শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ফুলেল শুভেচ্ছা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কটিয়াদী সরকারি কলেজে নবীনবরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফুলেল শুভেচ্ছা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কটিয়াদী সরকারি কলেজে নবীনবরণ

‘এসো নবীন, জ্ঞানের পথে, গড়ো জীবন, গড়ো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এ স্লোগানকে ধারণ করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফুলেল শুভেচ্ছা, উষ্ণ অভ্যর্থনা, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন কলেজের শিক্ষক, অতিথি ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

বুধবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখা শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যোগ্য, দক্ষ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

কটিয়াদী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের প্রভাষক মুহাম্মদ সাখাওয়াত হুসেন ও সহকারী অধ্যাপক বদরুন্নেছা বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফুল হক দাদন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাসরিফুল হাসিব এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ও তাইয়্যিবা আক্তার জেসি। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈয়দা সাদিয়া জান্নাত মুনা, নিঝুম দাস বৃষ্টি ও শাহ শোয়েবুল আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তাঁদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদ। এরপর প্রভাষক আশরাফুজ্জামান মানপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, কবিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষাজীবন মানুষের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে একজন শিক্ষার্থী নিজের জীবনকে আলোকিত করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তাই নবীন শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষকে মানবিক, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও সব ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদ নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, কটিয়াদী সরকারি কলেজের নিজস্ব ঐতিহ্য, সুনাম ও শিক্ষার গৌরবোজ্জ্বল পরিবেশ রয়েছে। এ ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা, পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় একজন শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এ পর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান, শৃঙ্খলা, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত হতে হবে।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চার মাধ্যমে কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের দিন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের দিন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকেও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা সমীচীন নয়। একইভাবে ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের দিন। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বর তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে এবং দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদযাপন উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়।

চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল আহমেদের স্মরণে শোকসভা

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল আহমেদের স্মরণে শোকসভা

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মরহুম জালাল আহমেদের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাদ আসর সদর উপজেলার নান্দলা অছম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বক্তব্যে তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী রাজনীতিক জালাল আহমেদের রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বল, চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী মো. নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম গোলাপ, সদর উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদুল হক রাসেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া মরহুম জালাল আহমেদের ছেলে রাতুল, নান্দলা অছম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাজী অছম উদ্দিনের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শোকসভায় মরহুম জালাল আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

তাড়াইলে এলপিজির তীব্র সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে এলপিজির তীব্র সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাজারগুলোতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি দাম দিতেও মিলছে না সিলিন্ডার। এতে বাসাবাড়ির গ্রাহক, ভাড়াটিয়া পরিবার, খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাড়াইল সদর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে গেছে। গ্যাস কিনতে দোকানে গেলে অনেক বিক্রেতাই সরবরাহ না থাকার কথা জানাচ্ছেন। আবার কিছু দোকানে সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সেগুলো বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। আগে এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নেওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে সেই সুযোগও মিলছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তাড়াইল সদর বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) চাকরিজীবী সুচনা রাণী ঘোষ। তিনি বলেন, ‘তাড়াইল বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। রান্নাবান্নার জন্য এলপিজির বোতল পাচ্ছি না। রান্নার জন্য খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে।’ তাঁর মতো তাড়াইলের অনেক ভাড়াটিয়া ও সাধারণ পরিবার একই সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, গ্যাস কিনতে দোকানে গেলেই বলা হচ্ছে—গ্যাস নেই। আর কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরিজীবী ও ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর ভোগান্তি তুলনামূলক বেশি। কারণ, তাঁদের অনেকেরই লাকড়ির চুলা বা বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা নেই। ফলে গ্যাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। শুধু বাসাবাড়ির গ্রাহকই নন, এলপিজি সংকটে বিপাকে পড়েছেন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, চায়ের দোকানি ও ছোট ব্যবসায়ীরাও। রান্নার কাজে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল সদর বাজারে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক আব্দুল আহাদ বলেন, সরবরাহ বন্ধ থাকায় খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি শুধু তাড়াইলের একটি দোকানের সমস্যা নয়; বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সরবরাহসংকটের প্রতিফলন।

আব্দুল আহাদ আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বসুন্ধরা এলপিজির আমদানি অনেক কমে গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির এলপিজি আমদানি ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১০ হাজার ২৭ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। তাঁর দাবি, এতে আমদানি প্রায় ৯৩ শতাংশ কমেছে।

এদিকে গত ২ নভেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নভেম্বর মাসের জন্য বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করে। নতুন এ দাম ওই দিন রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে তাড়াইলের বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় পর্যায়েও এলপিজি সরবরাহ ও আমদানি নিয়ে সংকটের খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
তাড়াইলের ভোক্তারা বলছেন, শুধু সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করলেই হবে না, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করাও জরুরি। তাঁদের দাবি, দ্রুত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে অতিরিক্ত দাম আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।