মূল ঘটনা আড়াল, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মেজর আখতারের মিথ্যা মামলার অভিযোগ
শারীরিক প্রতিবন্ধী কলেজছাত্রকে মারধর এবং সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলে শাহরিয়ার জামানের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে নিরপরাধ নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও তাঁর ছেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের সহশ্রাম ছাইমুন্নেছা ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ধূলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে অবিলম্বে মামলা থেকে নির্দোষ নেতাকর্মীদের অব্যাহতির দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, গত ৪ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে গচিহাটা বাজারে গচিহাটা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন জয়কে মারধরের ঘটনা ঘটে। মাদক সেবনের সন্দেহে শাহরিয়ার জামান রানা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। মারধরের শিকার হয়ে জয় বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তাঁর চাচা মো. তাজুল শাহকে জানান। পরে ভাতিজাকে মারধরের কারণ জানতে এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তাজুল শাহ গচিহাটা বাজারে যান। সেখানে শাহরিয়ার জামান রানার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাজুল শাহের ছুরিকাঘাতে শাহরিয়ার জামান আহত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আগেই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর নাম জড়িয়ে মামলা করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আফতাব উদ্দিন জয়কে মারধরের অভিযোগ এবং শাহরিয়ার জামানের ওপর হামলার ঘটনা- দুটিরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মামলায় অন্তর্ভুক্ত নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম প্রত্যাহার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আফতাব উদ্দিন জয়ের বড় বোন আফিমা বেগম বলেন, “আমার ছোট ভাই দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। আখতারুজ্জামান স্যারের ছেলে শাহরিয়ার জামান রানা অন্যায়ভাবে চড় মেরে তাকে আহত করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”
এ সময় বক্তব্য দেন সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, সহসভাপতি ও কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মো. আশরাফ উদ্দিন, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আজাদ রহমান মিশর, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আহসান উদ্দিন দয়াল, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম মোজাম্মেল হক ইমন এবং সাবেক ইউপি সদস্য আলী হোসেন শাহ।
এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আফিমা বেগম, শাহিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতা মো. আজাদ রহমান মিশর শাহরিয়ার জামানের ওপর হামলার ঘটনারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা উচিত নয়। তাঁরা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।







Disqus comments are not configured yet.