যুব উন্নয়ন ও সমাজসেবায় অবদান, কিশোরগঞ্জে চতুর্থবার শ্রেষ্ঠ সংগঠক সাদী
জাতীয় যুব দিবস–২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে চতুর্থবারের মতো সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদী। যুব উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখায় জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ডিজিটাল কনটেন্ট প্রতিযোগিতায় জেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি।
শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলরুমে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপনী দিনে ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে আমিনুল হক সাদীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জাতীয় যুব পুরস্কার জেলা বাছাই কমিটির সভাপতি ও অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও লেখক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম শামীম, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর প্রজিৎ কুমার ধর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আলাউদ্দিন, সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব আলম এবং সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামাল হোসেন প্রমুখ।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে তিন মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘যুব উন্নয়ন পরিষদ’ নামে একটি যুবকল্যাণমূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন আমিনুল হক সাদী। সংগঠনটির মাধ্যমে জেলায় যুবসমাজকে সংগঠিত করা, বেকার যুবক ও নারীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন তিনি।
বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটিতে পাঁচ শতাধিক সদস্যের একটি দল যুবকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। সংগঠনটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার বেকার যুবক ও যুব নারীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন শতাধিক যুবককে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘যুব উন্নয়ন পরিষদ’ স্থানীয় পর্যায়ে যুব উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটি বেকার যুবক ও যুব নারীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। যুব নেতৃত্ব বিকাশে সংগঠনটির উদ্যোগে যুব প্রশিক্ষণ, শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
শিশু-কিশোর, যুবক ও বয়স্কদের অবসর সময়কে জ্ঞানচর্চায় কাজে লাগানোর পাশাপাশি পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সংগঠনটির রয়েছে পাঁচ হাজার বইসমৃদ্ধ একটি আধুনিক পাঠাগার। স্থানীয় পর্যায়ে যুবকল্যাণ, শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমেও সংগঠনটি অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করে আসছে।
যুবকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এর আগে তিনবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন আমিনুল হক সাদী। এবার চতুর্থবারের মতো একই স্বীকৃতি ও সম্মাননা স্মারক পাওয়ায় তাঁর এ অর্জনকে যুব উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।







Disqus comments are not configured yet.