প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তিন বছরে কেউ পাস না করা কলেজের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে টানা তিন বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ না হওয়ায় আলোচনায় আসা আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
আবুল কাসেম উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি তিনি ছয়সূতী জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা গেছে, কুলিয়ারচর বাজারের টিন ব্যবসায়ী মো. মুক্তার মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর ৮৮(৪)/২০২৬।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১২ সালে আবুল কাসেম বাদী মো. মুক্তার মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। এ সময় লিখিত স্ট্যাম্পে দেনা স্বীকার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ওই টাকা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি মুক্তার মিয়া। একপর্যায়ে আবুল কাসেমের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি লিখিত স্ট্যাম্পে টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পাওনা টাকা আদায়ে আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মোবারক হোসেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, এর আগে আবুল কাসেম প্রতিষ্ঠিত কলেজটির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। টানা তিন বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২০২৪ সালে দুজন, ২০২৫ সালে ছয়জন এবং ২০২৬ সালে সাতজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তিন বছরে মোট ১৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়।
এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার।
একদিকে নিজের প্রতিষ্ঠিত কলেজে টানা তিন বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা- দুই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আবুল কাসেম।
এ বিষয়ে আবুল কাসেমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।










Disqus comments are not configured yet.