বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননে ৩৫ ড্রেজার কিনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননে ৩৫ ড্রেজার কিনছে সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্য রক্ষা, নৌপরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নির্বিঘ্নে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়াতে ৩৫টি ড্রেজারসহ ১৬১টি জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নদ-নদীর নাব্য উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সরকারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ ‘৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ (১ম সংশোধিত) (বিশেষ সংশোধন)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্য উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নৌরুট ও ফেরি রুট সচল রাখা এবং ফেরি, লঞ্চ ও কার্গো ভেসেলসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। মূল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরবর্তী বিশেষ সংশোধনে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৭ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় বিআইডব্লিউটিএর জন্য বিভিন্ন ধরনের ৩৫টি ড্রেজার ও ১২৬টি সহায়ক জলযান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৬১টি জলযান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির ড্রেজিং বহরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও সহায়ক কার্যক্রম আরো গতিশীল করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা হলো বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং সক্ষমতা ৩২৬ দশমিক ৬৭ লাখ ঘনমিটার বৃদ্ধি করা। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে নৌপথের গভীরতা বজায় রাখা, নৌযান চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো সচল রাখতে এই সক্ষমতা ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। নৌপথ সচল রাখতে নদীর নাব্য রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই সরকার বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, নতুন ড্রেজার ও সহায়ক জলযান যুক্ত হলে দেশের বিভিন্ন নদী ও নৌরুটে খনন কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। এর ফলে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন করার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

ড্রেজার সংগ্রহের অগ্রগতি

প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম ইতিমধ্যে এগিয়েছে। ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের জন্য নির্ধারিত আটটির মধ্যে দুটি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং চারটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাকি দুটির দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের চারটিরই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের ছয়টির মধ্যে চারটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাকি দুটির দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ ছাড়া ১২ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার দুটি, ট্রেইলিং সাকশন হপার ড্রেজার একটি, পন্টুন মাউন্টেড গ্র্যাব ড্রেজার একটি এবং ১০ ইঞ্চি অ্যাম্ফিবিয়ান টাইপ কাটার সাকশন ড্রেজার নয়টি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ড্রেজারের কয়েকটির সংগ্রহ কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে হপার ড্রেজার ও গ্র্যাব ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলছে।

ড্রেজারের পাশাপাশি এগুলো পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ক্রেনবোট, টাগবোট ও অন্যান্য সহায়ক জলযান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩টি ক্রেনবোট ও ১৭টি টাগবোট সংগ্রহ করা হবে। ক্রেনবোটের মধ্যে ২৮, ২৪, ২০, ১৮ ও ১২ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের জলযান রয়েছে।

অন্যদিকে ২৫ টন, ৭ টন ও ১২ টন বোলার্ড পুলের টাগবোট সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১০টি স্পিডবোট, একটি কু-হাউজবোট, ১৫টি পাইল ক্যারিং ডাম্ব বার্জ, একটি হাই স্পিড কেবিন ক্রুজার, একটি কেবিন ক্রুজার, একটি ওয়েল ক্লিনিং ভেসেল, চারটি রিভার ক্লিনিং ওয়ার্কবোট, নয়টি অ্যাম্ফিবিয়ান টাইপ কাটার সাকশন ড্রেজারের হাউজবোট, ১২টি ডং বুম অ্যাডাপ্টারের পন্টুন, ১১টি টার্মিনাল পন্টুন ও একটি সহায়ক পন্টুন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্মাণ হচ্ছে ড্রেজার বেইজ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র

জলযান ও সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার, সিলেট/সুনামগঞ্জ ও পাইকগাছা/জামালপুরে ড্রেজার বেইজ অফিস নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ড্রেজার বেইজের জন্য ডরমিটরি নির্মাণে ৭ কোটি টাকা, প্রস্তাবিত কক্সবাজার ড্রেজার বেইজে অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণে ১৫ কোটি টাকা এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরিচা ড্রেজার বেইজে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে স্লিপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই বেইজে প্রায় ৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের ডরমিটরি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা।

