেছা বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফুল হক দাদন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাসরিফুল হাসিব এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ও তাইয়্যিবা আক্তার জেসি। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈয়দা সাদিয়া জান্নাত মুনা, নিঝুম দাস বৃষ্টি ও শাহ শোয়েবুল আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তাঁদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদ। এরপর প্রভাষক আশরাফুজ্জামান মানপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, কবিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষাজীবন মানুষের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে একজন শিক্ষার্থী নিজের জীবনকে আলোকিত করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তাই নবীন শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষকে মানবিক, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও সব ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদ নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, কটিয়াদী সরকারি কলেজের নিজস্ব ঐতিহ্য, সুনাম ও শিক্ষার গৌরবোজ্জ্বল পরিবেশ রয়েছে। এ ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা, পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় একজন শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এ পর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান, শৃঙ্খলা, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত হতে হবে।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চার মাধ্যমে কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।