প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ডরমিটরির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া শিমুলিয়া ড্রেজার বেইজে সাময়িকভাবে ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চালু হয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণ ও ড্রেজার-জলযান সংগ্রহের কার্যক্রম তদারকির জন্য পরামর্শক সেবাও নেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার ও জলযান তৈরি এবং মনিটরিংয়ের জন্য একটি পরামর্শক সেবা প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ কার্যক্রমের আওতায় চলমান কাজগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

একই ধরনের পরামর্শক সেবার জন্য আরো তিন কোটি টাকার একটি প্যাকেজ রয়েছে। এ ছাড়া ড্রেজার বেইজের অফিস, স্টোর, ডরমিটরি, অফিসার্স কোয়ার্টার ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা, ড্রইং ও তদারকির জন্য ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার টাকার পরামর্শক সেবা প্যাকেজ রয়েছে। বৈদেশিক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিং কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য আরো ৩০টি সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭টি এক্সকাভেটর, ১২টি ডাম্প ট্রাক ও একটি ট্রেনিং সিমুলেটর। এসব সরঞ্জাম ড্রেজিং-সংশ্লিষ্ট কাজের পাশাপাশি মাটি অপসারণ, পরিবহন ও দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়তা করবে।

ক্রয় কার্যক্রমে ৬১টি প্যাকেজ

প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৬১টি প্যাকেজের মধ্যে ৫১টি পণ্য, ছয়টি কার্য ও চারটি সেবা প্যাকেজ রয়েছে। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ক্রয় পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন, নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) প্রদান ও চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রম চলছে। কয়েকটি প্যাকেজের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিছু প্যাকেজের কাজ চলমান এবং অবশিষ্টগুলোর বিভিন্ন ধাপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংশোধিত ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি কু-হাউজবোট সংগ্রহে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ প্যাকেজের দরপত্র মূল্যায়ন শেষে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া একটি ২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহে ১৪৯ কোটি ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ প্যাকেজের দরপত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।

একই ধরনের তিনটি ২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ২৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ১২৬ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া আরো একটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে একই পরিমাণ অর্থ এবং দুটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার সংগ্রহে ১২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশোধিত ক্রয় পরিকল্পনার এসব প্যাকেজে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৯১ কোটি ২ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, ১০০ শতাংশ সম্পন্ন পণ্য কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য ৯৫৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। অন্যদিকে চলমান কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য ১ হাজার ২৫৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

প্রকল্পের শুরু থেকে ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার টাকা, যা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে ১২ কোটি এবং মূলধন খাতে ২০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। গত অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে ৫৫৫ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থছাড় করা হয়। ওই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৩৫০ কোটি ১৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

নৌপথ সচল রাখতে বাড়বে সক্ষমতা

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নদীপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের বিভিন্ন নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ায় অনেক স্থানে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও নৌপথে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় বেড়ে যায়।

আবার নাব্য সংকটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হলে সড়ক যোগাযোগেও এর প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক ড্রেজার ও সহায়ক জলযানের সংখ্যা বাড়ানো হলে নদী খনন কার্যক্রম আরো পরিকল্পিত ও গতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট, ফেরিঘাট, বন্দর ও নদীবন্দরগুলোর নাব্য রক্ষায় এসব ড্রেজার ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্য পুনরুদ্ধার, নৌপথের গভীরতা বজায় রাখা ও মৌসুমি নাব্য সংকট মোকাবেলায় বাড়তি সক্ষমতা কাজে আসবে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন ও নাব্য সংরক্ষণ সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজের একটি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর আধুনিক ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকল্পের প্রতিটি কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য দেশের প্রায় ১০০টি নদী খননের মাধ্যমে নৌপথের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু ড্রেজার সংগ্রহই নয়, নিয়মিত খনন, খননকৃত মাটি ব্যবস্থাপনা, নদীর প্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের নৌপরিবহন খাত আরো শক্তিশালী হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে সংগৃহীত ড্রেজার ও জলযান যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্য উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্য রক্ষা, নৌযোগাযোগ সচল রাখা এবং পণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্য উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্য সামনে রেখে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আতাউর রহমান খান বলেন, আধুনিক ড্রেজার, সহায়ক জলযান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত হলে নদী খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম আরো কার্যকর হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংগৃহীত ড্রেজার ও সরঞ্জামের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।

করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যে অনিয়ম, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যে অনিয়ম, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন করে নামী-দামি বিভিন্ন কোম্পানির নামে বাজারজাত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের অপরাধে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলার নিয়ামতপুর বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত বাজার তদারকিমূলক অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নকল ভূষি উৎপাদন করে নামী-দামি বিভিন্ন কোম্পানির নামে বাজারজাত করার অপরাধে মেসার্স ইভা এন্ড স্নিগ্ধা এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধে তাইয়্যেবা সুইটসকে ২০ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের অপরাধে মেসার্স সাফায়াত এন্টারপ্রাইজকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার তানজীনা বেবী এবং জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাজার তদারকির পাশাপাশি জনস্বার্থে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকা এবং দোকানের দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করা হয়েছে।

ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং বাজারে অনিয়ম ও প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জে বাসে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজাসহ পাবনার যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে বাসে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজাসহ পাবনার যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় তাঁর কাছ থেকে মাদক বিক্রির ১ হাজার ৯৩০ টাকা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন আঞ্চলিক মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান চালায় এসআরবি-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল। গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন পাবনা জেলার বাসিন্দা।

এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চেকপোস্টে তল্লাশির সময় সিলেট থেকে ময়মনসিংহগামী ‘বিশাল পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থামানো হয়। বাসটির পেছনের আসনে বসা এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ট্রাভেলিং ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকারী দলের দাবি, উদ্ধার করা গাঁজার পাশাপাশি সাদ্দাম হোসেনের কাছ থেকে মাদক বিক্রির ১ হাজার ৯৩০ টাকা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

এসআরবির ভাষ্য, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

সারাদেশে মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদক চোরাকারবারিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ফুলেল শুভেচ্ছা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কটিয়াদী সরকারি কলেজে নবীনবরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
ফুলেল শুভেচ্ছা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কটিয়াদী সরকারি কলেজে নবীনবরণ

‘এসো নবীন, জ্ঞানের পথে, গড়ো জীবন, গড়ো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এ স্লোগানকে ধারণ করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফুলেল শুভেচ্ছা, উষ্ণ অভ্যর্থনা, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন কলেজের শিক্ষক, অতিথি ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

বুধবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখা শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যোগ্য, দক্ষ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

কটিয়াদী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের প্রভাষক মুহাম্মদ সাখাওয়াত হুসেন ও সহকারী অধ্যাপক বদরুন্নেছা বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফুল হক দাদন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাসরিফুল হাসিব এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ও তাইয়্যিবা আক্তার জেসি। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈয়দা সাদিয়া জান্নাত মুনা, নিঝুম দাস বৃষ্টি ও শাহ শোয়েবুল আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তাঁদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদ। এরপর প্রভাষক আশরাফুজ্জামান মানপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, কবিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষাজীবন মানুষের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে একজন শিক্ষার্থী নিজের জীবনকে আলোকিত করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তাই নবীন শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষকে মানবিক, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও সব ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদ নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, কটিয়াদী সরকারি কলেজের নিজস্ব ঐতিহ্য, সুনাম ও শিক্ষার গৌরবোজ্জ্বল পরিবেশ রয়েছে। এ ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা, পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় একজন শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এ পর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান, শৃঙ্খলা, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত হতে হবে।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চার মাধ্যমে কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।